• ই-পেপার

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে : স্পিকার

অনলাইন ডেস্ক
বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে : স্পিকার
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের আয়োজন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। জাতীয় বাজেট ও সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রবিবার (২১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে ‘বাজেট হেল্পডেস্ক-২০২৬’এর অধীনে আয়োজিত বাজেট বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বর্তমানে রাজস্ব আহরণ, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তথ্য-উপাত্তভিত্তিক বাজেট বিশ্লেষণে বাজেট হেল্পডেস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সংসদ সদস্যদের সংসদ লাইব্রেরির সুযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি আর্থিক নীতি ও কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা অর্জনের আহ্বান জানান তিনি।

ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই সংসদ একটি ব্যতিক্রমী সংসদ এবং জনগণের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তথ্যভিত্তিক সংসদ গঠনে বাজেট ডিব্রিফিং সেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সরকার একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত বাজেট হেল্পডেস্ক সংসদ সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, হুইপ, আমন্ত্রিত সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্পিকার অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট ডিব্রিফিং সেশনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে : মৎস্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে : মৎস্যমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। তিনি আজ রবিবার (২১ জুন) সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী দেশে মাথাপিছু দৈনিক ৬০ গ্রাম মাছের চাহিদা হিসেবে বার্ষিক চাহিদা দাঁড়ায় ৩৮.০৯ লাখ মেট্রিক টন। অথচ একই সময়ে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫১.১১ লাখ মেট্রিক টন, ফলে দেশে মাছের কোনো ঘাটতি নেই।

তিনি আরো জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট মৎস্য উৎপাদনের তুলনায় আমদানীকৃত মাছের পরিমাণ মাত্র প্রায় ১ শতাংশ। এ সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির ৫৫ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন মাছ আমদানি করা হয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকা।

মন্ত্রী বলেন, দেশে মাছের ঘাটতি নেই এবং সাধারণ ভোক্তার জন্য আমদানির প্রয়োজন হয় না। তবে বিশেষ ভোক্তা গোষ্ঠীর চাহিদা ও রুচি পূরণের জন্য সীমিত পরিসরে কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ আমদানি করা হয়।
তিনি জানান, আমদানীকৃত মাছের মধ্যে রয়েছে টুনা, হেরিং ফিশ, রূপচাঁদা, ম্যাকেরেল, ছুরি, স্ন্যাপার, কিং ফিশ, স্কুইড, অক্টোপাসসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রজাতি।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের মৎস্য খাতকে টেকসই ও উৎপাদনমুখী রাখতে সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে।

ভারত-বাংলাদেশজুড়ে জিয়াউলের ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ ছিল : চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক
ভারত-বাংলাদেশজুড়ে জিয়াউলের ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ ছিল : চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে একটি ‘কিলিং নেটওয়ার্ক’ সক্রিয় ছিল।

রবিবার (২১ জুন) ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ এক সেনা কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার সাক্ষ্যগ্রহণ এখনো চলমান রয়েছে এবং এতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, সাক্ষ্য দেওয়া সেনা কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালের সামনে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর বর্ণনা তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে একটি ছিল জিয়াউলের জাফলং অপারেশন। অর্থাৎ র‍্যাবের টিএফআই সেল থেকে দুজন আসামিকে নিয়ে জিয়াউলের নেতৃত্বে জাফলংয়ে গিয়েছিলেন সাক্ষীসহ আরো কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। জাফলংয়ে যাওয়ার পর আরো দুজন আসামিকে নিয়ে আসেন ভারত থেকে আসা সাদা পোশাকের কিছু লোকজন। এরপর এসব আসামিদের বিনিময়ের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়।

সাক্ষীর বিবরণের বরাতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ভারত থেকে আনা দুজনকে রাস্তায় মাথায় গুলি চালিয়ে হত্যা করেন জিয়াউল আহসান। এভাবেই তিনি হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। ভারতের লোকজনকে জিয়াউল আহসানের অনুসারীরাই হয়তো নিয়ে আসতেন। তারা কোনো দলের বা কোনো বাহিনীর হতে পারে। অর্থাৎ জিয়াউলের এই কিলিং নেটওয়ার্ক ভারত ও বাংলাদেশজুড়ে ছিল। তবে ভারত থেকে সাদা পোশাকে আসা লোকজন যে দুজন ব্যক্তিকে হস্তান্তর করেছিলেন, তারা কি ভারতের নাকি বাংলাদেশের নাগরিক তা যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়নি।

তিনি উল্লেখ করেন, বিডিআরের বিভিন্ন সদস্যদের ধরে এনে দুটো পদ্ধতিতে হত্যা করেছেন জিয়াউল আহসান। এর মধ্যে কাউকে ইনজেকশন পুশ করে, আবার কাউকে মাথায় গুলি করে হত্যার পর নদীতে ফেলে দিতেন। এই দুই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বিডিআর সদস্যকে তিনি হত্যা করেছেন বলে জানিয়েছেন সাক্ষী।

কেএমপি কর্মকর্তার বক্তব্যের নিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের

অনলাইন ডেস্ক
কেএমপি কর্মকর্তার বক্তব্যের নিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের
সংগৃহীত ছবি

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খানের একটি বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির মতে, পুলিশ ইন্সপেক্টরদের সম্পর্কে দেওয়া ওই বক্তব্য অপেশাদার, অপমানজনক ও বিধিবহির্ভূত।

রবিবার (২১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি ও সাবেক আইজিপি মো. আবদুল কাইয়ুম এবং মহাসচিব মিয়া লুৎফর রহমান চৌধুরী এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৭ জুন আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত এক সুধী সমাবেশে কেএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান পুলিশ ইন্সপেক্টরদের সম্পর্কে ‘গাছে ঝুলিয়ে পিটাবো’ মর্মে বক্তব্য দেন, যা পরে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। কোনো সদস্য বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার প্রতিকার প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী হওয়া উচিত। প্রকাশ্য জনসভায় কোনো পুলিশ সদস্যকে হুমকি দেওয়া, অপমান করা বা সহিংস ভাষা ব্যবহার করা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, বরং আইনের শাসন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিদের বক্তব্যে সংযম, প্রজ্ঞা ও শালীনতার প্রতিফলন থাকা উচিত। এ ধরনের মন্তব্য জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মনোবল ও পেশাগত মর্যাদার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের উসকানিমূলক ও অশোভন মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।