মার্ক জাকারবার্গ ও জেফ বেজসসহ বিশ্বের শীর্ষ ২০ প্রযুক্তি বিলিয়নেয়ার বছর পার না হতেই হারালেন ৪৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে মন্দা আতঙ্কে শেয়ারবাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে সে কারণেই বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হয়েছে প্রযুক্তি মোগলদের। এতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়ারের তালিকায়ও উলটপালট হয়েছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা শুরু হলে প্রবৃদ্ধির জোয়ার আসে প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর ব্যবসায়। কিন্তু এখন মূল্যস্ফীতি আর উচ্চ সুদের চাপ বইতে হচ্ছে তাদেরও। ডিজিটাল বিজ্ঞাপন কমায় আয় হ্রাস পাচ্ছে তাদের। অনেক কম্পানি এখন খরচ কমাচ্ছে এবং কর্মীও ছাঁটাই করছে। টেক কম্পানিগুলোর শেয়ারবাজার নাসডাক সূচক এ বছর পড়েছে ২৯ শতাংশ। ব্লুমবার্গ বিলিয়নেয়ার সূচকে ২০২২ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত যে হিসাব ধরা হয়েছে তাতে দেখা যায়, ফেসবুকের মূল কম্পানি মেটার সিইও মার্ক জাকারবার্গ এ সময় হারিয়েছেন ৮৭.৩ বিলিয়ন ডলার। সম্প্রতি তিনি শুধু এক দিনেই খোয়ালেন ১১.২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে তাঁর সম্পদ কমে হয়েছে ৩৭.৭ বিলিয়ন ডলার। এমনকি শীর্ষ ১০ বিলিয়নেয়ারের তালিকা থেকে তিনি এখন ২৮তম অবস্থানে নেমে এসেছেন। বর্তমান বিশ্বের শীর্ষ ধনী এলন মাস্ক। বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলারের সিইও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম টুইটার কিনেছেন। কিনেই শুরু করেছেন ছাঁটাই। তিনি এ বছর খোয়ালেন ৬৬.৪ বিলিয়ন ডলার। তাঁর বর্তমান সম্পদ ২১২ বিলিয়ন ডলার। একইভাবে আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজসও ৬৫.৭ বিলিয়ন ডলার খোয়ালেন। তাঁর সম্পদ কমে হয়েছে ১৩৪ বিলিয়ন ডলার। গুগলের মূল কম্পানি আলফাবেটের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ ও সারজে ব্রিন দুজনই শীর্ষ ১০ টেক ধনীর মধ্যে আছেন। ল্যারি পেজ হারালেন ৩৯.২ বিলিয়ন ডলার এবং সারজে ব্রিন হারালেন ৩৮.১ বিলিয়ন ডলার। এ সময় মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সম্পদ কমেছে ২৭.৩ বিলিয়ন ডলার, স্টেব বলামারের খোয়া গেছে ২১.৩ বিলিয়ন ডলার এবং ল্যারি এলিসন হারালেন ১৪ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের বিলিয়নেয়াররাও একইভাবে সম্পদ হারিয়েছেন। এর মধ্যে চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা খোয়ালেন ৯.৩ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে তাঁর সম্পদ কমে হয়েছে ২৯.১ বিলিয়ন ডলার। শীর্ষ ২০ টেক বিলিয়নেয়ারের মধে আছেন একমাত্র নারী ম্যাককিনজে স্কট। যিনি সাবেক স্বামী জেফ বেজসের সঙ্গে আমাজন গড়ে তুলেছিলেন। এ বছর তাঁর সম্পদ কমেছে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যদিও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ এ বছর দান করেছেন। এদিকে গত সপ্তাহে ফোর্বস ম্যাগাজিন রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার র্যাংকিং প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধ, মহামারি ও মন্দার প্রভাবে এ বছর বিলিয়নেয়ার ও তাঁদের সম্পদ কমেছে। গত এপ্রিলে ৩৬তম যে তালিকা প্রকাশ করা হয় তাতে বিলিয়নেয়ার ছিলেন দুই হাজার ৬৬৮ জন। কিন্তু এখন তা থেকে ৮৭ জন কমে গেছে। বিলিয়নেয়ারদের মোট সম্পদও কমে হয়েছে ১২.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০২১ সালের চেয়ে ৪০০ বিলিয়ন ডলার কম। বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় এখনো নেতৃত্বে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ৭৩৫ বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদ ৪.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। দেশটির ৬০৭ বিলিয়নেয়ারের মোট সম্পদ ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার। সূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, ফাস্ট কম্পানি