সড়ক ও রেলপথের ওপর চাপ কমানো এবং নৌপথে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে যাত্রী ও মালপত্র পরিবহনের উদ্দেশ্যে গত ১৫ বছরে অভ্যন্তরীণ নৌপথে ২৬টি নদীবন্দর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তৃতায় তিনি এই কথা জানান। আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, ‘দেশের নদী অঞ্চলের মানুষের অসুবিধাকে বিবেচনা করে বিভিন্ন ঘাটে ল্যান্ডিং সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে ১৮৭টি নতুন পন্টুন স্থাপন, মাঝারি ও বড় ধরনের (ডকিং) পন্টুন মেরামত শেষে মোট ৪৭২টি নানা আকারের পন্টুন লঞ্চঘাট ও নদী বন্দরে স্থাপনসহ নানা কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে যাত্রীসাধারণ ও মালপত্র ওঠানামা নিরাপদ ও সহজতর হয়েছে। নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথকে নিরাপদ, যাত্রীবান্ধব, আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এবং কার্যকর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থা সুসংহত করার নিমিত্তে নৌবন্দরগুলোর আধুনিকীকরণ, নৌপথ সংরক্ষণ, নৌসহায়ক যন্ত্রপাতি স্থাপন, নৌযান উদ্ধারকারী জাহাজ সংগ্রহসহ নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯৫ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর ও মোংলা বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপের ফলে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বন্দরগুলোতে জাহাজ আগমন ও পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই সঙ্গে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। গত ১৫ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমা সাত গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ডিজিটাল টাইডাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গত এক দশকে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার ইয়ার্ড নির্মাণ করা হয়েছে, যার ফলে বন্দরের কনটেইনার ধারণক্ষমতা ৫৫ হাজার টিইইউতে উন্নীত হয়েছে।’ যোগাযোগে উন্নয়ন বরাদ্দ কমছে প্রায় ৫ হাজার কোটি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের বাজেটে যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে অর্থাৎ সড়ক, রেল, নৌ ও বিমান পরিবহন উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমেছে।