• ই-পেপার

কম্বোডিয়ার সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আরো ৫৪ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন

বাজেট উপস্থাপনের পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
বাজেট উপস্থাপনের পর জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি : প্রধানমন্ত্রী
ছবি : পিএমও

বাজেট উপস্থাপনের পর প্রথমবারের মতো বাজারে কোনো জিনিসের দাম বাড়েনি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বাজেট ঘোষণার পর থেকে দেশের সচেতন মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছে। বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্য তো বাড়েইনি, বরং কমেছে।’

শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সকালে পত্রপত্রিকাগুলো দেখলাম সব পত্রিকা কমবেশি একটি নিউজ করেছে যে প্রতিবছর বাজেট উপস্থাপনের পরদিন বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে গত পরশু দিন বাজেট উপস্থাপনের পর এই প্রথমবারের মতো কোনো জিনিসপত্রের দাম বাড়েনি।’ 

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, এই মহাসড়ককে বর্তমান সরকার চার বা ছয় লেনে রূপান্তরের কাজ শুরু করবে। পর্যটন নগরী, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরসহ ভৌগোলিকগত কারণে কক্সবাজারকে অতি গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে এই মহাসড়ককে অনেক আগেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করা উচিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ২৫ বছর আগে আমি এই সড়ক দিয়ে কক্সবাজার এসেছিলাম। তখন সড়কটি যে অবস্থায় দেখেছিলাম এবার এসেও তা দেখতে হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। এবার অবশ্যই এই মহাসড়ককে অচিরেই চার বা ছয় লেনে রূপান্তর করার কাজ শুরু করা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী লবণ চাষিদের দুঃখগাথা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি অবগত হয়েছি, এখানকার লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাই আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের এলাকার সন্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করে লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের দুঃখ মোচন করা হবে। যাতে এখানকার লবণশিল্প রক্ষা পায় এবং চাষিরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষের চিকিৎসাব্যয় যাতে আয়ত্তের মধ্যে আনা যায় সে জন্য ঘোষিত বাজেটে চিকিৎসাসংক্রান্ত সব ধরনের ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে এর সুফল এই দেশের জনগণ পায়। অথচ বিশেষ মহলটি এই বাজেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কারণ তারা দেশের জনগণের কল্যাণ চায় না বলেই বাজেট নিয়ে তাদের এই অবস্থান।’

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনী ইশতেহার তুলে ধরে বলেন, ‘জনগণের কল্যাণে সরকার কাজ শুরু করেছে। আঙুলে দেওয়া ভোটের কালি মোছার আগেই বিএনপি সরকার দেশের কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে সবার জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড প্রদানের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রতি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’

চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী ও চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সরকারের একাধিক মন্ত্রী, এমপিসহ দলের বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলার সিনিয়র নেতারা।

‘শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তায় কৃষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে জাতীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ কৃষক পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ও ইতিবাচক খাত হচ্ছে কৃষি। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি।’

তিনি দেশের কৃষকদের নিরলস পরিশ্রম ও অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘কৃষকদের সম্মান ও প্রণোদনা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি।’

নিজের পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার বাবাও একজন কৃষক ছিলেন। কৃষকদের জীবন-সংগ্রাম আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। সব সময়ই আমি কৃষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। প্রায় দুই দশক আগে কৃষি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে কৃষি খাত নিয়ে সরাসরি কাজ করার সুযোগ হয়েছিল।’

ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃষি ও জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড চালু এবং খাল খননের মতো উদ্যোগগুলো সফল করতে মাঠ পর্যায়ে ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘স্বল্প বেতনে কর্মরত ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তাদের নিজ নিজ জেলায় পদায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যাতে তারা আরো দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।’

বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টারের যাত্রা শুরু

বিদেশে কর্মী প্রেরণে সফল হতে ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বিদেশে কর্মী প্রেরণে সফল হতে ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে যুক্ত করতে হবে : প্রতিমন্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

বিদেশে কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে সফলতা অর্জনে সেই দেশে অবস্থানরত ডায়াস্পোরা কমিউনিটিকে (প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়) সরকারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক পরিচয় নয়, প্রবাসে যারা ব্যবসা, চাকরি বা অন্য খাতে সফল, তাদের খুঁজে বের করে দেশের স্বার্থে কাজে লাগাতে হবে।’

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে রাজধানীর রেনেসাঁস ঢাকা গুলশান হোটেলে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার ডায়ালগ : এডুকেশন টু এমপ্লয়মেন্ট’ শীর্ষক এই আলোচনার যৌথ আয়োজন করে আরভিং এডুকেশন এবং প্রবাসী সেবা লিমিটেড। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার’ (বিজেকেসি)।

জাপানে কর্মী প্রেরণে নেপাল, ফিলিপাইন বা চীনের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় আমরা শেষ সময়ে শুরু করেছি। তবে নেপালের কর্মী প্রেরণের সফলতাটি আমাদের জন্য একটি মডেল হতে পারে। এ বিষয়ে নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও চিঠি দিয়ে ধারণা দিয়েছেন।’

বিগত সময়ের সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘পূর্বে বিভিন্ন সময় যে সরকার আসে, তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় যারা থাকে, তাদেরই দূতাবাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার দেওয়া হতো। যার ফলে ওই দেশে থাকা বিভিন্ন খাতের সফল মানুষদের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক কম থাকে। আমরা এখন চাকরি ও ব্যবসায় সফল প্রবাসীদের খুঁজে বের করে এসব কাজে যুক্ত করার চিন্তা করছি।’

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরতা কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর ১০ থেকে ১৩ লাখ লোক বিদেশে যান, যার ৮০ শতাংশেরই গন্তব্য মিডল ইস্ট। এই একমুখী নির্ভরতা আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি। যেকোনো একটি দেশের নীতি পরিবর্তন হলেই লাখ লাখ পরিবারের জীবন-জীবিকা হুমকিতে পড়বে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধাও বেশিদিন থাকবে না। জাপানসহ ইউরোপের দেশগুলো এখন দক্ষ জনশক্তি খুঁজছে, এখনই প্রস্তুতি না নিলে এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।’

গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও ভাষা বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে একটি কাঠামোগত শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থান করিডর গড়ে তোলার পরামর্শ দেন। 
বক্তারা বলেন, ‘জাপানের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ভাষা দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সনদায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজেকেসির পক্ষে স্বাগত বক্তব্য দেন তাজরিয়া রিশতা রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ)-এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিজেকেসির নির্বাহী পরিচালক কানিজ ফাতিমা।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক তার প্রবন্ধে বলেন, ‘বাংলাদেশের ৪ কোটি ৬০ লাখ তরুণ এবং প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া প্রায় ৬ লাখ ৪৭ হাজার গ্র্যাজুয়েট দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। জাপানে দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বিজেকেসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ-জাপান ক্যারিয়ার সেন্টার (বিজেকেসি) দেশের প্রথম সমন্বিত জাপান-অভিমুখী ক্যারিয়ার ইকোসিস্টেম হিসেবে যাত্রা শুরু করল। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি তরুণদের জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ এবং ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত সব ধরনের সমন্বিত সহায়তা প্রদান করবে।

কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা হলে সন্দেহের চোখে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা হলে সন্দেহের চোখে দেখা হবে : তথ্যমন্ত্রী
ছবি: কালের কণ্ঠ

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জাতিসংঘ এবং আঞ্চলিক ক্ষেত্রে সার্ক-ই হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মূল ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সার্কের ২২০ কোটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার বাইরে, অন্য কোনো শক্তির ওপর ভর করে কৃত্রিম আঞ্চলিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হলে, তাকে সন্দেহের চোখে দেখা হবে।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের মুক্তিযোদ্ধা মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘দেশ পুনর্গঠনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ‘আমরা বাংলাদেশি’ নামের একটি সংগঠন।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘যারা ৫৬ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশে বাংলা ভাষায় কথা বলেন, আর যারা বাইরে কথা বলেন তাদের ভাষা এক হলেও মনোজগতে পার্থক্য রয়েছে। এজন্য সীমান্তের ওপারে কিংবা কলকাতায় গিয়ে বাঙালির সার্টিফিকেট নিতে হবে না। আমরা নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশি।’ এ সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দর্শনকে একটি বিরাট অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘যারা অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার কথা বলছেন, তারা কোনো মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন সেটা ভাবতে হবে। তবে জাতীয় ঐক্যই হচ্ছে আমাদের প্রধান হাতিয়ার।’ দায়িত্বজ্ঞানহীন ও আপত্তিকর মন্তব্য পরিহার করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে সহমত হয়েছে সেগুলো অক্ষরে-অক্ষরে পালন করা হবে। তবে যেসব বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত রয়েছে, সেগুলো এর বাইরে থাকবে। বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করেছে, তাই তারা এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে।’

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম অপপ্রচারের সমালোচনা করে বলেন, ‘অনেকে অপপ্রচার করছে যে বিএনপি সংস্কারের পক্ষে নয় কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে ভিন্ন চিন্তা করছে। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। বিএনপি জুলাই সনদের স্বাক্ষরিত অংশ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে।’ বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সরকার একটি চমৎকার ও জনবান্ধব বাজেট দিয়েছে, যা অতীতে কখনো হয়নি। বিরোধী দল কেবল বিরোধিতার খাতিরেই এর বিরোধিতা করছে এবং রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করছে।’

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘এই সনদে প্রথমে গণভোটের বিষয়টি ছিল না। পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচন যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য একই দিনে গণভোটের বিষয়টি যুক্ত হয়। বিএনপি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর পর ৫ কোটি মানুষ এর পক্ষে রায় দেয়। সংসদে বর্তমানে বিএনপির সদস্য সংখ্যা বেশি থাকায় তারা সংস্কার করতে পারে উল্লেখ করে এই বিষয়গুলো সংসদে আলোচনার তাগিদ দেন তিনি।’

সভাপতির বক্তব্যে আয়োজক সংগঠনের উদ্যোক্তা সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো ভিন্নমত, সেজন্যই সনদে নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। জনগণের ম্যান্ডেট পেয়ে যারা সরকার গঠন করেছে, তারাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি যেভাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেভাবেই হুবহু তা বাস্তবায়ন করবে।’

সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বিএনপি নেতা রাশেদ খান ও মোমিনুল আমিন।