kalerkantho

সোমবার । ২২ আষাঢ় ১৪২৭। ৬ জুলাই ২০২০। ১৪ জিলকদ  ১৪৪১

স্লুইচ গেটের নির্মাণকাজ অর্ধেক করে ঠিকাদার উধাও!

সাগরের লোনা পানিতে সয়লাব সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্লুইচ গেটের নির্মাণকাজ অর্ধেক করে ঠিকাদার উধাও!

পুরনো স্লুইচ গেটের ভাঙা অংশ দিয়ে ঢোকা সাগরের লোনা পানিতে নষ্ট হচ্ছে জমির ফসল। ছবি : কালের কণ্ঠ

সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুরে সাগর উপকূলীয় খালে একটি স্লুইচ গেটের নির্মাণকাজ অর্ধেক করে উধাও হয়ে গেছে ঠিকাদার। এদিকে ভাঙা অংশ দিয়ে এখন নিয়মিত সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঢুকছে সাগরের লোনা পানি। ফলে ফসল নষ্ট হয়ে ব্যাপক ক্ষতির শিকার হচ্ছে স্থানীয় কৃষকরা। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর এলাকায় বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পুরনো একটি স্লুইচ গেট জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বর্ষায় জোয়ারের পানি ওই এলাকায় প্রবেশ করত। এর ফলে এলাকার ফসলি জমি, বাড়িঘর লোনাপানিতে প্লাবিত হয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি হত সর্বত্র। ফলে স্লুইচ গেটটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল স্থানীয়রা। এর গুরুত্ব উপলব্ধি করে পাউবো এটি সংস্কারে ঠিকাদার নিয়োগ করে। ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে এটির নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুইসকিড ইন্টারন্যাশনাল। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে জুনের মধ্যে স্লুইচ গেট নির্মাণ সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু নামমাত্র কয়েকদিন কাজ করে পুরনো গেট ভাঙার পর হঠাৎ উধাও হয়ে যায় ঠিকাদারের লোকজন। এর ফলে কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।

সরেজমিনে সৈয়দপুরের বগাচতর গ্রামে স্লুইচ গেট এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন স্লুইচ গেটটি এলাকাবাসীর গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন দুবার জোয়ারের সঙ্গে সাগর থেকে লোনা পানি ঢোকে গ্রামের জমি ও বসতঘরে। অনেক বাড়িঘর ডুবে থেকে এখন কদর্মাক্ত হয়ে পড়েছে। অন্য দিকে চাষাবাদ অনেকটা বন্ধের মুখে।

বগাচতর গ্রামের কৃষক মো. মামুন, আবচারসহ অনেকে জানান, আগের স্লুইচ গেট জরাজীর্ণ থাকলেও এত বেশি সমস্যার কারণ হয়নি। এখন নির্মাণের নামে পুরোপুরি ভেঙে ফেলায় এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিদিন দুবার জোয়ারের পানি প্রবেশ করে গ্রামে। এতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ঘরে রান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁরা বলেন, ঠিকাদার কাজ শুরু করেই উদধাও হয়ে যায়। এখন আর কেউ এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না। মাঝখানে আমরা গ্রামবাসী সমস্যায় ভুগছি। আমরা দ্রুত কাজটি শেষ করার দাবি জানাই।

স্লুইচ গেটের কাজ শেষ না হওয়ায় গ্রামবাসীর দুর্ভোগের কথা জানিয়ে সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, ‘সাগর থেকে ওই গেট দিয়ে এলাকায় পানি ঢোকে। তাই কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার ছিল। কিন্তু কাজের নামে পুরনো স্লুইচ গেটটি ভেঙে রেখে ঠিকাদার উধাও হয়ে যাওয়ায় গ্রামবাসী সমস্যায় পড়েছে।’ এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদেরও তেমন কোনো দায়িত্বশীল ভূমিকা চোখে পড়ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হুইসকিড ইন্টারন্যাশনালের ঠিকাদার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আসলে এই কাজে যত টাকা বরাদ্দ দরকার ছিল তত টাকা বরাদ্দ ছিল না। এ কারণে আমরা সমস্যায় পড়েছিলাম। এখন বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে বলে আমাদের নিশ্চিত করায় আমরা নতুন নকশায় কাজ শুরু করব।’ দ্রুততম সময়ে কাজটি শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।

সীতাকুণ্ড পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘কেন কাজ বন্ধ ছিল সে বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করব না। তবে এখন কর্তৃপক্ষ আবার কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। ঠিকাদারি সংস্থার লোকজন নিয়ে আমি ওই এলাকায় গিয়েছিলাম।’ আগামী বর্ষার আগেই কাজটি সম্পন্ন করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য