• ই-পেপার

ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযান গ্রেপ্তার ৩৯

আগামী নির্বাচনেও প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের আওতায় থাকবেন : মন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
আগামী নির্বাচনেও প্রবাসীরা পোস্টাল ব্যালটের আওতায় থাকবেন : মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রথমবারের মতো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার আওতায় ভোটার নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) পদ্ধতি চালু করেছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনেও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। 

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সদস্য বিরোধী দলের মো. আবুল হাসনাতের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। 

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের নিমিত্ত রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি চালু করে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিকে এ পদ্ধতির আওতায় আনার জন্য নির্বাচন কমিশন কাজ করে যাচ্ছে।

সংসদে রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে আলোচনা

অনলাইন ডেস্ক
সংসদে রুমিন ফারহানার পোশাক নিয়ে আলোচনা

আদালতে আইনজীবীদের ব্যবহৃত বিশেষ ব্যান্ড পরে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ ও ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি তার পোশাক পরিধান নিয়েও আলোচনা করেছেন। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নিজের পোশাক নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।এ সময় তিনি দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছাঁটাই করে মাত্র ১ টাকা করার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আদালতের বাইরে এই বিশেষ ব্যান্ড পরা যায় না, তা তিনি একজন আইনের শিক্ষার্থী ও আইনজীবী হিসেবে খুব ভালো করেই জানেন।’ তবে কোনো বিশেষ পরিস্থিতিতে এবং কেন তিনি এটি পরে সংসদে এসেছেন, তা স্পিকার নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য প্রস্তাবিত ৩১ হাজার ৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি দেশের সাম্প্রতিক অপরাধের কিছু খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, মার্চ ও এপ্রিল এই দুই মাসেই সারা দেশে রেকর্ড ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি, ১৯৬টি অপহরণ, ২২১৪টি চুরি এবং ১২৯টি পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ৩ হাজার ৪৯৬টি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

দেশের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে তিনি জানান, সারা দেশে প্রতিদিন গড়ে ১০টির বেশি খুনের ঘটনা ঘটছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার এমন নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে এই মন্ত্রণালয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের যৌক্তিকতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।

তিনি বলেন, পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয়, তারপরেও এই মন্ত্রণালয়ের কতটুকু উন্নয়ন হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি নিজেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শোনেন, কিন্তু এই মুগ্ধতা যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার কাজের মাধ্যমে পুরো মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন, তাহলে হয়ত আজ ছাঁটাই প্রস্তাব আনার প্রয়োজন হতো না।

রুমিন ফারহানার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ রুমিন ফারহানার পোশাক পরিধানের বিষয়ে আইনি, সাংবিধানিক ও সংসদীয় অবস্থান পরিষ্কার করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীনের মতামতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে জানান যে, সংসদের ভেতরে বাইরের কোনো আদালতের বিধি-বিধান কার্যকর হয় না। সংসদ সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব কার্যপ্রণালী বিধি বা রুলস অব প্রসিডিউর অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যা প্রণয়নের পূর্ণ ক্ষমতা দেশের সংবিধান সরাসরি এই সার্বভৌম হাউসকে দিয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতে কোনো নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে প্রবেশ করা যাবে না বা যাবে, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাধ্যবাধকতা চাপানো নেই। জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্টের প্রসঙ্গ টেনে হাস্যরসের সৃষ্টি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনজীবীদের ভাষায় ‘শি ইনক্লুডস হি’। তিনি রুমিন ফারহানার পোশাকটিকে অত্যন্ত ‘শোভন পোশাক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, সংসদে নিজের পছন্দমতো পোশাক পরিধানের পূর্ণ স্বাধীনতা ওই নারী সংসদ সদস্যের রয়েছে।

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠক
সংগৃহীত ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন।

আজ মঙ্গলবার বৈঠকে কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, মো. মুজিবুর রহমান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।

বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
আলোচনার শুরুতে বিগত বৈঠকসমূহের কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে কমিটি কর্তৃক বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল-২০২৬ সম্পর্কে আলোচনা ও রিপোর্ট প্রদান করা হয় এবং সংসদে পেশ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে কমিটির সদস্যগণ বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন।

এক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
এক টাকায় বিচার বিভাগ চললে দেশ পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাবে : আইনমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

এক টাকায় আইন ও বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব নয়, এমনটা হলে দেশ একটি পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট বরাদ্দ এবং এর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। 

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা মঞ্জুরি দাবি পেশ করেন। এরপর বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্য এই দাবি ছাঁটাই করে বরাদ্দ ১ টাকা করার প্রস্তাব দেন এবং বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন।   

ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আল ফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, “নিম্ন আদালত পৃথক করা হলেও পদোন্নতি ও বদলিতে সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকায় তা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।” তিনি বিচারক সংকট, মামলাজট ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সমালোচনা করেন। 

পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বিচার বিভাগের জন্য এই বরাদ্দকে ‘অত্যন্ত অপ্রতুল’ উল্লেখ করে বলেন, “দেশে ২৫ লাখের বেশি মামলা পেন্ডিং। কিন্তু বিভাগীয় শহরে হাইকোর্ট স্থাপন বা পেপারলেস জুডিশিয়ারি করার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।” 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কেরামত আলী থানা ও পুলিশের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষের হয়রানি এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা তুলে ধরেন। 

অপরদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, “বিচার বিভাগের বরাদ্দ জিডিপির মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ, যা বিটিভির বরাদ্দের চেয়েও কম।” তিনি দেশে ৫০ লাখের বেশি মামলা জটের কথা উল্লেখ করে প্রবীণ ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন। 

সংসদ সদস্যদের এসব প্রস্তাব ও সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “অন্য দাবির ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই যুক্তি দিয়েছেন, তবে এই দাবির ক্ষেত্রে মনে হচ্ছে তারা পোশাক পরিহিত আইনজীবী হায়ার করে এনেছেন।” 

ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর স্ববিরোধিতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে দুই ধরনের দাবি এসেছে। একজন বলছেন বরাদ্দ বেশি হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক, আরেকজন বলছেন বরাদ্দ অনেক কম হয়ে গেছে তাই ১ টাকায় কমানো হোক। ১ টাকা দিয়ে যদি আইন বিভাগ চালাতে বলা হয়, তাহলে তো বিচার বিভাগের দরকার নাই, এটা একটা পুলিশি রাষ্ট্র হয়ে যাক।”  

সংসদ সদস্যদের দাবিগুলোকে ‘জনপ্রিয়’ কিন্তু কার্যপ্রণালী বিধির ১১৮ বিধির পরিপন্থি (মিসকনসিভড) বলে আখ্যায়িত করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ১ টাকা দিয়ে কীভাবে গোটা বিচার বিভাগ চালানো সম্ভব, তার কোনও বিকল্প নীতি ছাঁটাই প্রস্তাবে দেওয়া হয়নি। 

বর্তমান বাস্তবতায় এই বরাদ্দ বিচার বিভাগের জন্য অপ্রতুল হলেও আপাতত এর কোনও বিকল্প নেই জানিয়ে আইনমন্ত্রী ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ করে মূল বরাদ্দ অনুমোদনের জন্য সংসদের কাছে আহ্বান জানান।

ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযান গ্রেপ্তার ৩৯ | কালের কণ্ঠ