kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

স্বীকৃতির খবরটা যদি শুনতে পেতেন নওশের!

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বীকৃতির খবরটা যদি শুনতে পেতেন নওশের!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লাইফ সাপোর্টে সাত দিন হয়ে গেল, অবস্থার কোনো উন্নতি নেই নওশেরুজ্জামানের। এর পরও হাল ছাড়তে নারাজ তাঁর পরিবার এবং প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীন বাংলা দলের এই ফুটবলারের ফুসফুস কাজ না করলেও অন্য অঙ্গগুলো সচল থাকায় তারা সবাই ‘মিরাকল’-এর আশায় বুক বেঁধে আছেন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে যদি ফিরে আসেন নওশের!

কিন্তু চলে গেলে স্বাধীন বাংলা দলের স্বীকৃতি না পাওয়ার ব্যথাটাই তাঁর সঙ্গী হবে। জাতীয় দল এবং মোহামেডানের এই স্ট্রাইকারকে সুস্থ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর অমন আকুতি ও আন্তরিক চেষ্টার কথাও তাঁর জানার সুযোগ নেই। এটাই সবচেয়ে বেশি পোড়ায় স্বাধীন বাংলা দলের অন্যতম সংগঠক সাইদুর রহমান প্যাটেলকে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাধীন বাংলা দলের ফুটবলারদের খুব ভালোবাসেন। নওশের ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তাঁর সাধ্যমতো সবই করছেন। এমনকি নওশের ভাইয়ের স্ত্রীর চিকিৎসার দায়িত্বও প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন। এত কিছু হচ্ছে অথচ নওশের ভাই জানতে পারবেন কি না, জানি না। স্বাধীন বাংলা দলের স্বীকৃতিটা পেলে একটা তৃপ্তি নিয়ে যেতে পারতেন।’

সারা বিশ্বের ইতিহাসেই স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল অনন্য। তবু এ দলটির রাষ্ট্রীয় কোন স্বীকৃতি মেলেনি। এই আক্ষেপ নিয়ে অনেকে জীবনের পাট চুকিয়ে চলে গেছেন, যাঁরা বেঁচে আছে তাঁরাও সত্তরের আশপাশে দাঁড়িয়ে হয়তো ক্ষণ গুনছেন। সাইদুর রহমান প্যাটেলও জানেন না স্বীকৃতি দিতে বাধা কিসে, ‘স্বীকৃতি না মেলার ব্যাপারটা আমার কাছে রহস্যময়। স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মের যোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, শুধু আমাদের দলটাকে দেওয়া হয়নি। এর পরও ভালো লাগে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এই দলের সদস্যদের জন্য হাত বাড়িয়ে দেন। কারো সমস্যা শুনলেই তিনি এগিয়ে আসেন। খালেক ভাই, লুত্ফর ভাই, হালিম ভাই, তসলিম ভাই, আইনুল ভাইসহ দলের আরো অনেকের জন্য তিনি করেছেন। সত্যি বললে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি সবার খোঁজখবর রাখেন।’

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আটকে থাকলেও এই দলের প্রতি বঙ্গবন্ধুকন্যার ব্যক্তিগত আন্তরিকতা-ভালোবাসার এতটুকু ঘাটতি নেই। তাইতো নওশেরুজ্জামানের ফেরার অপেক্ষায় আছেন তিনি। আব্দুল গাফফার বলেছেন সে কথা, ‘প্রধানমন্ত্রীও চেয়েছেন লাইফ সাপোর্ট না খুলে আরো কিছু সময় দেখতে। সবাই নওশের ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’ একই আকুতি তাঁর সমসাময়িক ফুটবলসংশ্লিষ্টদের এবং অবশ্যই পরিবারেরও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা