নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন তৈরি করতে যাচ্ছে। কমিশনের ভাষায় এটি হবে ‘বিস্তারিত বিশ্লেষণাত্মক এবং পরিসংখ্যান প্রতিবেদন’। এরই মধ্যে একজন নির্বাচন বিশেষজ্ঞকে এ বিষয়ে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ সম্পর্কে বলা যায়, আমাদের নির্বাচনী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে লিপিবদ্ধ হতে যাচ্ছে। এতে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন পরিসংখ্যানের সঙ্গে প্রেক্ষাপট হিসেবে উঠে আসতে পারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনব্যবস্থা কিভাবে ধ্বংসের পথে নিয়ে গিয়েছিল তার চিত্র, যা আগের তিন নির্বাচন কমিশন সংরক্ষণ করতে চায়নি।
দলীয় সরকারের অধীনে ২০১৮ সালের একাদশ এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো পরিসংখ্যান প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে নেই। ২০১৪ সালে একপক্ষীয় ও প্রায় বিনা ভোটের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলেও তাতে ওই নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, অনিয়ম ও সরকারি হস্তক্ষেপ সম্পর্কে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এতে নির্বাচন বর্জনকারী বিরোধী দলগুলোর যৌক্তিক আন্দোলনকেই অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হয়। এ ছাড়া বলা হয়, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত হওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের অধীনে এ নির্বাচনে দেশবাসীর প্রত্যাশা ছিল অনেক এবং আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ ছিল ব্যাপক।’ এ আগ্রহের সমর্থনে এই তথ্য দেওয়া হয় যে, ‘বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের চারজন পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেন।’ প্রতিবেদনটির মুখবন্ধের শুরুতেই বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠুভাবে এ নির্বাচন সম্পন্ন করে।’ নির্বাচন কমিশন ওই সময় প্রথমে ইউএনডিপির ‘এসইএমবি’ প্রজেক্টের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন ছাপতে চাইলে ইউএনডিপি রাজি হয়নি। পরে কমিশন নিজেদের (সরকারি) খরচে এর মুদ্রণের কাজ শেষ করে।
নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, সংসদ নির্বাচনসহ যেকোনো নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন নির্বাচনী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। যেকোনো কর্মযজ্ঞের পরিসংখ্যান একই কর্মের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার একটি অপরিহার্য অংশ। এটি প্রকাশ না করাটা দুঃখজনক। এক ধরনের দায়িত্বহীনতাও বটে। বিশেষ করে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়াটা বা প্রকাশের ন্যূনতম উদ্যোগ না নেওয়াটা নির্বাচনের নামে প্রহসনকে আড়াল করার অপচেষ্টারই নামান্তর।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়া সব জাতীয় নির্বাচনেই আগের সব নির্বাচন কমিশন পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করে এসেছে। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রতিশ্রুতি অনুসারে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার এই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয় এবং স্বল্পকালীন এই সংসদের মাধ্যমে বিরোধী দলগুলোর দাবি অনুসারে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই বছরের ৩০ মার্চ রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করেন।
নির্বাচন কর্মকর্তাদের মূল্যায়নে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনটি সবচেয়ে তথ্যসমৃদ্ধ। এর উপক্রমণিকায় পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির অধীনে একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর সেই ব্যবস্থা রহিত, পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে অন্যান্য বিধানাবলির সঙ্গে জনগণের মৌলিক মানবাধিকার বলবৎকরণ এবং রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থার অধীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ব্যবস্থা প্রবর্তিত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করা হয়। এরপর ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় সাধারণ নির্বাচন ও নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩০০টি সাধারণ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৭টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ (মালেক) ৩৯টি এবং অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কে কয়টি আসন পায় সেই তথ্য তুলে ধরা হয়।
এরপর ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুঃখজনকভাবে নিহত হওয়ার পর উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে কার্যভার গ্রহণ এবং ওই বছরের ১৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিচারপতি আবদুস সাত্তারের রাষ্ট্রপতি হওয়ার ঘটনাক্রমও এতে বর্ণনা করা হয়।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে সামরিক আইন জারির মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়তে বাধ্য করা এবং এরশাদের ক্ষমতা দখলের বিষয়টিও পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে উঠে আসে। এতে ১৯৮৬ সালের ৭ মে জাতীয় সংসদের তৃতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট, সে নির্বাচনে বিএনপিপ্রধান বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ৭ দলীয় জোট অংশ না নিলেও জামায়াতসহ আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ৮ দলীয় জোটের নির্বাচনে অংশগ্রহণ, সেই নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদ পরের বছরের ৬ ডিসেম্বর ভেঙে দেওয়া—এসব তথ্যও সন্নিবেশিত হয়। উল্লেখ করা হয়, ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ অনুষ্ঠিত ব্যর্থ সংসদ নির্বাচনের কথা। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ‘প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক মহলে বিশেষ কোনো প্রভাব বিস্তার করিতে পারে নাই। বরং লে. জে. হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সরকারের পতনের লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ, ছাত্রসমাজ ও সমাজের বিভিন্নস্তরের এবং বিভিন্ন পেশার লোকজন হরতাল ও বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ফলে ১৯৯০ সালের ১৪ অক্টোবর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।’ এরপর দেশে জরুরি অবস্থা জারি, গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদের পতন, বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণের পর ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং সে নির্বাচনের বিস্তারিত পরিসংখ্যান ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ছিল দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নেওয়া, গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা ও সেই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাস ধরে নানা উদ্যোগ।
১৫ বছরের আওয়ামী শাসনামলের তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি যে কতটা ভয়াবহ ছিল তা সম্প্রতি নতুন করে উঠে আসে হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে। গত ১৪ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জমা দেওয়া ওই প্রতিবেদনে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ছাড়াও ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে একটি বড় ধরনের অনিয়মের বিষয় উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, ‘২০০৮ সালে একটি নির্দিষ্ট দলকে নির্বাচনে জিতিয়ে আনার উদ্দেশ্যে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ৩০০ আসনের মধ্যে টার্গেট করে ১৩৩টি আসনের সীমানা পরিবর্তন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ আসনে শাসকদলের (আওয়ামী লীগ) সুবিধা নিশ্চিত করতে বিরোধী (বিএনপি) সমর্থিত এলাকাগুলো ভাগ করা হয় এবং ভোটার সমতা অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তন করা হয়।’ তদন্ত প্রতিবেদনে পরের তিনটি নির্বাচন সম্পর্কে বলা হয়, বাংলাদেশে গত এক দশকে অনুষ্ঠিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪) ছিল মূলত জনগণের ভোটাধিকার ভূলুণ্ঠিত করার এক সুপরিকল্পিত নীলনকশা। ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। ২০১৮ সালে ৮০% কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০%-এর বেশি হয়ে যায়। ২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় এবং বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়, যা নির্বাচন সেল নামে পরিচিতি লাভ করে।
২০১৪-২৪ পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচনব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে উঠে নির্বাচন পরিচালনার মূলশক্তি।
লেখক : কালের কণ্ঠের উপসম্পাদক
ও নির্বাচন বিশ্লেষক





গত ১৭ জুন ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটিকে মেনে নেয়নি ইসরায়েল। সেই সঙ্গে ইরানের চাওয়াকে মেনে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসরায়েলকে বাধ্য করা হয় লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতিতে যেতে। যে যুদ্ধটি ইসরায়েলের অনেক পরিকল্পনা এবং চেষ্টার ফল, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি। একই সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতির এই পথ ধরে যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, সেটি হবে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া পরোক্ষ স্বীকারোক্তি। বিষয়গুলো ইসরায়েলের জন্য গভীর ভাবনার। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যিনি ট্রাম্পকে এত দিন ধরে ইরানকে তাঁদের অভিন্ন শত্রু বলে যে ধারণা দিয়ে এসেছেন, সেই ইরান এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে, ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নতুন এক বাস্তবতার সৃষ্টি হবে, যার আলোকে উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে হয়তো ইরানকেই তাদের জন্য রক্ষাকবচ হিসেবে মেনে নেবে
আসল বিস্ফোরণটা ঘটল আশির দশকে, যা বাংলাদেশের সমাজ ও প্রযুক্তির ইতিহাসে এক বড় সন্ধিক্ষণ। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের সময় রঙিন টিভির আগমন ফুটবলকে এ দেশে এক অভূতপূর্ব তুঙ্গে নিয়ে যায়। মেক্সিকো বিশ্বকাপ যখন এ দেশের ড্রয়িংরুমে রঙিন পর্দায় হাজির হলো, ঠিক তখনই বাঙালি তার ফুটবল ঈশ্বরকে খুঁজে পেল