kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

পবিত্র কোরআনের আলো ধা রা বা হি ক

ইসলামে সতর ঢাকা ও পর্দার বিধান

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইসলামে সতর ঢাকা ও পর্দার বিধান

১৭. অতঃপর সে [মারিয়াম (আ.)] তাদের সঙ্গে পর্দা করল। পরে আমি তার কাছে আমার রুহ [জিবরাইল (আ.)]-কে পাঠিয়েছি। সে তার কাছে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১৭ (চতুর্থ পর্ব)]।

তাফসির : মারিয়াম (আ.) গোসল করার জন্য পরিবারবর্গ থেকে আলাদা হয়েছেন। পরে তিনি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে গোসল করার লক্ষ্যে পর্দা দিয়ে পুরো জায়গা ঢেকে দেন। এখানে পর্দা ও সতর ঢাকা সম্পর্কে ইসলামের বিধান তুলে ধরা হলো—

নারীদের পরস্পরের পর্দা বা সতরের পরিমাণ হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। মাহরাম (যাদের সঙ্গে বিয়ে হারাম) পুরুষদের সামনে নারীদের সতরের পরিমাণ হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত এবং পেট ও পিঠ। অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চারাও মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। আর বেগানা পুরুষদের সামনে নারীর শরীর ঢেকে পর্দা করা জরুরি। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া : ৬/৩৭৪, সুরা নূর : ৩১, কিফায়াতুল মুফতি : ৫/৩৮৭, ৩৮৯)।

ইসলামের প্রথম যুগে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে নারীদের মুখমণ্ডল, হাতের কবজি ও পায়ের পাতা খোলা রাখার অবকাশ ছিল; যদিও বিধানগত দিক থেকে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে ফিতনার আশঙ্কায় ইসলামী আইনবিদরা বলেছেন, পরপুরুষের সামনে মুখমণ্ডল, হাতের কবজি, পায়ের পাতাসহ সম্পূর্ণ শরীর ভালোভাবে ঢেকে রাখা জরুরি। তবে বিশেষ প্রয়োজনে মুখ খোলা যেতে পারে। যেমন—চিকিৎসক, বিচারক বা সাক্ষী, যাঁরা কোনো ব্যাপারে নারীকে দেখে সাক্ষ্য বা ফয়সালা দিতে বাধ্য হন। (ফাতাওয়া শামি : ১/৪০৬, ফাতাওয়া রহিমিয়া : ৪/১০৬)।

ইসলামী পর্দার কয়েকটি শর্ত

(১) মাথা থেকে পা পর্যন্ত সম্পূর্ণ শরীর আবৃত করে নেওয়া। বোরকা বা অন্য কোনো পন্থায় গোটা শরীর ঢেকে রাখা জরুরি। (২) পরিহিত বোরকা ফ্যাশনমূলক না হওয়া। (৩) বোরকার কাপড় মোটা হওয়া, যাতে শরীরের আকৃতি অনুধাবন করা না যায়। (৪) বোরকা ঢিলেঢালা হওয়া। (আবু দাউদ : ২/৫৬৭, মুসলিম : ২/২০৫, আহসানুল ফাতাওয়া : ৮/২৮, তিরমিজি : ২/১০৭)।

নামাজ বিশুদ্ধ হওয়ার অন্যতম একটি শর্ত হলো সতর ঢেকে রাখা। নামাজে পুরুষের নাভির নিচ থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ। নারীদের মুখমণ্ডল, দুই হাত কবজি পর্যন্ত ও টাখনুর নিচে পায়ের পাতা ছাড়া সব অঙ্গ ঢেকে রাখা ফরজ। তবে বিনা কারণে পুরুষের মাথা, পেট-পিঠ, হাতের কনুই খোলা রেখে নামাজ পড়লে তা আদায় হয়ে গেলেও মাকরুহ হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/১০৬)। ঢেকে রাখা অঙ্গগুলোর কোনো একটির এক-চতুর্থাংশ বা এর অধিক ইচ্ছাকৃত এক মুহূর্তের জন্য খুললেও নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি অনিচ্ছাকৃত এক-চতুর্থাংশ বা ততোধিক খুলে যায়, তাহলে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। এক-চতুর্থাংশের কম খোলা থাকলে নামাজ নষ্ট হবে না। (রদ্দুল মুহতার : ১/৩৭৯, তাবইনুল হাকায়েক : ১/৯৭)।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা