ক্যান্সার জয় করা ক্যাথরিন, দ্য প্রিন্সেস অব ওয়েলস এবার ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাজ্যের তিনটি সর্বোচ্চ পর্বত চূড়া জয় করেছেন। ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রিন্স অব ওয়েলস উইলিয়ামসের স্ত্রী প্রিন্সেস অব ওয়েলস, যিনি কেট মিডলটন নামে পরিচিত। ২০২৪ সালে তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি সেরে ওঠার ঘোষণা দেন।
গত সপ্তাহে তিনি যুক্তরাজ্যের ‘থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ’-এ অংশ নেন এবং জয় করেন। ‘থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ’-এ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অন্তর্গত তিনটি দেশ ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের তিনটি সর্বোচ্চ পর্বতচূড়ায় আরোহন করতে হয়। পর্বত তিনটি হলো, ১ হাজার ৩৪৫ মিটার উচ্চতার স্কটল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্বত বেন নেভিস, ৯৭৮ মিটার উচ্চতার ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ পর্বত স্কাফেল পিক ও ১ হাজার ৮৫ মিটার উচ্চতার ওয়েলসের সর্বোচ্চ পর্বত স্নোডন। থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ জিততে হলে পর্বতারোহীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিনটি চূড়ায় উঠতে হয়। এতে আরোহীকে পায়ে হেঁটে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার চড়তে হয় আর এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যেতে গাড়িতে প্রায় ৭৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়।
নিছক অ্যাডভেঞ্চারের জন্য প্রিন্সেস এ অভিযানে যাননি। থ্রি পিকস চ্যালেঞ্জ জয় তার শারীরিক সক্ষমতার প্রমাণ তো বটে, তবে তার মূল লক্ষ্য ছিল ক্যান্সার চিকিৎসার হাসপাতালের জন্য অর্থ সংগ্রহ। প্রিন্সেস যে হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিয়েছেন, সেই রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটি প্রিন্সেসের এই পদযাত্রার জন্য একটি তহবিল সংগ্রহের পেজ চালু করেছে।
এ চ্যালেঞ্জ জয়কে প্রিন্সেস ‘ডায়াগনসিস’এর গণ্ডি পেরিয়ে জীবনকে অন্বেষণ করার এবং প্রতিদানে কিছু দেওয়ার সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রবিবার বেন নেভিসের চূড়ায় নিজের একটি ছবির সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় কেট মিডলটন লিখেছেন, ‘ক্যান্সার কেবল শরীরকেই আক্রান্ত করে না। এটি আপনার চিন্তা ও অনুভূতির ধরন বদলে দেয় এবং জীবনের প্রতিটি দিককে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।’
নিজের ক্যান্সার চিকিৎসার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এটি জানি। চিকিৎসা চলাকালীন এবং এর পরবর্তী যাত্রা কেবল ওষুধের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে।’
প্রিন্সেস আরো বলেন, ‘এই চ্যালেঞ্জের মাধ্যমে, আমি গুরুতর অসুস্থতার গভীর প্রভাব এবং সামগ্রিক যত্নের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে চাই।’ সামগ্রিক যত্নের ধারণায় ক্যান্সার আক্রান্ত একজন মানুষকে পুরোপুরি সমর্থন করা হয়; যেখানে ক্লিনিক্যাল চিকিৎসার পাশাপাশি শারীরিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক এবং সামাজিক সুস্থতাকে এক সুতোয় গাঁথা হয়।’
ওয়েলসে এই চ্যালেঞ্জ শেষ করার পর, প্রিন্সেসের সাথে তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেখা করেন। যার মধ্যে ছিলেন প্রিন্স অব ওয়েলস, তাঁর তিন সন্তান— জর্জ, শার্লট ও লুই, তাঁর বাবা-মা—ক্যারল ও মাইকেল মিডলটন এবং তাঁর ভাই জেমস।
প্রিন্সেসের এ মহৎ উদ্যোগে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রয়্যাল মার্সডেন ক্যান্সার চ্যারিটি জানিয়েছে, ‘এটি ক্যান্সার আক্রান্ত আরো বেশি মানুষকে সামগ্রিক যত্নের সুবিধা পেতে সহায়তা করবে।’
রয়্যাল মার্সডেন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী ডেম ক্যালি পামার বলেছেন, ‘রয়্যাল মার্সডেনের প্রতি প্রিন্সেসের এই প্রতিশ্রুতি একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া মানুষদের প্রতি গভীর সহানুভূতি থেকে এসেছে। আমরা এই উদার সমর্থনের জন্য অত্যন্ত কৃতজ্ঞ, যা বহু ক্যান্সার রোগী এবং তাঁদের পরিবারের জীবনে বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’






