বিশ্বের অন্যতম সম্মানজনক রোবটিকস প্রতিযোগিতা ‘ওয়ার্ল্ড রোবট অলিম্পিয়াড ২০২২’-এ বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়ে ‘ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার’ বিভাগে তৃতীয় হয়েছে ‘টিম লেইজি-গো’। আর ‘ফিউচার ইনভেটারস’ বিভাগে সিনিয়র গ্রুপে অষ্টম হয়েছে ‘রোবনিয়াম বাংলাদেশ’। জার্মানির ডর্টমুন্ডে শনিবার অনুষ্ঠিত ২৪তম আসরের গ্র্যান্ড ফিনালেতে এসব অর্জন করে বাংলাদেশি দল দুটি। টিম লেইজি-গোর সদস্যরা হলেন—বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ইকবাল সামিন পৃথুল এবং ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তওসিফ সামিন। দলনেতা হিসেবে এই সফরে তাঁদের সঙ্গী ছিলেন রেদওয়ান ফেরদৌস এবং উপদলনেতা হিসেবে মাহেরুল আজম কোরেশী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন স্বচালিত রোবট নির্মাণ করে দলটি। কোনো কিছুতে আঘাত না করে রোবটটিকে দ্রুততার সঙ্গে তিনবার পুরো পথ ঘুরতে হবে—এটাই ছিল ‘ফিউচার ইঞ্জিনিয়ার’ বিভাগে জেতার শর্ত। এই বিভাগে সেরা হয়েছে চীনের ‘ফায়ারিং অন অল অলসিলিন্ডারস’। দ্বিতীয় হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিম স্পার্ক’। এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সরাসরি দুটি দল এই প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করে। অন্যদিকে ৭৮টি দেশের অংশগ্রহণে এবারের আসরে ‘ফিউচার ইনভেটারস’ বিভাগে ছিল তিনটি গ্রুপ—এলিমেন্টরি, জুনিয়র ও সিনিয়র। সিনিয়র গ্রুপে অষ্টম হয়েছে ‘রোবনিয়াম বাংলাদেশ’। দলটির তৈরি করা ‘ডেফড্রয়েড রোবট’ একজন বোবা ও বধির ব্যক্তির যোগাযোগের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। রোবটটির কাজ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিত্তার মাধ্যমে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ শনাক্ত করে বধির ব্যক্তিটি কী বলছে তা ইংরেজিতে অনুবাদ করে জানানো। শুধু তা-ই নয়, রোবটটি স্বাভাবিক মানুষের কথাও সাইন ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তর করতে সক্ষম। ‘রোবনিয়াম বাংলাদেশ’ দলের দলনেতা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ রংপুরের এসএসসি পরীক্ষার্থী ইসরাফিল শাহীন অরণ্য এবং আরেক সদস্য ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র মীর মুহাম্মদ আবিদুল হক। আগামী বছর রোবট বিশ্বকাপ হবে পানামায়।