ঢাকায় পছন্দমতো বাসা খুঁজে পাওয়া চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। সাধ্যের মতো ভাড়া, অফিস থেকে বাসার দূরত্ব, সন্তানদের স্কুলের দূরত্ব—এমন নানা কিছু মিলিয়ে তবে পাওয়া যায় কাঙ্ক্ষিত ভাড়া বাসাটি। সময় নিয়ে আর ঘাম ঝরিয়ে কদাচিৎ দেখা মেলে মনের মতো বাসার। তবে এমন সব ঝামেলাকে ছুটিতে পাঠাতে আছে ওয়েব ও অ্যাপভিত্তিক সেবা ‘দ্য টুলেট’। শুরুর কথা ভাড়া বাসা খোঁজার কষ্টটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন ২০ বছর বয়সী অমিত ঘোষ। ব্যাচেলর শুনলে বাড়িওয়ালাদের অনেকেই এককথায় ‘না’ বলে দেন। তিনি তখন ভাবলেন, ইন্টারনেটে তো কত অসম্ভব কাজ সহজেই করা যায়। বাসা খুঁজে পাওয়ার মতো কিছু একটা করা তো অসম্ভব নয়। এই ভাবনার বাস্তবায়নই হচ্ছে ‘দ্য টুলেট’ (https://www.thetolet.com) । ওয়েব ডেভেপলপার অমিত ঘোষ এটি তৈরির কাজে লেগে যান। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বের ওয়েবসাইটটি চালু করেন। স্টার্টআপ বিজনেস হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ওয়েবসাইট। গত ছয় বছরে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ওয়েবসাইটটি দেখেছে তিন কোটিবারেরও বেশি। ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে পাঁচ লাখ। এই পাঁচ লাখের মধ্যে নিবন্ধন করেছে দুই লাখ। বাকি তিন লাখ নিবন্ধন না করে যতটুকু সুবিধা পাওয়া যায় তা গ্রহণ করেছে। অমিত জানান, ছয় বছর ধরে সেবাটি পুরোপুরি বিনা মূল্যে দিয়ে আসছেন। বাসা ভাড়া দিতে এবং খুঁজে পেতে বাড়িওয়ালা কিংবা ভাড়াটিয়াদের কোনো রকম টাকা-পয়সা খরচ করতে হয় না। এটি থেকে এখনই আয়ের কথা ভাবছেন না। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপাতত আমার ইচ্ছা সবাই আগে এটা ব্যবহার করুক, উপকৃত হোক; আয়-উপার্জন নিয়ে পরে ভাবা যাবে।’ তাঁর মতে, উন্নত সেবাপদ্ধতি ও ব্যবহার সহজ হওয়ার কারণে টুলেট দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অমিতের টিমে চিফ কাস্টমার অফিসার হিসেবে আঁখি রানী দাস তিতলি, কমিউনিটি ম্যানেজার হিসেবে মো. মোস্তাফিজুর রহমান, চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে মো. শাহীন আলম, মোবাইল অ্যাপ ডেভেলপার হিসেবে পঙ্কজ কুমার কাজ করছেন। যেভাবে কাজ করে কিভাবে একজন বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়া ‘দ্য টুলেট’ দ্বারা উপকৃত হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে অমিত বলেন, ‘দ্য টুলেট ফ্যামিলি বাসা, ব্যাচেলর বাসা, অফিস, হোস্টেল, সাবলেট, মেস অর্থাৎ ভাড়াসংক্রান্ত সব সমস্যা সমাধানের একটি অনলাইনভিত্তিক প্রচেষ্টা। এটি ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কম পরিশ্রমে খুব সহজেই বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়া পাবেন। বাড়িওয়ালারা এখানে খুব সহজে একটা ফরম পূরণের মাধ্যমে দ্য টুলেটের সেবা নিতে পারছেন এবং ভাড়াটিয়ারা শুধু ওয়েবসাইট বা অ্যাপে নিবন্ধন করলেই বাড়িওয়ালার নম্বর পাবেন এবং সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন। বাড়িওয়ালা বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপনের ছবি দিলে ভাড়াটিয়া তা-ও দেখতে পারবেন। ২০২২ সালে এখন পর্যন্ত সাত হাজারের বেশি বাসা ভাড়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।’ টুলেট চালু হওয়ার পর থেকে সব মিলিয়ে ৩০ হাজারের বেশি বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে বলে অমিত জানান। ফ্যামিলি বাসা, ব্যাচেলর বাসা, অফিস, হোস্টেল, সাবলেট—এগুলোর আলাদা আলাদা ক্যাটাগরি। আছে কত টাকা ভাড়ার মধ্যে বাসা খুঁজবেন তা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সুযোগ। প্রাথমিকভাবে শুধু খালি বাসার তালিকা দেখা যাবে, তারপর ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করে বাসার পোস্টের ভেতরে গেলেই বাসার মালিকের অথবা যিনি পোস্টটি করেছেন তাঁর নাম ও নম্বর পাওয়া যাবে। তখন সরাসরি যোগাযোগ করে বাসার বিষয়ে কথা বলে নেওয়া সম্ভব হবে। এ ছাড়া টুলেট অ্যাপ ও ওয়েবসাইট দুই জায়গায়ই ম্যাপের মাধ্যমে বাসা দেখার সুযোগ আছে। ফলে কেউ সরাসরি গিয়ে বাসা দেখতে চাইলে দেখতে পারবেন। আছে অ্যাপও ওয়েবসাইটের সাফল্যের পর অমিত আগ্রহী হলেন এই সেবার অ্যাপ তৈরি করার জন্য। ২০২২ সালের ২২ মার্চ চালু হয় অ্যানড্রয়েড সংস্করণের অ্যাপটি। যে কেউ বিনা মূল্যে গুগল প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন। পাঁচ মেগাবাইট সাইজের ‘দ্য টুলেট’ অ্যাপ ডাউনলোড হয়েছে ১০ হাজারের বেশি। প্রথমে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাইনলোড করতে হবে। এরপর অ্যাপ খুলে কত টাকার মধ্যে, কোথায় বাসা ভাড়া নিতে চান, ফ্যামিলি বাসা না ব্যাচেলর, কয় রুমের বাসা চাচ্ছেন ইত্যাদি তথ্য দিয়ে সার্চ করতে হবে। সার্চের পর আপনার চাহিদামতো বাসা দেখা যাবে। বাসার অবস্থান, বাড়িওয়ালার ফোন নম্বর, বাসার বিভিন্ন ছবি সবই পাওয়া যাবে। তবে ওয়েবের মতো অ্যাপের সব সুবিধা পেতে নিবন্ধন করতে হবে। ডাউনলোড লিংক : https://urlzs.com/W2YXa| ব্যবহারকারীরা কী বলছেন দ্য টুলেট ব্যবহার করে বাসা খুঁজে পেয়েছেন আদনান নিঝুম। তিনি বললেন, ‘টুলেট ব্যবহার করে বেশ উপকৃত হয়েছি। আগে বাসা খুঁজতে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে বাড়িঘরের টুলেট দেখতে হতো। ঘরে ঘরে গিয়ে কথা বলতে হতো। কিন্তু এই প্ল্যাটফরম ব্যবহারের মাধ্যমে ঘরে বসেই কাঙ্ক্ষিত সেবাটি পেয়েছি। বাসা খোঁজা হয়ে গেছে একেবারে ঝামেলাবিহীন।’ আরেকজন টুলেট ব্যবহারকারী আব্দুল বারী রবিন। তিনি বলেন, ‘টুলেট অ্যাপ ব্যবহার করে সহজে বাসা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। টুলেট ওয়েবসাইট বা অ্যাপে সহজে সার্চ করার ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে চাইলে পছন্দমতো অপশন দিয়ে ভাড়ার জন্য বাড়ি খোঁজা যায়।’ ভবিষ্যৎ ভাবনা টুলেট ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রতিটি রাস্তা এবং বাসার দেয়াল হবে বাসা ভাড়া লিফলেটবিহীন—এমনটাই স্বপ্ন দেখেন উদ্যমী তরুণ অমিত ও তাঁর দলের সদস্যরা। এ ছাড়া এখন দ্য টুলেট অ্যাপটির আইওএ সংস্করণের কাজ চলছে। দ্রুত এটি অ্যাপল স্টোরের জন্য প্রকাশ করা হবে।