• ই-পেপার

জার্মানির স্টাড শহরে ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত ৫

উগান্ডার শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক
উগান্ডার শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন সেনাপ্রধান
ছবি : এপি

উগান্ডার শীর্ষস্থানীয় স্বাধীন গণমাধ্যম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মুহুজি কাইনেরুগাবা। ২৮ জুন (রবিবার) সোশ্যাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন তিনি। এই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, যে  ‘মুক্ত গণমাধ্যম’ বিশ্বাস করেন না।

মুহুজি কাইনেরুগাবা উগান্ডার দীর্ঘমেয়াদি প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। মুহুজি কাইনেরুগাবা বলেছেন, উগান্ডার দুটি প্রধান গণমাধ্যমকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। 

এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি ডেইলি মনিটর পত্রিকা এবং এনটিভি সম্প্রচার কেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা দেন এবং জোর দিয়ে বলেন, এটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে তাঁকে অর্পিত ক্ষমতার আওতাধীন।

কেনিয়াভিত্তিক নেশন মিডিয়া গ্রুপের মালিকানাধীন উগান্ডার অন্যতম বৃহৎ স্বাধীন দৈনিক পত্রিকা ডেইলি মনিটর এবং প্রধান বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি উগান্ডা। 

এ ছাড়া একই গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠান যেমন ডেম্বে এফএম, স্পার্ক টিভি, কেএফএম এবং দ্য ইস্ট আফ্রিকানের সম্প্রচার ও প্রকাশনাও বন্ধ রয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি আরো জানিয়েছেন, উগান্ডায় আমার ইচ্ছামতো যেকোনো গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা আমার আছে। ২০১৭ সাল থেকে এই ক্ষমতা আমার কাছে রয়েছে। এই ক্ষমতা আমাকে দিয়েছেন আমার মহান বাবা প্রেসিডেন্ট ইওয়েরি মুসেভেনি।

এটা ‘কেবল শুরু’ এবং ‘আরো অনেককে গ্রেপ্তার করার’ হুমকি দেন এই সেনাপ্রধান।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে যা বলল চীন

অনলাইন ডেস্ক
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাবে যা বলল চীন
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন। ছবি : সংগৃহীত

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতের উদ্বেগের জবাব দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের দাবি, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে টার্গেট করে পরিচালিত হয় না এবং এতে বাইরের কোনো দেশের প্রভাব থাকাও উচিত নয়। একই সঙ্গে তিস্তা প্রকল্পে বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে চীন। খবর এনডিটিভি

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) ভারতের উদ্বেগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয় না এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত।’

ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ঢাকা-বেইজিংয়ের এই যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। চীন বলেছে, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

Tista

গুও জিয়াকুন বলেন, ‘তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার বাংলাদেশের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এ প্রকল্পে চীন সর্বোচ্চ সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের আরো সমন্বয় এবং বাণিজ্য, পানি ব্যবস্থাপনা, জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিনিময় বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে চীন।’

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ প্রকল্পের বিষয়ে দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো কারিগরি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে, যা আগে হয়নি। চীন জানিয়েছে, সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় প্রকল্পটি যৌক্তিক প্রমাণিত হলে তারা সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।’

মূলত তিস্তা নদীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও চীন একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে তিস্তা প্রকল্প-সংক্রান্ত যেকোনো ঘোষণার দিকে ভারত নিবিড়ভাবে নজর রাখবে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিডব্লিউডিবি) এবং চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান পাওয়ারচায়না সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তি সই করে। এর ফলে তিস্তা প্রকল্পের কাজ আরো এগিয়ে যায়।

ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি। এই করিডরটি ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত।

ভারতের আশঙ্কা, চীনের উপস্থিতিসহ বাইরের কোনো দেশের প্রভাব এ অঞ্চলে বাড়লে তা তাদের নিরাপত্তা উদ্বেগ আরো বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এ গুরুত্বপূর্ণ করিডরের জন্য নতুন কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কেতনের টাকায় জীবন সাজাতে চেয়েছিল সিয়া-চেতন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কেতনের টাকায় জীবন সাজাতে চেয়েছিল সিয়া-চেতন
সংগৃহীত ছবি

সিয়া গোয়েল প্রেম করতেন চেতন চৌধুরীর সঙ্গে। কিন্তু পরিবার তার বিয়ে ঠিক করেছিল ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে। বিয়েতে মত না থাকলেও পরিবারের মুখের ওপর ‘না’ বলার সাহস ছিল না সিয়ার। পরিবারের মর্যাদার কথা ভেবে বাগদান ও বিয়ের আয়োজনে তাল মিলিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু মনে মনে আঁটছিলেন ভয়ংকর পরিকল্পনা। 

পরিবারের মতের বিরুদ্ধে যাওয়ার চেয়ে হবু বরকে হত্যা করাটাই তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল। প্রেমিক চেতন চৌধুরীর সঙ্গে মিলে গত ১৮ জুন সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নও করেন সিয়া। দুজন মিলে পুনের লোহাগড় দুর্গে ধাক্কা দিয়ে ৪০০ ফুট গভীর খাদে ফেলে হত্যা করেন কেতন আগরওয়ালকে। 
চেতন চৌধুরী বিয়ের জন্য সিয়ার কাছে ৩ বছর সময় চেয়েছিলেন। এ সময়ে নিজের ব্যবসা গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। 

সিয়ার ধারণা ছিল, কেতন লোহাগড় দুর্গে পা পিছলে পরে মারা গেছেন, এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে তাদের সব ঝামেলা মিটে যাবে। দূর হয়ে যাবে তাদের প্রেমের বাধা। শোকে কাতর পরিবারও শিগগিরই তার বিয়ের কথা আর তুলবেন না। এই সুযোগে চেতন তার ব্যবসা গোছাবে, সিয়াও নিজের বেকারির ব্যবসা এগিয়ে নেবেন। বছর তিনেক পর বিয়ে করলে তখন তারা মোটামুটি সচ্ছলতার সঙ্গে সংসার শুরু করতে পারবেন। তত দিনে কেউ আর তাদের সন্দেহও করবে না।

কেতন আগরওয়াল ছিলেন পুনের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান। তার বাবা বিশাল আগরওয়াল আবাসন প্রতিষ্ঠান সাকসেস গ্রপের প্রতিষ্ঠাতা। বিদেশে পড়াশোনা শেষে ভারতে ফিরে কেতনও বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। তিনি ছিলেন সাকসেস গ্রুপের পরিচালক ও চিফ মার্কেটিং অফিসার। গত ফেব্রুয়ারিতে সিয়ার সঙ্গে কেতনের বাগদান হয়। আগামী নভেম্বরে জয়পুরে জমকালো বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। সে জন্য ১৭ কোটি রুপিতে প্রাসাদ বুক করা হয়েছিল। সিয়া নিজেদের ভবিষ্যত গোছাতে কেতনের বিত্তের সহায়তাও নিয়েছিলেন। কেতন বিয়ের শপিং করার জন্য সিয়াকে ১ কোটি রুপি দিয়েছিলেন। কিন্তু শপিং না করে সিয়া পুরো টাকাটা তুলে দেন প্রেমিক চেতন চৌধুরীর হাতে। এ টাকায় চেতন তার ব্যবসা আরো বড় করার পরিকল্পনা করছিলেন।

কিন্তু নিখুঁত পরিকল্পনা করেও বাঁচতে পারেননি তারা। কেতনকে হত্যার অভিযোগে সিয়া-চেতন দুজনই এখন পুলিশ রিমান্ডে।

এমএইচ৩৭০ খোঁজার অভিযান চলবে আরো এক বছর

অনলাইন ডেস্ক
এমএইচ৩৭০ খোঁজার অভিযান চলবে আরো এক বছর
ছবি : রয়টার্স

নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর জন্য পানির নিচে অনুসন্ধান চালানোর উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী সংস্থা ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে মালয়েশিয়ার চুক্তি এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। আজ সোমবার (২৯ জুন) দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

নিখোঁজ মালয়েশিয়া এয়ারলাইনসের ফ্লাইট এয়ারলাইনস ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর সন্ধানে সমুদ্রের তলদেশে অনুসন্ধান চালানোর জন্য গভীর সমুদ্র অনুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ওশান ইনফিনিটির সঙ্গে মালয়েশিয়া সরকারের চুক্তির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ানো হয়েছে। সোমবার দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

২০১৪ সালে কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিং যাওয়ার পথে বোয়িং ৭৭৭ বিমানটি ২২৭ জন যাত্রী ও ১২ জন ক্রু নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়, যা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী বিমান রহস্যে পরিণত হয়। দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিমানটির জন্য পরিচালিত একাধিক অনুসন্ধান অভিযান ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে।

ওশান ইনফিনিটি ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিমানটির জন্য অনুসন্ধান চালিয়েছিল। গত বছর সংস্থাটি মালয়েশিয়ার সঙ্গে ১৫ হাজার বর্গকিলোমিটার (৫৭৯২ বর্গমাইল) এলাকাজুড়ে অনুসন্ধান পুনরায় শুরু করার জন্য একটি নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করে। সেখানে শুধু ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেলেই সংস্থাটিকে ৭০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে।

মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী অ্যান্টনি লোক এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘এই চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১২ মাস বাড়ানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্তটি ফ্লাইট এমএইচ৩৭০-এর যাত্রীদের নিকটাত্মীয়দের জন্য একটি চূড়ান্ত সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারের ধারাবাহিক ও অবিচল প্রতিশ্রুতিরই একটি বহিঃপ্রকাশ।’

অ্যান্টনি বলেন, এই মেয়াদ বৃদ্ধির লক্ষ্য হলো—ওশান ইনফিনিটির মাধ্যমে অবশিষ্ট সাত হাজার ৪২৮.৫৪ বর্গকিলোমিটার এলাকার অনুসন্ধান সম্পূর্ণরূপে সম্পন্ন করা। তিনি আরো বলেন, এতে ওশান ইনফিনিটির নতুন বাণিজ্যিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর জন্য ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে অনুসন্ধানের প্রধান সরঞ্জামগুলোকে সাময়িকভাবে অন্য একটি স্থানে সরিয়ে নিতে হবে।