জাকাতের মাধ্যমে কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের জন্য প্রথমত ধর্মীয়ভাবে ফরজ, একই সঙ্গে সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। জাকাত শুধু দান বা দয়া নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য সম্কদের ন্যায্য পুনর্বণ্টন, দারিদ্র্য হ্রাস এবং সামাজিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা। জাকাতের বিস্তার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নানা বিষয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মো. জয়নাল আবেদীন
কালের কণ্ঠ : কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণে ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা কতটুকু?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : জাকাত প্রদানের মাধ্যমে কল্যাণমূলক কাজে অংশগ্রহণ করা ব্যবসায়ীদের জন্য ধর্মীয়ভাবে ফরজ এবং সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। জাকাত শুধু দান নয়; এটি সম্কদের পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানো, অর্থনৈতিক ভারসাম্য আনা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কার্যকর উপায়। ব্যবসায়ীরা সমাজের সম্কদ ও শ্রমের ওপর ভিত্তি করে মুনাফা অর্জন করেন বলে তাঁদের দায়বদ্ধতা আরো বেশি। তবে এই দায়িত্ব শুধু জাকাত দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; সঠিক হিসাব, স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জাকাতের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করাও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দায়।
কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত কী ভূমিকা রাখতে পারে?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাকাত সম্কদের পুনর্বণ্টনের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা করে এবং কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে সহায়তার মাধ্যমে স্বনির্ভরতা গড়ে তোলে। তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক সংগ্রহ, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশে দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত একটি কার্যকর অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। এর জন্য চাই প্রচার ও প্রসারের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি।

কালের কণ্ঠ : জাকাত ব্যবস্থাপনায় আপনারা কোন নীতিগত দর্শন অনুসরণ করেন?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : কোরআনে বর্ণিত নীতি অনুসরণ করা হয়। সুরা তাওবায় আট শ্রেণির লোকদের জাকাত দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সেভাবেই জাকাত ম্যানেজমেন্ট হয়ে জাকাত ব্যবস্থাপনায় নীতিগতভাবে ধর্মীয় ন্যায়বিচার, সামাজিক দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেটাই করছি। জাকাত শুধু তাত্ক্ষণিক সহায়তা নয়; বরং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ ও সামাজিক উন্নয়নের উপাদান। সমাজে বৈষম্য হ্রাস এবং সরকারের সোশ্যাল সেফটি নেটের পুরো অর্থ জাকাতের মাধ্যমে জোগান দেওয়া সম্ভব। এর পাশাপাশি আমরা মনে করি, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি জাকাত ব্যবস্থাপনাও দেশ ও জাতির উন্নয়নের জন্য খুবই জরুরি।
কালের কণ্ঠ : সংগ্রহকৃত জাকাতের প্রধান উৎসগুলো কী—ব্যক্তি, করপোরেট, না প্রবাসী বাংলাদেশিরা?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : সব ধরনের উৎস থেকেই আমরা জাকাত সংগ্রহ করি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো ৩৫টি বড় করপোরেট হাউস আমাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাকাত দেয়। কয়েক হাজার জাকাত পেয়ার (দাতা) নিয়মিত আমাদের জাকাত দেন। একই সঙ্গে অনলাইনে সিজেডএমের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশি, এমনকি বিদেশিরাও জাকাত পাঠায় বাংলাদেশিদের।
কালের কণ্ঠ : জাকাতের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয় এবং সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা হয় কোন খাতে?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : আমাদের অনেকগুলো কার্যক্রম রয়েছে; যেমন—দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি চিকিৎসা, জরুরি পুনর্বাসন, ত্রাণ কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণ, গৃহনির্মাণ, শিক্ষাব্যয়, ঋণ পরিশোধ ইত্যাদি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিটি কর্মসূচির আওতায় অনেকগুলো প্রকল্প আছে; যেমন—আমরা ১৫টি স্কুল পরিচালনা করি। এর মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদরাসা ও হিফজুল কুরআন প্রকল্প অন্যতম।
এ ছাড়া জীবিকা নির্বাহের জন্য আমাদের ৬০টির বেশি প্রকল্প রয়েছে। ৪০টি এর মধ্যেই সম্কন্ন হয়েছে, বাকি ২০টি চলমান, যেখানে আমরা জাকাতের অর্থ দিয়ে সহায়তা করে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তার ওপর ভিত্তি করে তারা এখন স্বাবলম্বী।
স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় ৬০টিরও বেশি হেল্থ সেন্টার পরিচালনা করছি বর্তমানে। এর আগে আরো ৪০টি হেল্থ সেন্টার পরিচালনা করেছি; সেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। প্রতিটি প্রকল্প আমরা নিজস্ব জনবল দিয়ে পরিচালনা করে থাকি। এখন পর্যন্ত আমরা ১৮ লাখ মানুষকে সহযোগিতা করেছি।
কালের কণ্ঠ : অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে জাকাত সংগ্রহ কতটা সফল হয়েছে?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের (সিজেডএম) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দেশি, এমনকি বিদেশিরাও জাকাত পাঠায় বাংলাদেশিদের।
কালের কণ্ঠ : জাকাতদাতাদের আস্থা ধরে রাখতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে আমরা জাকাতদাতাদের আস্থা ধরে রাখতে চাই। সব কাজের আপডেট দাতাতের সময় সময় দেওয়া হয়। সিজেডএমের গভর্নিং বোর্ড জাকাত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহ নিশ্চিত করার জন্য শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডের কাছ থেকে অনুমোদন গ্রহণ করে। এ ছাড়া সব জাকাতদাতার কাছে জাকাত বিতরণের হিসাব প্রেরণ করা হয়। খ্যাতনামা অডিট ফার্ম কর্তৃক হিসাব নিরীক্ষা করা হয় এবং তা বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থাপন করা হয়।
কালের কণ্ঠ : জাকাত কোন কোন খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করা হয়?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয় শিক্ষা খাতে মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তিতে। সিজেডএম থেকে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যে লেখাপড়া ও যোগ্যতা বিকাশের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করা হয়। শুধু তা-ই নয়, শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে সঠিকভাবে প্রার্থী বাছাই, তাদের প্রয়োজনমাফিক আর্থিক সহায়তা ও ক্যারিয়ার গঠনে সহায়ক কোর্স পরিচালনা ও কাউন্সেলিং করা হয়।
কালের কণ্ঠ : এককালীন সহায়তার বদলে টেকসই জীবিকাভিত্তিক প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয় কি?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : অবশ্যই। সুবিধাবঞ্চিত বেকার যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান কর্মসূচি রয়েছে আমাদের। এটার উদ্দেশ্য সমাজের সুবিধাবঞ্চিত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের জন্য সক্ষম করে তোলা। যেসব যুবক ও যুব মহিলা আর্থিক সংকটের কারণে লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে বেকার জীবন যাপন করছেন, তাদের জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া।
কালের কণ্ঠ : একজন উপকারভোগী কিভাবে নির্বাচিত হন? এই প্রক্রিয়াটা কতটা স্বচ্ছ?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : সিজেডএমের গভর্নিং বোর্ড জাকাত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহ নিশ্চিত করার জন্য শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ডের কাছ থেকে অনুমোদন গ্রহণ করে।
কালের কণ্ঠ : জাকাত ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এ পর্যন্ত কত পরিবার স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : প্রতিটি প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষকে আমরা সহায়তা করি। এ রকম ১০০টির বেশি প্রকল্প নিয়ে আমরা কাজ করেছি। এগুলোর মধ্যে একটি সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট দরিদ্র পরিবারে পুরুষের পাশাপাশি নারীর হাতকেও উপার্জনের হাত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণসহ সেলাই মেশিন প্রদানের ব্যবস্থা করছে। এতে প্রশিক্ষণ বাবদ জনপ্রতি ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। বর্তমানে একটি সেলাই মেশিন ক্রয়ে আট হাজার টাকা এবং একটি গার্মেন্টস সেলাই মেশিন ক্রয়ে ৪৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হয়। সিজেডএম এ পর্যন্ত সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে এক হাজার ৬৫০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে পুনর্বাসন করেছে।
কালের কণ্ঠ : জাকাতের অর্থ ব্যবহারে অডিট ও তদারকি কিভাবে করা হয়?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সিজেডএম শরিয়াহর বিধি-বিধান অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড গঠন করেছে। এ ছাড়া অ্যাকাউন্ট ও কার্যাবলি অডিট সম্কাদন করা হয়, অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি অডিট করে, পেশাদার অডিট ফার্ম কর্তৃক বার্ষিক নিরীক্ষিত ব্যালান্সশিট প্রস্তুত করা, বার্ষিক নিরীক্ষিত ব্যালান্সশিট ও আর্থিক বিবরণী বার্ষিক সাধারণ সভায় পেশ করা, বার্ষিক নিরীক্ষিত ব্যালান্সশিট ও আর্থিক বিবরণী সিজেডএমের ওয়েবসাইটে আপলোড করা, জাকাত বিতরণের ত্রৈমাসিক হিসাব বিবরণী সব জাকাতদাতার কাছে প্রেরণ, জাকাত ও অন্য তহবিল সঠিকভাবে বরাদ্দের জন্য স্বতন্ত্র জাকাত বিতরণ কমিটি, সিজেডএমের হিসাব সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়।
কালের কণ্ঠ : জাকাতদাতারা কিভাবে জানতে পারেন তাঁদের জাকাত কোথায় খরচ হচ্ছে?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : বার্ষিক নিরীক্ষিত ব্যালান্সশিট ও আর্থিক বিবরণী সিজেডএমের ওয়েবসাইটে আপলোড করা এবং জাকাত বিতরণের ত্রৈমাসিক হিসাব বিবরণী সব জাকাতদাতার কাছে প্রেরণ করা হয় মেসেজ ও ই-মেইলের মাধ্যমে। এভাবেই তাঁরা জানতে পারেন।
কালের কণ্ঠ : জাকাত ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : সচেতনতার অভাব। পাশাপাশি আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই জাকাতের বিষয়ে বিস্তারিত জানে না; যেমন—আমাদের দেশের বেশির ভাগ মা-বোনের দেনমোহর পরিশোধ করা হয় না। মা-বাবা মারা গেলে তাঁদের জমি-সম্কত্তি ঠিকভাবে বণ্টন করে বোনদের দেওয়া হয় না; ভাইয়েরা রেখে দেয়। এগুলো ঠিকভাবে বিতরণ করা হলে অনেক মা-বোন জাকাত দিতে পারবেন।
কালের কণ্ঠ : আগামী পাঁচ বছরে জাকাত ফাউন্ডেশনের প্রধান লক্ষ্য কী?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে চাই। কারণ বাংলাদেশের দারিদ্র্য দূরীকরণে জাকাত হতে পারে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হলে বিদেশি সহায়তা ছাড়াই দেশের টাকায় দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব।
কালের কণ্ঠ : নতুন প্রজন্মকে জাকাত ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় যুক্ত করতে কি উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : অবশ্যই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও জাকাতের গুরুত্ব ও তাৎপর্য বোঝানোর জন্য বিভিন্ন কাজ করছি। সভা-সেমিনার, পোস্টার বা লিফলেটসহ আরো অনেক আয়োজন রয়েছে আমাদের।
কালের কণ্ঠ : নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে আপনার মূল বার্তা কী?
মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া : জাকাত ফান্ডে দান করলে এখন যেমন ১৫ শতাংশ ট্যাক্স রিবেট রয়েছে, আমরা চাই এটা অব্যাহত থাকুক। প্রয়োজনে এটা আরো বাড়ানো হোক। সরকারসহ জাকাত ব্যবস্থাপনার এই মহান কাজটি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রয়াসের ওপর এর সফলতা নির্ভর করছে। সমাজ থেকে দারিদ্র্যের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য মুছে দেওয়ার কাজটি কোনো একক ব্যক্তির দায়িত্ব হতে পারে না। এই দৈন্যদশা মোচনের জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। আমরা সব আগ্রহী মুসলমানকে সিজেডএমের মতো একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়ে জাকাতের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার কাজটি আঞ্জাম দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। এর মাধ্যমে আমাদের সমাজের হতদরিদ্র মানুষের জীবনে টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে। আসুন, আমাদের প্রিয় দেশটির হতভাগ্য মানুষের পাশে দাঁড়াই; তাদের দুঃখ-দুর্দশা উপলব্ধি করার চেষ্টা করি এবং সুপরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ করে দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখি।



বাংলাদেশে কৃষকের হাতে থাকে প্রায় ৩০ শতাংশ, আর ৭০ শতাংশ মূল্য বিভিন্ন স্তরে হারিয়ে যায় অনিয়ন্ত্রিত পরিবহনব্যবস্থা, হাতবদল, চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া কোনো ধরনের বাজারস্থিরতা সম্ভব নয়।


