টানা তিন দিনের ভারি বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জলাবদ্ধতায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা, জরুরি বিভাগ, ল্যাব ও প্রশাসনিক কক্ষে হাঁটু সমান পানি জমে চিকিৎসাসেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় জনদুর্ভোগ আরো বেড়েছে। নদী তীরবর্তী কয়েকটি এলাকার রাস্তাঘাট ও বসতবাড়িও পানিতে তলিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের ভেতর-বাইরের আঙিনাসহ নিচতলায় হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। জরুরি বিভাগেও পানি ঢুকে পড়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন রোগী ও তাদের স্বজনদের হাঁটু পানির মধ্য দিয়েই হাসপাতালে যাতায়াত করতে দেখা যায়।
এদিন উচ্চ রক্তচাপ ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হোসনা আরা (৫৮) নামের এক নারীকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পূজা ভূমিক বলেন, রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রেফার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুনুল হক মামুন বলেন, হাসপাতালটি রাস্তার তুলনায় নিচু হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার সমস্যায় ভুগছে। কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে জলাবদ্ধতার মধ্যেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে।
এদিকে টানা বর্ষণে উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, কধুরখীল, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল, চরখিদিরপুর ও চরণদ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাড়ির উঠোন ও গ্রামীণ সড়ক হাঁটু সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা।
পশ্চিম গোমদণ্ডীর চরখিদিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত হোসেন বলেন, চারদিকে শুধু পানি। বাড়ির উঠোন ডুবে গেছে। চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণের পর উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। মোবাইল ফোনে চার্জ দিতে না পারায় জরুরি যোগাযোগেও সমস্যায় পড়েছেন অনেকে।
পৌর সদরের বাসিন্দা মো. আজিজ বলেন, দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ না থাকায় কারো সঙ্গে জরুরি যোগাযোগও করা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ চলে যায়, কিন্তু মাস শেষে পুরো বিলই দিতে হয়।
পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা বলেন, পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। পানি নিষ্কাশনের পথ পরিষ্কার করতে পৌরসভার কর্মীরা কাজ করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আগামীকাল উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসংলগ্ন ড্রেন পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত পানি নেমে গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ কমে।




