• ই-পেপার

আহমেদ আকবর সোবহান, চেয়ারম্যান, বসুন্ধরা গ্রুপ

আবাসন বিপ্লবের সফল স্বপ্নদ্রষ্টা

সাক্ষাৎকার

কোরবানির ঈদ ফ্রিজশিল্পের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম

ঈদের দুই মাস আগে থেকেই ফ্রিজের বাজারে চাহিদার ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। তাই কম্পানিগুলোও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ আশাবাদী হয়ে ওঠে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরএফএল ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর আলম। তিনি ফ্রিজের বাজার নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন

কোরবানির ঈদ ফ্রিজশিল্পের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম
ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর আলম

প্রশ্ন : ঈদকে কেন্দ্র করে ফ্রিজ বাজারের আকার ও চাহিদা কতটা বৃদ্ধি পায়? এবার বিক্রির প্রবণতা কেমন দেখছেন?

উত্তর : কোরবানির ঈদ ফ্রিজশিল্পের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় মৌসুম। আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ঈদের দুই মাস আগে থেকেই বাজারে চাহিদার ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। এবার গ্রাহকদের মধ্যে শুধু ফ্রিজ কেনা নয়, বরং আগের ছোট ফ্রিজ পরিবর্তন করে বড় ক্যাপাসিটির আধুনিক ফ্রিজ নেওয়ার প্রবণতা বেশি। আমরা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ আশাবাদী এবং ঈদ উপলক্ষে চাহিদার সর্বোচ্চ তুঙ্গে থাকার প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।

প্রশ্ন : বর্তমানে বাজারে কোন ধরনের ফ্রিজের চাহিদা বেশি—ডিপ ফ্রিজ, বড় ক্যাপাসিটির মডেল, নাকি স্মার্ট ও এনার্জি সেভিং ফ্রিজ? গ্রাহকের পছন্দে কী পরিবর্তন এসেছে?

উত্তর : গ্রাহক এখন অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা এখন শুধু ‘ডিপ ফ্রিজ’ নয়, বরং ‘কনভার্টিবল ভার্টিক্যাল ফ্রিজার’ বা এমন মাল্টি স্টোরেজ মডেল খুঁজছেন, যা ফ্রিজ ও ফ্রিজার উভয় হিসেবেই কাজ করে। ভোক্তা চাহিদার কথা চিন্তা করে আমরা ভার্টিক্যাল ফ্রিজারও এনেছি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের কথা মাথায় রেখে তাঁরা ‘৫-স্টার এনার্জি রেটিং’ সম্পন্ন স্মার্ট ফ্রিজের দিকে বেশি ঝুঁকছেন। ঘরের সৌন্দর্যের কথা ভেবে প্রিমিয়াম কালার ও ফিনিশিংয়ের ফ্রিজ এখন চাহিদার শীর্ষে।

প্রশ্ন : মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার চাপের মধ্যে ঈদে বিক্রি ধরে রাখতে আপনারা কী ধরনের অফার, ইএমআই বা ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন?

উত্তর : আমরা জানি, বাজার পরিস্থিতি কিছুটা চ্যালেঞ্জিং। তাই গ্রাহকের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে আমরা ‘ভ্যালু ফর মানি’ অফার নিয়ে এসেছি। আমাদের প্রতিটি ফ্রিজে এখন ১০ শতাংশ পর্যন্ত সরাসরি ডিসকাউন্ট রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে সহজ মাসিক কিস্তি (ইএমআই) সুবিধা এবং প্রতিটি কেনাকাটায় ১০ পিসের একটি আকর্ষণীয় ‘ফুলঝুরি মেগা গিফট বক্স’ ফ্রি। আমাদের লক্ষ্য সব স্তরের গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের পণ্য পৌঁছে দেওয়া।

প্রশ্ন : স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন বাংলাদেশের ফ্রিজশিল্পকে কতটা এগিয়ে নিয়েছে? আগামী কয়েক বছরে এই বাজারের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা কোথায় দেখছেন?

উত্তর : স্থানীয় উৎপাদন আমাদের বাজারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। ভিশন এখন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ফ্যাক্টরিতেই ১০০ শতাংশ কপার কনডেন্সার ও আধুনিক ফোমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রযুক্তিগত এই উৎকর্ষ আমাদের পণ্যকে বিশ্বমানের করেছে। আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের রেফ্রিজারেটর বাজারের প্রবৃদ্ধি ঘটবে স্মার্ট প্রযুক্তি, আইওটিভিত্তিক ফিচার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন টেকনোলজির হাত ধরে।

প্রশ্ন : ঈদ মৌসুমে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের বিক্রি ও চাহিদায় কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করছেন?

উত্তর : গ্রামাঞ্চলে এখন আয়ের পাশাপাশি আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতি সচেতনতা বাড়ছে। আগে যেখানে ছোট সাইজের ফ্রিজ চলত, এখন গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় বড় ক্যাপাসিটির এবং টেকসই ফ্রিজের চাহিদা শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে
বাড়ছে। বিশেষ করে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজনে গ্রামাঞ্চলেও এখন আধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ বড় ফ্রিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমাদের শক্তিশালী সার্ভিস নেটওয়ার্ক থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমরা গ্রাহকদের দোরগোড়ায় সেবা
পৌঁছে দিচ্ছি।

বাজারে ঈদ ঘিরে বেড়েছে ফ্রিজ বিক্রি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাজারে ঈদ ঘিরে বেড়েছে ফ্রিজ বিক্রি
ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর একটি ইলেকট্রনিক পণ্যের শোরুমে পরিবারের জন্য পছন্দের ফ্রিজ দেখছেন এক নারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে দেশের বাজারে ফ্রিজ, বিশেষ করে ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। কোরবানির পশুর মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজনেই এ সময় সাধারণত ডিপ ফ্রিজের বিক্রি বেড়ে যায়। রাজধানীর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে এবং বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনো পুরোপুরি ঈদকেন্দ্রিক বেচাকেনা শুরু না হলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ড বিশেষ ছাড়, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, স্ক্র্যাচ কার্ড অফার এবং সহজ কিস্তি সুবিধা চালু করেছে। বিক্রেতারা বলছেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় দুই ঈদকে ঘিরেই সবচেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়।

রাজধানীতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে ও বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানির ঈদকে ঘিরে এখনো সেভাবে বিক্রি শুরু হয়নি। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় শোরুমগুলোতে ফ্রিজের বিক্রি কিছুটা বেড়েছে। ক্রেতা আকর্ষণে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো সব শ্রেণির ক্রেতার প্রতি লক্ষ রেখে ছাড় সুবিধাসহ নানা অফার দিচ্ছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বছরের স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি হয়, শুধু দুটি ঈদকে ঘিরেই তার চেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়ে থাকে। একসময় ক্রেতারা শুধু দামের বিষয়টি দেখতেন, এখন ফ্রিজ কেনার সময় দামের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয়, ডিজাইন, কম্প্রেসর, বিক্রয়োত্তর সেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে অপেক্ষাকৃত কম দামে মোটামুটি ভালো মানের ফ্রিজ তৈরিতে সক্ষম হওয়ায় দেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ওয়ালটন, ভিশন, সনি-র‌্যাংগস, মিনিস্টার, সিঙ্গারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে নানা ডিজাইন ও রঙের ডিপ ও সাধারণ ফ্রিজ নিয়ে এসেছে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য ফ্রিজ বিক্রিতে ডিসকাউন্ট, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, স্ক্যাচ কার্ড অফারসহ ১২ মাস পর্যন্ত সহজ কিস্তির সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বাড্ডা লিংক রোডে ‘ওয়ালটন’ শোরুমে গিয়ে দেখা গেছে ঈদ উপলক্ষে নানা রঙের ও ডিজাইনের এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বেশ কিছু নতুন ফ্রিজ নিয়ে এসেছে ওয়ালটন। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য সব ধরনের ফ্রিজ বিক্রিতে মিলিয়নেয়ার অফার, ডিসকাউন্ট অফারসহ সহজ কিস্তির সুবিধাও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ওয়ালটন শোরুমের ম্যানেজার মোস্তফা কামাল (সোহাগ) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে সব ফ্রিজে ‘মিলিয়নেয়ার অফার’-এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কারের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নগদ ক্রয়ে ১০ শতাংশ ডিসকাউন্টও দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবছরের মতো কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বেড়েছে, এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বর্তমানে বাজারে ভার্টিক্যাল ডিপ ফ্রিজ এসেছে, যেগুলোর চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এসব ভার্টিক্যাল ডিপ ফ্রিজের দাম ৫১ হাজার থেকে ৮৫ হাজার টাকার মধ্যে। অন্যদিকে সাধারণ ডিপ ফ্রিজের দাম রয়েছে ২৯ হাজার থেকে ৪৬ হাজার টাকা পর্যন্ত।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইনভার্টার ও নন-ইনভার্টার—দুই ধরনের ফ্রিজের মধ্যে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি ইনভার্টার ফ্রিজে। এ দুই ধরনের ফ্রিজের দামের পার্থক্য সাধারণত তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। সাধারণ ফ্রিজের মধ্যে বর্তমানে ডবল ডোর ফ্রিজের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। উচ্চবিত্ত পরিবারের মধ্যে এসব ফ্রিজ বেশ জনপ্রিয়। ডবল ডোর ফ্রিজের দাম এক লাখ ১০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে গত এক বছরে ফ্রিজের দাম মডেল ভেদে ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর বাড্ডার হল্যান্ড সেন্টার শপিং কমপ্লেক্সে অবস্থিত সনি-র‌্যাংগস শোরুমের সেলসম্যান ইসমাইল হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদ উপলক্ষে আমাদের ফ্রিজে নগদ ও কার্ডে বিশেষ ডিসকাউন্ট দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া এক্সচেঞ্জ অফার, সাপ্তাহিক র‌্যাফল ড্র এবং মেম্বারশিপ সুবিধাও চালু রয়েছে। আমাদের ডিপ ফ্রিজের দাম সর্বনিম্ন ৩০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত। আর সাধারণ ফ্রিজের দাম ৩০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।’

রামপুরা ভিশন ব্র্যান্ডের শোরুমে আদনান মনির নামের এক ক্রেতা ডিপ ফ্রিজ দেখতে এলে তাঁর সঙ্গে কথা হয় কালের কণ্ঠের। তিনি বলেন, ‘আগে দুই সদস্যের সংসারের জন্য ছোট একটি ফ্রিজই যথেষ্ট ছিল। এখন সন্তানরা বড় হওয়ায় খাবারের চাহিদাও বেড়েছে। আগের ফ্রিজের ডিপ অংশ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী মাছ-মাংস সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। সামনে কোরবানির ঈদও আসছে, তাই মাঝারি আকারের একটি ডিপ ফ্রিজ দেখতে এসেছি। এর আগে আরো একটি কম্পানির শোরুম ঘুরে দেখেছি। বাজেটের মধ্যে পছন্দ হলে একটি কিনে নেব।’

সাক্ষাৎকার

ঈদে ওয়ালটনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রিমিয়াম ফ্রিজে আস্থা ক্রেতাদের

এবারের ঈদে সাড়া ফেলেছে ওয়ালটনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআইনির্ভর) প্রিমিয়াম মডেলের ফ্রিজ। তা ছাড়া বর্তমানে বাজারে বড় ও মাঝারি ধারণক্ষমতার ফ্রিজ এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির মডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাহসিনুল হক

ঈদে ওয়ালটনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রিমিয়াম ফ্রিজে আস্থা ক্রেতাদের
মো. তাহসিনুল হক

প্রশ্ন : ঈদকে কেন্দ্র করে ফ্রিজ বাজারের আকার ও চাহিদা কতটা বৃদ্ধি পায়? এবার ফ্রিজ বিক্রির প্রবণতা কেমন দেখছেন?

উত্তর : বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ফ্রিজশিল্পের অন্যতম বড় বিক্রয় মৌসুম। কোরবানির মাংস দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণে এই সময় ফ্রিজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণ সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমে বাজারে চাহিদা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। চলতি বছরও আমরা ইতিবাচক প্রবণতা দেখছি। বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সন্তোষজনক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বড় ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এর পাশাপাশি এই ঈদে সাড়া ফেলেছে ওয়ালটনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন (এআইনির্ভর) প্রিমিয়াম মডেলের ফ্রিজ। আমরা আশা করছি, ঈদকে কেন্দ্র করে এবারের বিক্রি গত বছরের তুলনায় আরো ভালো হবে।

প্রশ্ন : বর্তমানে বাজারে কোন ধরনের ফ্রিজের চাহিদা বেশি—ডিপ ফ্রিজ, বড় ক্যাপাসিটির মডেল, নাকি স্মার্ট ও এনার্জি সেভিং ফ্রিজ? গ্রাহকের পছন্দে কী পরিবর্তন এসেছে?

উত্তর : বর্তমানে বাজারে বড় ও মাঝারি ধারণক্ষমতার ফ্রিজ এবং বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ইনভার্টার প্রযুক্তির মডেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি স্মার্ট ফিচারসমৃদ্ধ ফ্রিজের প্রতিও গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগে অনেকেই মূলত দাম বিবেচনা করে ফ্রিজ কিনতেন। এখন ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার, বিদ্যুৎ খরচ, খাদ্য সংরক্ষণের মান এবং প্রযুক্তিগত সুবিধার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ঈদুল আজহার সময় ভার্টিক্যাল ডিপ ফ্রিজের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ইউরোপিয়ান ডিজাইন, আলাদা ফুড চেম্বার এবং ভার্টিক্যাল মডেলের হওয়ায় আধুনিক পরিবারের কাছে ওয়ালটনের তৈরি ভার্টিক্যাল ডিপ ফ্রিজের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বর্তমানে অনেক গ্রাহক বড় ফ্রিজের ফ্রিজার কম্পার্টমেন্টের ধারণক্ষমতা বিবেচনা করে ক্রয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেন্ট, দ্রুত কুলিং প্রযুক্তি, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সুবিধা এবং স্মার্ট কন্ট্রোল ফিচারও ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশের ভোক্তারা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন ও প্রযুক্তিবান্ধব।

প্রশ্ন : মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতার চাপের মধ্যে ঈদে বিক্রি ধরে রাখতে ওয়ালটন কী ধরনের অফার, ইএমআই বা ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে?

উত্তর : বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তাই ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন আকর্ষণীয় অফার, ক্যাশব্যাক সুবিধা, সহজ কিস্তি এবং বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের জন্য শূন্য বা স্বল্প ডাউন পেমেন্টে কিস্তি সুবিধা, নির্দিষ্ট মেয়াদের ইএমআই এবং বিভিন্ন উপহার ও মূল্যছাড়ের সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া দেশব্যাপী চলছে ওয়ালটনের ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪। এর আওতায় দেশের যেকোনো ওয়ালটন প্লাজা বা পরিবেশক শোরুম থেকে ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন বা বিএলডিসি সিলিং ফ্যান কিনে ক্রেতারা মিলিয়নেয়ার হওয়ার, অর্থাৎ নগদ ১০ লাখ টাকা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এরই মধ্যে এই সিজনে ঈদের আগে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিলিয়নেয়ার হয়েছেন চারজন ক্রেতা। এ ছাড়া লাখ লাখ টাকার ক্যাশ ভাউচার, আর্জেন্টিনা দলের ফ্রি ফ্যান জার্সিসহ নিশ্চিত পুরস্কার পাচ্ছেন অগণিত ক্রেতা। আমাদের লক্ষ্য শুধু বিক্রি বৃদ্ধি নয়; বরং গ্রাহকদের জন্য সর্বোচ্চ মূল্য নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তির পণ্য আরো সহজলভ্য করে তোলা।

প্রশ্ন : ওয়ালটন স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের ফ্রিজশিল্পকে কতটা এগিয়ে নিয়েছে? আগামী কয়েক বছরে এই বাজারের প্রবৃদ্ধি সম্ভাবনা কোথায় দেখছেন?

উত্তর : স্থানীয় উৎপাদন, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ওয়ালটন বাংলাদেশের রেফ্রিজারেটরশিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে গুরুত্ব্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। দেশে উন্নত প্রযুক্তির ফ্রিজ উৎপাদনের ফলে আমদানিনির্ভরতা কমেছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বেড়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি ফ্রিজ রপ্তানির সুযোগ সম্প্রসারিত হয়েছে। আমরা নিয়মিতভাবে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ করছি, যাতে বিশ্বমানের প্রযুক্তি দেশের গ্রাহকদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে পৌঁছে দেওয়া যায়। আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের ফ্রিজ বাজারে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুতের আওতা বৃদ্ধি, মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, নগরায়ণ এবং প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা মনে করি। বিশেষ করে এনার্জিসাশ্রয়ী ও স্মার্ট রেফ্রিজারেটরের চাহিদা দ্রুত বাড়বে।

প্রশ্ন : ঈদ মৌসুমে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের বিক্রি ও চাহিদায় কী ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করছেন?

উত্তর : গত কয়েক বছরে গ্রামাঞ্চলে ফ্রিজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের বিক্রির ব্যবধান দ্রুত কমে আসছে। বিদ্যুৎ সুবিধার সম্প্রসারণ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় আয় বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিপণ্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির কারণে গ্রামাঞ্চলে আধুনিক ফ্রিজের ব্যবহার বাড়ছে। ঈদুল আজহার সময় এই প্রবণতা আরো স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কোরবানির মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কারণে গ্রামীণ এলাকায়ও বড় ধারণক্ষমতার ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। ওয়ালটনের বিস্তৃত বিক্রয় ও সেবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকরাও সহজে আধুনিক প্রযুক্তির ফ্রিজ ক্রয় ও বিক্রয়োত্তর সেবা পাচ্ছেন। আমরা মনে করি, আগামী দিনে গ্রামাঞ্চলই দেশের রেফ্রিজারেটর বাজার সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

প্রশ্ন : বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওয়ালটন ফ্রিজে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সংযোজনের বিষয়টিকে কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে?

উত্তর : বর্তমান বিশ্বে বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্ব্বপূর্ণ বিষয়। ওয়ালটন এই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজ তৈরি করছে। আমাদের অনেক মডেলের ফ্রিজে এমএসও প্লাস ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রচলিত ফ্রিজের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে সক্ষম। এ ছাড়া পরিবেশ সুরক্ষার জন্য আমরা জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএনডিপির সহায়তায় ফ্রিজে পরিবেশের জন্য সিএফসি, এইচসিএফসি গ্যাস ফেইজ আউট প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছি। বর্তমানে ওয়ালটন ফ্রিজে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত পরিবেশবান্ধব আর৬০০এ রেফ্রিজারেন্ট/গ্যাস ব্যবহার করছি, যা ওজোনস্তরের জন্য ক্ষতিকর নয়। ওয়ালটনের কিছু
আধুনিক মডেলে এআই এবং আইওটি ভিত্তিক স্মার্ট কন্ট্রোল প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। পাশাপাশি ওয়ালটন ফ্রিজ বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ এনার্জি রেটিং ৫-স্টার সনদ অর্জন করেছে।

 

ফ্রিজেও যুক্ত হয়েছে আধুনিক সব সুবিধা

বর্তমান প্রজন্ম শুধু কুলিং নয়, স্মার্ট ফিচার ও ডিজাইনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজে ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো-বাড়ানো যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্রিজেও যুক্ত হয়েছে আধুনিক সব সুবিধা

প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফ্রিজেও যুক্ত হচ্ছে আধুনিক সব সুবিধা। বাজারে এসেছে এমন কিছু নতুন প্রযুক্তির ফ্রিজ, যা শুধু খাদ্য সংরক্ষণেই নয়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, স্মার্ট নিয়ন্ত্রণ ও স্বয়ংক্রিয় ত্রুটি শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের দৈনন্দিন জীবনকে আরো সহজ করে তুলছে। মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজে ফ্রিজের তাপমাত্রা কমানো-বাড়ানো যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট ফ্রিজ এখন ক্রেতাদের প্রথম পছন্দ। ইনভার্টার প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এসব ফ্রিজ কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারি ব্যাকআপের সুবিধা রয়েছে। ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তির মাধ্যমে ফ্রিজকে মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। যেমন— তাপমাত্রা বাড়ানো বা কমানো যায়, আবার দরজা খোলা থাকলে মোবাইলে নোটিফিকেশন আসে।

স্মার্ট ডিসপ্লে ফ্রিজগুলো মূলত সেন্সর এবং ওয়াই-ফাই প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। এর দরজায় থাকা সেন্সরে টোকা দিলেই ভেতরের কাচ স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। ফলে দরজা না খুলেই ভেতরে কী আছে তা দেখা সম্ভব হয়। এর অভ্যন্তরে থাকা ক্যামেরাগুলো খাবারের ছবি তুলে সরাসরি ব্যবহারকারীর ফোনে পাঠিয়ে দেয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এই ফ্রিজগুলো এখন খাবারের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখও মনে করিয়ে দিতে পারে। অর্থাৎ ফ্রিজ এখন আর শুধু খাবার রাখার যন্ত্র নয়, বরং জীবনকে সহজ করার ‘কার্যকর অনুষঙ্গ’ হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির আধুনিকায়ন মানুষের দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ওয়ালটন রেফ্রিজারেটরের চিফ বিজনেস অফিসার মো. তাহসিনুল হক বলেন, ‘ওয়ালটনের কিছু আধুনিক মডেলে এআই এবং আইওটিভিত্তিক স্মার্ট কন্ট্রোল প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ফ্রিজ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। পাশাপাশি ওয়ালটন ফ্রিজ বিএসটিআইয়ের সর্বোচ্চ এনার্জি রেটিং ৫-স্টার সনদ অর্জন করেছে।’

ইলেকট্রো মার্ট গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুল আফছার বলেন, বর্তমান প্রজন্ম এখন শুধু কুলিং নয়, স্মার্ট ফিচার ও ডিজাইনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। কনকা ও হাইকোর স্মার্ট ডিজিটাল ডিসপ্লে মডেলগুলোতে বাইরে থেকেই টেম্পারেচার কন্ট্রোল, সুপার ফ্রিজিং মোড, ভেকেশন মোড, ডোর অ্যালার্ম সিস্টেম এবং স্মার্ট এরর ডিটেশনের মতো আধুনিক সুবিধা পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রিমিয়াম গ্লাস ডোর ডিজাইন, উন্নত ফিনিশিং ও স্টাইলিশ কিচেন ম্যাচিং লুক আধুনিক কিচেনের সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তোলে। আধুনিক প্রযুক্তি, স্মার্ট ফিচার, আকর্ষণীয় ডিজাইন ও নির্ভরযোগ্য সেবার সমন্বয়ে কনকা ও হাইকো বর্তমানে স্মার্ট গ্রাহকদের অন্যতম পছন্দের ব্র্যান্ড হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

দুই দশক আগেও দেশে ফ্রিজ বলতে আমদানি করা পণ্যই বোঝাত। এ দেশীয় ডিলার বা সরবরাহকারীরা নামিদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ আমদানি করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাত। তবে এসব ফ্রিজের দাম ছিল অনেক বেশি; সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। পরে দেশি একাধিক কম্পানি ফ্রিজ উৎপাদন শুরু করে। এতে সরকারও শুল্কছাড়সহ নানা ধরনের নীতি সহায়তা দেয়। এর মাধ্যমে দেশি ফ্রিজের বাজার তৈরি হয়েছে। দেশি কম্পানির সফলতা দেখে বেশির ভাগ বিদেশি কম্পানিও বর্তমানে দেশে তাদের ফ্রিজ সংযোজন বা উৎপাদন শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রতিবেদনে (২০২৩) বলা হয়েছে, দেশে মোট পরিবার বা খানার সংখ্যা চার কোটি ১০ লাখ। এর মধ্যে ৫৩.৪০ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি করে ফ্রিজ রয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি পরিবারে ফ্রিজ ব্যবহৃত হচ্ছে। গত দুই বছরে এই হার আরো বেড়েছে।

কম্পানিগুলো জানিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে প্রতিবছর ২৫-৩০ লাখ ইউনিট ফ্রিজ বিক্রি হয়। সাধারণত এ বাজার বছরে ৫ থেকে ১০ শতাংশ হারে বাড়ে। আর স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও ফ্রিজ রপ্তানি হচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে এখন অর্ধশতাধিক দেশে ফ্রিজ রপ্তানি হয়।

আরএফএল ইলেকট্রনিকস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর আলম বলেন, ‘স্থানীয় উৎপাদন আমাদের বাজারকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছে। ভিশন এখন আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব ফ্যাক্টরিতেই ১০০ শতাংশ কপার কনডেন্সার ও আধুনিক ফোমিং প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রযুক্তিগত এই উৎকর্ষ আমাদের পণ্যকে বিশ্বমানের করেছে।’

বিক্রেতারা জানান, শহর-গ্রাম-নির্বিশেষে ফ্রিজের বেচাকেনার হার ভালো। তবে পণ্য বিক্রির ধরনে পার্থক্য রয়েছে। যেমন—শহর এলাকার গ্রাহকরা বড় আকারের ফ্রিজ ও ফ্রিজার বেশি কেনেন; বিপরীতে মফস্বলের গ্রাহকরা বেশি কেনেন মাঝারি ও ছোট আকারের ফ্রিজ। বাণিজ্যিক ফ্রিজের বাজারও বাড়ছে। এখন সাধারণ মুদি দোকানে গেলেও এক বা একাধিক ফ্রিজ দেখা যায়।

মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের পরিচালক, শোরুম চ্যানেল মাহমুদুর রহমান খান বলেন, ‘শহর ও গ্রামের গ্রাহকদের চাহিদায় কিছু পার্থক্য রয়েছে। শহরের ক্রেতারা সাধারণত স্মার্ট ফিচার, ডিজাইন ও প্রিমিয়াম মডেলের দিকে ঝুঁকছেন, আর গ্রামাঞ্চলের গ্রাহকরা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন টেকসই মান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং সাশ্রয়ী দামের মডেলকে। পাশাপাশি সহজ কিস্তি সুবিধা ও স্থানীয় পর্যায়ে বিক্রয়োত্তর সেবার সুযোগ গ্রামীণ বাজারে বিক্রি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

 

আবাসন বিপ্লবের সফল স্বপ্নদ্রষ্টা | কালের কণ্ঠ