• ই-পেপার

উদ্ভাবনী সেবায় রেমিট্যান্সে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক

  • রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। মধ্যপ্রাচ্যসহ শ্রমিকপ্রধান দেশগুলোতে প্রবাসীদের আস্থার শীর্ষে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওমর ফারুক খাঁন। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি

রেমিট্যান্সে যুক্তরাষ্ট্রের ১% কর ২০২৬ সাল থেকে

বাণিজ্য ডেস্ক
রেমিট্যান্সে যুক্তরাষ্ট্রের ১% কর ২০২৬ সাল থেকে

বাণিজ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপের পর এবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ১ শতাংশ কর আরোপ করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ও সিনেটে অনুমোদিত ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট-এর ক্ষমতাবলে এ কর আরোপ করা হবে। যদিও শুরুতে ৫ শতাংশ কর আরোপ করার কথা থাকলেও পরে চূড়ান্তভাবে অনুমোদন হয় ১ শতাংশ। এ আইন কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশিসহ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে বৈধপথে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সপ্রবাহও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট অনুযায়ী, যেসব মানি ট্রান্সফার যেমন ক্যাশ, মানি অর্ডার বা ক্যাশিয়ারস চেক সেন্ড করা হয় বিদেশে, সে ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ফেডারেল রেমিট্যান্স কর আরোপ করা হবে। এই ১ শতাংশ রেমিট্যান্স কর কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে।

কর কোথায় প্রযোজ্য নয় : ব্যাংক থেকে ডিজিটাল ট্রান্সফার বা যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুকৃত ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে পাঠানো টাকাএসব ক্ষেত্রে কর আরোপ করা হবে না।

কর কে সংগ্রহ করবে : এই কর সংগ্রহ করবেন মানি ট্রান্সফার সার্ভিস প্রোভাইডার এবং তা পরবর্তী সময়ে আইআরএস এ জমা দেবে। যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ও সিনেটে প্রথমে ৫ শতাংশ করের প্রস্তাব এলেও চূড়ান্ত আইন অনুযায়ী সেটা ১ শতাংশে ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে।

 

দেশের রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের রেমিট্যান্সে শীর্ষে সৌদি আরব

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নতুন এক মাইলফলকে পৌঁছেছে দেশের প্রবাসী আয়। অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই বৈদেশিক আয় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সপ্রবাহ। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, এই রেকর্ড রেমিট্যান্স আয়ের সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে সৌদি আরব।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে শুধু সৌদি আরব থেকেই বাংলাদেশে এসেছে প্রায় সাত থেকে আট বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা মোট বৈদেশিক আয়ের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীর সংখ্যা প্রায় ২৫ লাখ, যদিও বেসরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। গৃহকর্ম, নির্মাণ, কৃষি, পরিষেবা, রেস্টুরেন্ট, ট্রান্সপোর্টসহ বিভিন্ন খাতে এই বিপুলসংখ্যক কর্মী নিযুক্ত রয়েছেন।

এই রেমিট্যান্সপ্রবাহে সৌদি আরবের নেতৃত্ব দেওয়ার পেছনে রয়েছে কয়েকটি প্রধান কারণ। প্রথমত, কর্মীর বিপুল সংখ্যা; দ্বিতীয়ত, এই কর্মীদের একটি বড় অংশ নিয়মিত বেতনভুক্ত এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে বৈধভাবে টাকা পাঠানো। তৃতীয়ত, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ সহজ এবং দেশটির ব্যাংকিং অবকাঠামো শক্তিশালী হওয়ায় অর্থ পাঠানোও সহজ। ফলে হুন্ডির চেয়ে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা সেখানে বেশি দেখা যায়।

তা ছাড়া সৌদি আরব ইসলামের পবিত্র স্থান হওয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের মধ্যে সেখানে কাজ করার প্রতি অতিরিক্ত একটি সামাজিক ও ধর্মীয় অনুপ্রেরণা রয়েছে। এতে তাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে অবস্থান করে নিয়মিত রেমিট্যান্স পাঠান।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকারের মধ্যে শ্রমবাজার বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা ও চুক্তির কারণে কয়েক বছর ধরে রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়া অনেকটাই স্বচ্ছ ও স্থিতিশীল হয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড, বিএমইটি ও দূতাবাসের সমন্বয়ে পরিচালিত এসব উদ্যোগ প্রবাসীদের বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে উৎসাহিত করেছে।

চলতি বছরের জুন মাসে দেশে এসেছে ২৮২ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ৩৪ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে)। শুধু সৌদি আরব থেকেই এসেছে ৪৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা মাসটির রেমিট্যান্স উৎসর তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য (৩৬ কোটি ২০ লাখ), মালয়েশিয়া (৩৫ কোটি ৮৮ লাখ), আরব আমিরাত (৩২ কোটি ৩৯ লাখ), যুক্তরাষ্ট্র (২৩ কোটি ৮১ লাখ)। এরপর আছে ওমান, ইতালি, কুয়েত, কাতার ও সিঙ্গাপুর। এপ্রিলে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ডলার। সেই মাসেও সৌদি প্রবাসীরা ৪৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার পাঠিয়ে শীর্ষে ছিলেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল আরব আমিরাত (৩৭ কোটি ২১ লাখ)। এরপর ছিল যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কুয়েত, ইতালি, ওমান, সিঙ্গাপুর ও কাতার। বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী বিদেশে পাঠানো হলে এবং হুন্ডির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি ভারতের মতো কর্মী বাজার ধরতে পারলে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক আয় অর্জনও অসম্ভব নয়। কারণ ভারতের প্রবাসীরা একই ধরনের কাজে বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ আয় করেন, শুধু দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের কারণে।

সার্বিকভাবে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সৌদি আরব, বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য রেমিট্যান্সখনি। এই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার করতে পারলে রেমিট্যান্স হতে পারে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।

 

রেমিট্যান্স পাঠানোর সহজ ইকোসিস্টেম করেছে বিকাশ

দেশে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ, দ্রুত, নিরাপদ ও কাগজপত্রের ঝামেলামুক্ত করেছে মোবাইল আর্থিক সেবা। ফলে প্রবাসীদের কাছে এ সেবা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে কথা বলেন বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ

রেমিট্যান্স পাঠানোর সহজ ইকোসিস্টেম করেছে বিকাশ
আলী আহম্মেদ, চিফ কমার্শিয়াল অফিসার, বিকাশ

রেমিট্যান্স পাঠানো কতটা সহজ করতে পেরেছে মোবাইল আর্থিক সেবা?

প্রথাগত পদ্ধতিতে কিছুটা সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে হয়। এখন প্রবাসীরা চাইলে এমএফএসের মাধ্যমে যেকোনো মুহূর্তে, দ্রুত ও সহজে দেশে থাকা তাদের প্রিয়জনদেন কাছে টাকা পাঠাতে পারছেন। প্রেরক যেমন খুব সহজে টাকা পাঠাতে পারছেন, তেমনি প্রাপককে কোথাও যেতে হচ্ছে না, লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না, সরাসরি হাতে থাকা মোবাইল অ্যাকাউন্টেই টাকাটা পৌঁছে যাচ্ছে। এমএফএসের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানো। দেশে থাকা পরিবার-পরিজনের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বিদেশে বসে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ তাদের বিকাশ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে পারছেন প্রবাসীরা। এমনকি ছুটির দিনেও তাঁরা টাকা নিতে পারছেন এবং টাকা মোবাইল অ্যাকাউন্টে আসার পরপরই তাদের প্রয়োজনমতো খরচও করতে পারছেন। ফলে প্রবাসী ও তাদের প্রিয়জন-উভয়ের জন্যই এটি অত্যন্ত কার্যকর সেবা হয়ে উঠেছে।

 

বিকাশের মাধ্যমে কত দেশ থেকে রেমিট্যান্স আসছে?

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ১৪০টিরও বেশি দেশ থেকে শতাধিক আন্তর্জাতিক মানি ট্রান্সফার অপারেটরের (এমটিও) মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন প্রবাসীরা, যা দেশের ২৫টি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংকে নিষ্পত্তির (সেটলমেন্ট) মাধ্যমে নিমেষেই পৌঁছে যাচ্ছে প্রিয়জনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে। এ পর্যন্ত দেশে থাকা প্রিয়জনের ৪০ লাখেরও বেশি বিকাশ অ্যাকাউন্টে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্স সবচেয়ে সহজে তাঁর প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিতে ধারাবাহিকভাবে নানা সুবিধা যুক্ত করে চলেছে বিকাশ।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স আনতে বিশেষ করে হুন্ডি প্রতিরোধে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো কী ভূমিকা রাখছে এবং প্রবাসীদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা কেমন?

অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের রেমিট্যান্স মোকাবেলা অর্থনীতির জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। প্রবাসীরা অনেক সময় কাগুজে প্রক্রিয়া এড়াতে কিংবা সময়ের অভাবে অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি বেছে নেয়।  তাদের জন্য রেমিট্যান্স পাঠানোর সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর ইকো সিস্টেম তৈরি করেছে বিকাশ। লাস্ট মাইল সলিউশন প্রোভাইডার হিসেবে বিকাশে পাঠানো রেমিট্যান্স হাতে পৌঁছে যাওয়ায় প্রবাসীর পরিবার-প্রিয়জনদের জীবনমান বাড়ছে। সহজে এই রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ অবৈধ পথে অর্থ পাঠানোকে নিরুৎসাহ করছে। সংক্ষেপে, স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা ও দ্রুততার কারণে প্রবাসীদের মাঝে এমএফএস সেবা জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শুধু তা-ই নয়, বিদেশ থেকে দ্রুত রেমিট্যান্স পাঠাতে পারা এবং তা হাঁটা দূরত্বে বাড়ির পাশের এজেন্ট পয়েন্ট থেকে তুলতে পারায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিকাশের রেমিট্যান্স সেবা।

বিকাশে রেমিট্যান্স পাঠালে দেশে থাকা স্বজনদের কী সুবিধা হয়? তাদের দৈনন্দিন লেনদেনে কি পরিবর্তন আসছে?

একটা গল্প বলি, কোনো এক ঝড়ের রাতে গ্রামের এক সন্তানসম্ভাবনা নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেই রাতে জরুরি অপারেশনের জন্য তাৎক্ষণিক বিকাশে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে টাকা পাঠান তাঁর প্রবাসী স্বামী। এ রকম অসংখ্য গল্প বলা যাবে। শত প্রয়োজনে বিকাশ এখন সব পরিবারের সঙ্গী। এখন প্রবাসীর স্বজনরা বিকাশে আসা রেমিট্যান্সের টাকা দিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকেই মোবাইল রিচার্জ, সেভিংস, কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, এনজিওর কিস্তি দেওয়া, স্কুল-কলেজের ফি পরিশোধসহ প্রয়োজনমতো টাকা উত্তোলন করাসহ অসংখ্য কাজে ব্যবহার করতে পারছেন। এটি শুধু আর্থিক সুরক্ষা নয়, দৈনন্দিন জীবনেও স্বাচ্ছন্দ্য এনেছে। নগদ টাকার ঝামেলা কমেছে এবং নারী সদস্যরাও সরাসরি টাকা ব্যবহার করতে পারছেন, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

বৈধ পথে রেমিট্যান্স বাড়াতে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরো কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে?

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঠিক দিকনির্দেশনা, ব্যাংকের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিতরণ সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ডিজিটাল চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অবৈধ দেনদেন প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি করতে হবে। একই সঙ্গে, প্রবাসীরা যাতে বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহী হয়, সে জন্য সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা আরো জোরদার করতে হবে।

‘অগ্রণী রেমিট’ অ্যাপ সেবা আরো দেশে চালু করা হবে

রেমিট্যান্স সংগ্রহের দিক থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে অগ্রণী ব্যাংক। প্রবাসীদের আকর্ষণে রেমিট্যান্স সেবার পরিধি আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি। এসব বিষয়ে কালের কণ্ঠের সঙ্গে কথা বলেছেন অগ্রণী ব্যাংকের এমডি এবং সিইও মো. আনোয়ারুল ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মো. জয়নাল আবেদীন

‘অগ্রণী রেমিট’ অ্যাপ সেবা আরো দেশে চালু করা হবে
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, এমডি ও সিইও, অগ্রণী ব্যাংক

কত দেশে অগ্রণী ব্যাংকের রেমিট্যান্স আহরণ কার্যক্রম আছে?

বিশ্বের ২১টি দেশের ৮৬টি এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে অগ্রণী ব্যাংকের চুক্তি রয়েছে। বৈশ্বিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকে বিশ্বের প্রায় ২০০টির অধিক দেশ থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণের সুবিধা রয়েছে। বিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে অগ্রণী ব্যাংক দ্রুততম সময়ে গ্রাহকসেবা প্রদান করায় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসমূহের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সব ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪ সালে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাপ্ত বৈদেশিক রেমিট্যান্সের পরিমাণ ২০২৩-এর তুলনায় ৬৩.৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ১৮০ কোটি মার্জিন ডলারের রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে অগ্রণী ব্যাংক। যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৭.৪৫ শতাংশ। আমরা আশা করছি সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যংকের দিকনির্দেশনার আলোকে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সক্ষম হব।

 

রেমিটারদের অগ্রণী ব্যাংক কী সুবিধা দিচ্ছে?

অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো রেমিটারদের কষ্টার্জিত অর্থ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। কারণ সরকারি ব্যাংক হিসাবে তাদের পাঠানো ডিপোজিটের জন্য সোভঅরিং গ্যারান্টি রয়েছে। গ্রাহক তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষায় অগ্রণী এক্সচেঞ্জ হাউস প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অগ্রণী ব্যাংকের রেমিট্যান্স সেবা প্রদানের জন্য অগ্রণী ব্যাংকের ৯৭৯টি শাখা সব সময় নিবেদিতপ্রাণ।

 

হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা এখনো একটা বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অগ্রণী ব্যাংক কী ধরনের কৌশল গ্রহণ করেছে?

অগ্রণী ব্যাংক বিভিন্ন সময়ে বাজার বিশ্লেষণ করে প্রবাসীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক এবং আকর্ষণীয় রেট প্রদান করে, যাতে তারা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উৎসাহিত হন। এ ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রেমিট্যান্স লেনদেনকে দ্রুত ও ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য সিস্টেম আপগ্রেড করা হয়েছে। এতে প্রবাসীরা সহজেই পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারেন। হুন্ডির ক্ষতিকর দিক তুলে ধরতে অগ্রণী ব্যাংক সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান পরিচালনা করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নিয়মিত প্রচার চালানো হয়। বিদেশে অনুষ্ঠিত প্রবাসী মেলাতে অংশ নিয়ে প্রবাসীদের কাছে সরাসরি বৈধ রেমিট্যান্সের গুরুত্ব ও সুবিধা তুলে ধরা হয়।

রেমিট্যান্স আহরণে প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা কার্যকর হয়েছে বলে আপনি মনে করেন? অগ্রণী ব্যাংক কী ধরনের ডিজিটাল সেবা দিচ্ছে?

প্রযুক্তি রেমিট্যান্স সেবায় একটি বিপ্লব এনেছে। অগ্রণী ব্যাংক রেমিট্যান্স সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটালি এনাবল করে তুলেছে, যার ফলে গ্রাহকসেবার গতি, নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা অনেক বেড়েছে। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স অগ্রণী ব্যাংক ব্যতীত অন্যান্য ব্যাংকের বেনিফিশিয়ারির অ্যাকাউন্টে বিইএফটিএন-এর মাধ্যমে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণাৎ জমা করার সুবিধা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় অগ্রণী রেমিট মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে প্রবাসীরা ঘরে বসেই যেকোনো সময়ে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। উক্ত অ্যাপের মাধ্যমে দৈনিক আপডেট এক্সচেঞ্জ রেট জানার ব্যবস্থা রয়েছে।

নারী প্রবাসীদের সুবিধা দেওয়া বা অপ্রচলিত দেশ থেকে রেমিট্যান্স আহরণে অগ্রণী ব্যাংকের ভূমিকা কী?

প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে অগ্রণী ব্যাংক বিভিন্ন এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে যৌথভাবে প্রমোশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করে। ফরেন রেমিট্যান্স ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী শাখার মাধ্যমে গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। অপ্রচলিত দেশ হতে রেমিট্যান্স আনার লক্ষ্যে অগ্রণী ব্যাংক যেসব বৈশ্বিক মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান আছে তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রেমিট্যান্স সেবা অব্যাহত রেখেছে। নারী প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে হিসাব খোলার সুবিধা ও বিশেষ সঞ্চয় প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেমিট্যান্স সংগ্রহ বাড়াতে অগ্রণী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

রেমিট্যান্স আহরণ বাড়াতে আমরা বিভিন্ন দেশের স্থানীয় রেমিটেন্স কম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্ব বাড়াচ্ছি। মালয়েশিয়ায় আমাদের ছয়টি শাখা আছে। আমরা সেখানে প্রবাসীদের আরো সহজতর উপায়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্য এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপন করছি। অগ্রণী ব্যাংকের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ চালু বা উন্নত করা হবে, যাতে প্রবাসীরা রেমিট্যান্সের অবস্থা ট্র্যাক করতে পারে, রেট ও ইনসেনটিভ দেখতে পারে এবং অভিযোগ জানাতে পারে।

নানা উদ্যোগের মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংক শুধু রেমিট্যান্স আহরণ বাড়ানোরই লক্ষ্য রাখছে না, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে একটি স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় যাতে তারা ভবিষ্যতেও অগ্রণী ব্যাংককে তাদের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এ ছাড়া ব্যাংকের অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে দ্রুতগতিতে। যেমনআমানত সংগ্রহ, নতুন অ্যাকাউন্ট ওপেনিং, রিকভারি, ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ডাউন পমেন্ট শর্ত পূরণ করে ঋণ পুনঃ তফসিলও করা হচ্ছে।

 

উদ্ভাবনী সেবায় রেমিট্যান্সে শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক | কালের কণ্ঠ