• ই-পেপার

ফ্যামিলি ও কৃষি কার্ড বিতরণ নিয়ে সুখবর দিলেন মন্ত্রী

বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টারের যাত্রা শুরু

বিদেশে কর্মী প্রেরণে সফল হতে ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বিদেশে কর্মী প্রেরণে সফল হতে ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সেই দেশে অবস্থানরত ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে (প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়) সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রবাসে যারা ব্যবসা, চাকরি বা অন্য খাতে সফল, তাদের খুঁজে বের করে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।’

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর রেনেসাঁস ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার ডায়ালগ : এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক এই আলোচনার যৌথ আয়োজন করে আরভিং এডুকেশন এবং প্রবাসী সেবা লিমিটেড। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার’ (বিজেকেসি)।

জাপানে কর্মী প্রেরণে নেপাল, ফিলিপাইন বা চীনের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা শেষ সময়ে শুরু করেছি। তবে নেপালের কর্মী প্রেরণের সফলতাটি আমাদের জন্য একটি মডেল হতে পারে। এ বিষয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও চিঠি দিয়ে ধারণা দিয়েছেন।’

বিগত সময়ের সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘পূর্বে বিভিন্ন সময় যে সরকার আসে, তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় যারা থাকে, তাদেরই দূতাবাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। যার ফলে ওই দেশে থাকা বিভিন্ন খাতের সফল মানুষদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কম থাকে। আমরা এখন চাকরি ও ব্যবসায় সফল প্রবাসীদের খুঁজে বের করে এসব কাজে যুক্ত করার চিন্তা করছি।’

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ১০ থেকে ১৩ লাখ লোক বিদেশে যান, যার ৮০ শতাংশেরই গন্তব্য মিডল ইস্ট। এই একমুখী নির্ভরতা আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি। যেকোনো একটি দেশের নীতি পরিবর্তন হলেই লাখ লাখ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকিতে পড়বে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধাও বেশিদিন থাকবে না। জাপানসহ ইউরোপের দেশগুলো এখন দক্ষ জনশক্তি খুঁজছে, এখনই প্রস্তুতি না নিলে এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।’

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ভাষা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি কাঠামোগত শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান করিডর গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। 
বক্তারা বলেন, ‘জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভাষা দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সনদায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজেকেসির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন তাজরিয়া রিশতা রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজেকেসির নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতিমা।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক তার প্রবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশের ৪ কোটি ৬০ লাখ তরুণ এবং প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রায় ৬ লাখ ৪৭ হাজার গ্র্যাজুয়েট দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। জাপানে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বিজেকেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার (বিজেকেসি) দেশের প্রথম সমন্বিত জাপান-অভিমুখী ক্যারিয়ার ইকোসিস্টেম হিসেবে যাত্রা শুরু করল। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ এবং ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত সব ধরনের সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে।

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আরো ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আরো ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন
ছবি : কালের কণ্ঠ

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের (TG-321) একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুন) একই দেশ থেকে আরো ৩৭ জন বাংলাদেশি ফিরেছিলেন। এ নিয়ে গত দুই দিনে কম্বোডিয়া থেকে মোট ৯১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ফেরত আসা এসব নাগরিকদের বিমানবন্দরে জরুরি মানবিক সহায়তা এবং নিজ নিজ বাড়ি পৌঁছানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়েই এই যুবকরা কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশি দালালচক্রের সদস্যরা তাদের আটকে রাখে। পরে অর্থের বিনিময়ে তাদের চীনা নাগরিকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে হস্তান্তর করা হয়।

আজ ফেরত আসা এক ভুক্তভোগী বিমানবন্দরে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি বলেন, বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর তিনি দেশ ছাড়েন। ৭ ডিসেম্বর কম্বোডিয়া বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর রবিন শেখ নামের এক বাংলাদেশি দালাল তাকে রিসিভ করে নিজের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে কিছুদিন রাখার পর ২৩ ডিসেম্বর কম্পিউটারের কাজের কথা বলে তাকে একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই ভুক্তভোগী বলেন, ‘পরের দিন কাজে যোগ দিয়ে বুঝতে পারি এটি একটি স্ক্যাম প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। আমি কাজ করতে না চাইলে ওখানকার চায়নিজ বস বলে—তোমার দালাল রবিন শেখ তোমাকে আমার কাছে ২ হাজার ৮৫ ডলারে বিক্রি করে দিয়েছে। এই টাকা না দিলে তোমাকে কাজ করতেই হবে।’

আরেক ভুক্তভোগী জানান, কম্বোডিয়ায় অবস্থানকারী এক বাংলাদেশি দালাল সেখানে বিয়ে করে দীর্ঘ সময় ধরে বসবাস করছেন। ওই দালাল তাকে সুপারশপে চাকরির কথা বলে কম্বোডিয়ায় নিয়ে পাঁচ মাস কাজ করান। কিন্তু মাসে মাত্র ৪০০ ডলার বেতন দেওয়া হতো, যা দিয়ে থাকা-খাওয়ার খরচই চলত না। পরে ওই ভুক্তভোগী ও তার পরিবার বেতনের বিষয়ে চাপ দিলে, ভালো চাকরির কথা বলে তাকে একটি স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসব কম্পাউন্ডে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হতো। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে পরিচালিত সাইবার স্ক্যাম কার্যক্রমে অংশ নিতে তাদের ওপর চাপ দেওয়া হতো। দৈনিক বা মাসিক লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে তাদের ওপর চলত অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

এর আগে শুক্রবার কম্বোডিয়া থেকে ৩৭ জন দেশে ফেরত আসেন। এ ছাড়া চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর আরো ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফেরেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্ত এলাকা হয়ে জোরপূর্বক মায়ানমারে প্রবেশ করানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে নির্যাতন চালানো হতো।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের ফলে কয়েকটি স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরপর দুদিনে ৯১ জন বাংলাদেশির ফেরত আসা প্রমাণ করে যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে এভাবে প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

শরিফুল হাসান আরও বলেন, সাইবার স্ক্যাম হচ্ছে মানবপাচারের একটি ভয়াবহ আধুনিক ধরন। কম্পিউটার বা কল সেন্টার অপারেটরসহ বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইট, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে প্রচার চালানো হয়। এরপর চাকরিপ্রার্থীদের সুকৌশলে স্ক্যাম সেন্টারের ভেতরে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করা হয়। এ কারণে সরকার ও ব্র্যাকের পক্ষ থেকে একাধিকবার থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় যাওয়ার বিষয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিদেশগামীসহ সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা হলে সন্দেহের চোখে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা হলে সন্দেহের চোখে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সার্ক-ই হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বাইরে, অন্য কোনো শক্তির ওপর ভর করে কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হলে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন, আর যারা বাইরে কথা বলেন তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে পার্থক্য রয়েছে। এজন্য সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি।’ এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনকে একটি বিরাট অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘যারা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, তারা কোনো মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সেটা ভাবতে হবে। তবে জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের প্রধান হাতিয়ার।’ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য পরিহার করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে সহমত হয়েছে সেগুলো অক্ষরে-অক্ষরে পালন করা হবে। তবে যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো এর বাইরে থাকবে। বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে, তাই তারা এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।’

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম অপপ্রচারের সমালোচনা করে বলেন, ‘অনেকে অপপ্রচার করছে যে বিএনপি সংস্কারের পক্ষে নয় কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে ভিন্ন চিন্তা করছে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। বিএনপি জুলাই সনদের স্বাক্ষরিত অংশ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।’ বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার একটি চমৎকার ও জনবান্ধব বাজেট দিয়েছে, যা অতীতে কখনো হয়নি। বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার খাতিরেই এর বিরোধিতা করছে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করছে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘এই সনদে প্রথমে গণভোটের বিষয়টি ছিল না। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য একই দিনে গণভোটের বিষয়টি যুক্ত হয়। বিএনপি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর পর ৫ কোটি মানুষ এর পক্ষে রায় দেয়। সংসদে বর্তমানে বিএনপির সদস্য সংখ্যা বেশি থাকায় তারা সংস্কার করতে পারে উল্লেখ করে এই বিষয়গুলো সংসদে আলোচনার তাগিদ দেন তিনি।’

সভাপতির বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের উদ্যোক্তা সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো ভিন্নমত, সেজন্যই সনদে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে যারা সরকার গঠন করেছে, তারাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি যেভাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেভাবেই হুবহু তা বাস্তবায়ন করবে।’

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপি নেতা রাশেদ খান ও মোমিনুল আমিন।

চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন ডেপুটি স্পিকারসহ ৪ এমপি

অনলাইন ডেস্ক
চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেন ডেপুটি স্পিকারসহ ৪ এমপি

চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ শনিবার দুপুর ২টায় ঢাকায় ফিরেছে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের সংসদীয় দল।

চীনের ইউনান প্রদেশের ভাইস গভর্নর ইয়ুয়ান ফাং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে আজ শনিবার চীনের কুনমিং বিমানবন্দরে ভিআইপি প্রটোকলে বিদায় জানান। কুনমিংয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনসযোগে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে সংসদীয় দল।

চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নরের আমন্ত্রণে ১১ জানুয়ারি কুনমিংয়ে আয়োজিত সপ্তম চায়না-সাউথ এশিয়া ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
 
এবারের দশম চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে থিম কান্ট্রি বাংলাদেশের দেশীয় পণ্য নিয়ে ৮৪টি প্যাভিলয়ন অংশ নিচ্ছে। ১৬ জুন পর্যন্ত চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে চলমান এবারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পৃথিবীর ৬৮টি দেশ অংশগ্রহণ করছে।

সফরে ডেপুটি স্পিকার চীনের পিপলস কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান হি ওয়াই, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির ইউনান প্রদেশের সেক্রেটারি ওয়াং নিং এবং ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইয়োবোর সাথে একান্ত বৈঠক করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ডেপুটি স্পিকার কুনমিং-চট্টগ্রাম সরাসরি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেন ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণে চীনা সহযোগিতা অব্যাহত রাখাসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, শিল্প, ইকোনমিক জোন, পরিবহনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার আহ্বান জানান। 

চীনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বিভিন্ন উন্নয়ন সেক্টরে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে তারা সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন বলে উল্লেখ করেন।

কুনমিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসার পথে আজ সকালে ডেপুটি স্পিকার ইউনান প্রদেশে চালকবিহীন ভবিষ্যৎ পরিবহনব্যবস্থার একটি পাইলট প্রকল্প পরিদর্শন করেন। চীনের ইউনান প্রদেশের ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থাপনা কেবল নতুন সড়ক বা রেলপথ নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি স্মার্ট, সবুজ, নিরাপদ এবং সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাপনা মডেল প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

ইউনান ‘ডিজিটাল ইউনান’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবহন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিগ ডেটা এবং ইন্টারনেট অব থিংস প্রযুক্তি ব্যবহার করবে।

এর আওতায় রিয়েল-টাইম ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ, স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা শনাক্তকরণ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা, যাত্রীদের জন্য একীভূত তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম, ই-টোল ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে।

সংসদীয় দলের অন্য সদস্য হলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব ও সংরক্ষিত স্বতন্ত্র এমপি জেসমিন সুলতানা জুঁই। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের পরিচালক (গণসংযোগ-১) মো. মনির হোসেন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সফর করেন।