গ্রীষ্মের গরমে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে কোরবানির জন্য সেরা পশু কেনাটা চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু কিনলেই কাজ শেষ হয় না। সেই পশু কোরবানির আগ পর্যন্ত লালন-পালন করতে গিয়েও বেশ ব্যস্ত থাকতে হয়। ঈদের ছুটিতে ঘোরাঘুরির ব্যাপার তো আছেই। এর ফাঁকে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে পুরুষদের অনেকেই মেতে ওঠেন খেলাধুলায়। নারীদের গরমকে পাশ কাটিয়ে চুলার পাশে রান্নাবান্নায় ব্যস্ত থাকতে হয়। সব মিলিয়ে কোরবানির ঈদ ব্যস্ততার একটা সময়। কখন যে ছুটি শেষ হয়ে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। বাসায় ফিরে আয়নায় তাকিয়ে চেহারার হাল দেখে চমকে ওঠেন অনেকেই। এই হাল নিয়ে অফিসে বা বাইরে বেরোতে খানিকটা লজ্জাও পান অনেকে। ত্বক ও চুলের সতেজতা ফেরাতে ছুটি শেষে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। অল্প দিনের মধ্যেই ফিরবে আবার আগের অবস্থা।

ত্বক
হাত-পায়ে পাতলা করে কাটা লাউয়ের টুকরা ঘষতে পারেন। লাউয়ের বেশির ভাগটাই পানি। লাউ ঘষলে জ্বালা ভাব কমবে। ব্যবহার করতে পারেন অ্যালোভেরা জেলও। সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শুধু ত্বকের নয়, চোখেরও ক্ষতি করে। চোখের চারপাশের ত্বক এমনিতেই বেশি স্পর্শকাতর। ফলে গরমের দিনে ইউভি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দিতে পারে এমন রোদচশমা বেছে নিন। গরমে রোদে ঘামে অনেকের ত্বকের লোপকূপগুলোর মুখ বড় হয়ে যায়। ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হয়। ত্বকের উন্মুক্ত রন্ধ্রগুলো সংকুচিত করতে দরকার টোনার। বাসায় নিয়ম করে ক্লিনজিং যতটা জরুরি, ঠিক ততটাই দরকারি টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিং।
এ সময় ত্বকে সতেজতা আনতে দিনে দুইবার গোসল করুন। ঘাম জমলে দ্রুত মুছে ফেলুন। উত্সবের দিনগুলোতে সাধারণত নতুন ও কাজ করা পোশাকই বেশি পরা হয়। এতে ত্বক শ্বাস নিতে পারে না। বাসায় ফিরে পাতলা পোশাক পরা শুরু করুন, যাতে হাওয়া খেলতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। পানির অভাব হলে যেমন শরীর খারাপ হয়, তেমনি ত্বকও নির্জীব দেখায়। ভাজাভুজিসহ ভারী খাবার তো বেশ খেলেন এই কয়েক দিন, এবার এসব এড়িয়ে টাটকা হালকা খাবার খান।
উত্সবে রান্নাবান্না, থালা-বাসন ধোয়া, কাপড় ধোয়ার কাজ বেড়ে যায়। এতে হাতের ত্বকের ক্ষতি হয়। হাতের ত্বকের কোমলতা ফেরাতে ত্বক আর্দ্র থাকতেই নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগান। যতবার হাতে সাবান পানি লাগবেন, ততবারই এটা করবেন। লোশনের চেয়ে ক্রিম বা ওয়েন্টমেন্টজাতীয় ময়েশ্চারাইজার এ জন্য বেশি ভালো। পেট্রোলিয়াম জেলি, গ্লিসারিন, খনিজ তেল, সিরামাইড ইত্যাদি উপকরণ সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজারও উপকারী। রাতে সব কাজ শেষে ঘুমানোর সময় পুরু ময়েশ্চারাইজার, যেমন—পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে ঘুমাতে যান। নখের জন্য পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর ও ম্যানিকিউর করে নিতে পারেন।
সূর্যকিরণ এড়িয়ে চলুন। ছায়াময় স্থানে থাকার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন। উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। বাইরে বের হওয়ার ২০-৩০ মিনিট আগে শরীরের উন্মুক্ত স্থানে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
ত্বকের ওপরে জমা পাতলা ময়লার আবরণ সরিয়ে সতেজতা ফেরাতে এক্সফোলিয়েশন জরুরি। ঘরে বসেই এটা করতে পারেন। চাইলে পার্লার থেকেও করাতে পারেন। প্রথমে মুখ ধুয়ে নিন। অল্প পরিমাণ ফেস স্ক্রাব মুখে হালকা করে বৃত্তাকারে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড ম্যাসাজ করুন। তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক থেকে দুইবার স্ক্রাবিং করতে পারেন। এই নিয়ম অনুসরণ করে কয়েক দিনের মধ্যেই আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারবেন আপনার ত্বক।
চুল
শুধু মুখে সানস্ক্রিন মাখলেই হবে না, একই যত্ন দরকার চুলেরও! বাইরে পা দেওয়ার আগে চুলে সানস্ক্রিন লাগিয়ে ম্যাসাজ করে নিন। গরমে খোলা চুল মানেই প্রচণ্ড অস্বস্তি। তাই চুলটা এ সময় হালকা করে বেঁধে রাখাই ভালো। এই গরমের সময় চুলটা আঁটসাঁট করে না বেঁধে পাঞ্চ ক্লিপে হালকা করে আটকে নিন। চুলের হারানো সতেজতা ফেরাতে নারিশিং শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। নারকেল, শিয়া বাটার, আর্গান অয়েল বেইসড শ্যাম্পু চুলের জন্য ভালো। চুলে সরাসরি শ্যাম্পু লাগাবেন না। স্কাল্পে ঘষে ফেনা করে সেই ফেনা চুলে লাগিয়ে ধুয়ে নিন। চুল রুক্ষ হবে না। প্রতিবার শ্যাম্পু শেষে কন্ডিশনার অবশ্যই লাগাবেন। চুল ডিপ কন্ডিশনিং করতে কন্ডিশনারের বদলে হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। ঘরোয়া হেয়ার প্যাকও ব্যবহার করতে পারেন। ডিম, দই আর মধু দিয়ে তৈরি হেয়ার প্যাক বিবর্ণ চুলের জন্য উপকারী।
গরম আর ঘাম চুল চটচটে করে দেয়। এ জন্য হাতের কাছে রাখুন হাইড্রেটিং হেয়ার মিস্ট। রুক্ষতার হাত থেকে চুলকে রক্ষা করবে এই মিস্ট। অ্যালোভেরা জেলে পানি মিশিয়ে ঘরোয়া হেয়ার মিস্ট বানিয়ে নিতে পারেন। সপ্তাহে তিন-চার দিন রাতে ন্যাচার কেয়ার হেয়ার অয়েল চুলে লাগান। এটি চুলের ডিপ কন্ডিশনিংয়ের কাজ করবে। চুলে তেল লাগানোর আগে তেলের সঙ্গে একটু লেবুর রস মিশিয়ে নিতে পারেন। এতে চুল খুশকিমুক্ত থাকবে। চুল ময়েশ্চারাইজ করতে মেহেদি ও টক দইয়ের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। টক দই, মেহেদিপাতা, মেথি গুঁড়া ও লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিন। এটি চুলে ৩০ মিনিটের মতো লাগিয়ে শ্যাম্পু করে ফেলুন। টক দই চুলকে ময়েশ্চারাইজ করবে। মেথি গুঁড়া খুশকি দূর করবে আর চুল ঝলমলে করবে লেবুর রস। সপ্তাহে এক দিন ব্যবহার করুন। রোদে পোড়া লালচে চুলের জন্য কলা ও আমলকীর প্যাক উপকারী। চুলে পাকা কলা, আমলকীর রস, মধু ও মেথি গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে চুলে লাগাতে পারেন। এটি একই সঙ্গে চুল নরম করবে এবং রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাবে।
গরমে রোদে বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, হিজাব বা স্কার্ফ ব্যবহার করুন। এতে চুল কড়া রোদ ও অতিরিক্ত ধুলাবালি থেকে রক্ষা পাবে।
এই টিপসগুলো মেনে চললে গরমেও আপনার চুল দেখাবে সুস্থ ও উজ্জ্বল।












