• ই-পেপার

জুলাই আন্দোলনে হামলার অভিযোগে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

দীঘিনালায় যুবলীগের ২ নেতা আটক

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি
দীঘিনালায় যুবলীগের ২ নেতা আটক
সংগৃহীত ছবি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নিষিদ্ধ যুবলীগের ২ নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (২২ জুন) রাতে তাদের আটক করে সোমবার (২২ জুন) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আটকরা হলেন- মেরুং ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি, ছোটমেরুং বাজার এলাকার ৩ নম্বর কলোনির মৃত চান মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল হান্নান (৪৫) এবং মেরুং ইউনিয়ন দক্ষিণ শাখার সহসভাপতি হাজাছড়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৩০)। দুজনকেই নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি দীঘিনালা থানায় দায়ের করা একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রামগঞ্জে মেহেদী হত্যা মামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
রামগঞ্জে মেহেদী হত্যা মামলায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৪) হত্যা মামলায় এক শিক্ষক ও এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তবে তদন্তের স্বার্থে গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী বলেন, একজন শিক্ষক ও একজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন বিকেলে রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক হল থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পিঠ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকসহ কয়েকটি কক্ষে ভাঙচুর চালায়। নিহত মেহেদী রামগঞ্জ উপজেলার সোনাপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জিয়া উদ্দিনের ছেলে।

এ ঘটনায় ১৮ জুন নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানসহ সাত শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ১০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, একটি আইফোন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিযুক্ত কয়েকজন শিক্ষার্থীর মারধরের শিকার হয়ে মেহেদীর মৃত্যু হয়।

এদিকে ঘটনার পর অধ্যক্ষ খন্দকার আব্দুল মান্নানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার স্থলে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক শরীফুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ফরিদপুরে বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ইউপি সচিব নিহত, আহত ৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে বাস-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ইউপি সচিব নিহত, আহত ৫
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মো. রিবুল হোসেন (৪২) নামে এক ইউপি সচিব নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসের অন্তত পাঁচ যাত্রী আহত হয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) সকালে সদর উপজেলার করিমপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সদরের ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও পাশের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের আমগাছিয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গত কয়েক মাস আগে বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বদলি হয়ে ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা ফরিদপুরগামী একটি লোকাল বাস করিমপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। একই সঙ্গে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. রিবুল হোসেন গুরুতর আহত হন। এছাড়া বাসে থাকা অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিবুল হোসেন মারা যান।

নিহতের সহকর্মীরা জানান, তিনি দায়িত্বশীল, সৎ ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে করিমপুর হাইওয়ে থানার ওসি মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রিবুল নামে একজন মারা যায়। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

মধুখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট

ফরিদপুর ও মধুখালী প্রতিনিধি
মধুখালীতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালামাল লুট

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার হাটঘাটা গ্রামের একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতে ১৩ থেকে ১৪ জনের সশস্ত্র ডাকাত দল বাড়ির দরজা ভেঙে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

গতকাল রবিবার রাত দেড়টার দিকে উপজেলার হাটঘাটা গ্রামের হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির মালিক মো. খাইরুল ইসলাম মোল্লা প্রতিদিনের মতো পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে দরজায় শব্দ শুনে তিনি ও তার স্ত্রী এগিয়ে গেলে একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে।

ডাকাতরা প্রথমেই পরিবারের ১৫ বছর বয়সী ছেলে মাহিকে বেঁধে ফেলে। পরে খাইরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে রাখে। প্রায় আধাঘণ্টা ধরে ঘরের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কার, নতুন কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ টাকা বলে দাবি করেছে পরিবারটি।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ডাকাতরা পাশের আরো কয়েকটি বাড়িতে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং দরজায় আঘাত করে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার সকালে মধুখালী থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে সোমবার সকালে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজম খান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা। সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান মালামাল লুট করেছে। আমিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। 

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে ঘটনার পর হাটঘাটা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতের নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।