• ই-পেপার

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের স্থায়ী সমাধান চাই

বিলুপ্তির পথে জোনাকি

বিলুপ্তির পথে জোনাকি

বাংলার প্রকৃতিতে জোনাকির ঝলমলে আলো একসময় ছিল নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অনন্য প্রতীক। কিন্তু পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা, নির্বিচারে কীটনাশকের ব্যবহার, বনভূমি ও প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস এবং ক্রমবর্ধমান আলোকদূষণের ফলে এই প্রাণীটি আজ বিলুপ্তির মুখে। জোনাকির সংখ্যা হ্রাস পাওয়া শুধু একটি প্রজাতির সংকট নয়, এটি আমাদের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অবনতিরও সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। এই পরিবেশ বিপর্যয়ে আমরা শুধু জোনাকির সৌন্দর্য হারাচ্ছি না, আমরা নিজেরাই নিজেদের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলছি।

এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ, পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার প্রসার, অপ্রয়োজনীয় আলোকদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বিচারে কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস করা অপরিহার্য। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকার, পরিবেশবিদ এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই জোনাকির নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রকৃতির এই অনন্য আলোকদূতকে রক্ষা করা শুধু পরিবেশ সংরক্ষণের দায়িত্ব নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের নৈতিক অঙ্গীকার।

মো. আব্দুল্লাহ্ আল্ মুহিত

ইংরেজি বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বীজ

হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয় বীজ

বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি দেশীয় বীজ। কিন্তু হাইব্রিড বীজের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে বহু দেশীয় ধান, শাক-সবজি ও অন্যান্য ফসলের বীজ হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় সহজলভ্য তুলসীমালা, কাটারিভোগ, পাটনাই কিংবা গোবিন্দভোগের মতো জাতগুলো আজ অনেক এলাকায় খুঁজে পাওয়াই কঠিন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ধানি জমির ৮১ শতাংশে এখন উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হচ্ছে, যেখানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে এই হার ছিল ৭৩ শতাংশ। কৃষি গবেষকদের হিসাবে বাংলাদেশ থেকে এরই মধ্যে প্রায় ১০ হাজার দেশীয় জাতের ধান হারিয়ে গেছে।

এই ক্ষতি শুধু কৃষি ঐতিহ্যের নয়। দেশীয় জাতগুলো স্থানীয় মাটি ও জলবায়ুর সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। ফলে রোগ-বালাই ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবেলায় এগুলো তুলনামূলক সক্ষম। হাইব্রিড জাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মাটির স্বাস্থ্য ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য নিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে। তবে  নাটোর, যশোর ও রাজশাহীর মতো কিছু এলাকায় কৃষকরা এখনো ব্যক্তি উদ্যোগে দেশীয় বীজ সংরক্ষণ করছেন। এই বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টাকে জাতীয় নীতির আওতায় আনতে হবে এবং বীজ ব্যাংক গড়ে তুলতে হবে।

সুমনা আক্তার

শিক্ষার্থী, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

মেডিক্যাল সেন্টার দ্রুত চালুর দাবি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা কলেজের প্রধান ফটকের বাঁ পাশে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা কলেজ মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়। সে সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, প্রতি সপ্তাহে রবিবার, সোমবার ও মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত মেডিক্যাল সেন্টারটি চালু থাকবে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, মেডিক্যাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। এখনো সেখানে চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং শিক্ষার্থীরা ঘোষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

ঢাকা কলেজে ২০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। জরুরি অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার সময় একটি কার্যকর মেডিক্যাল সেন্টার শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এটি অচল থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা নানাভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি, অতি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে মেডিক্যাল সেন্টারটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হোক।

রাশেদুল ইসলাম

ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ

চা-শিল্পে নজর দিন

চা-শিল্পে নজর দিন

চা এমন এক পানীয়, যার চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই চাহিদা বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশে পরিণত হয়েছে, তবে পুরোপুরি লাভজনক হয়ে উঠতে পারেনি। বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৯-১০ কোটি টাকার চা উৎপাদিত হয়। কিন্তু শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক, বিদ্যুতের খরচ অনেক বেশি হওয়ায় অনেক বাগান লোকসানে রয়েছে। বিদেশের বাজারেও বাংলাদেশের চায়ের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে চা রপ্তানি করা হচ্ছে, অথচ যাঁদের পরিশ্রমের ফসল, তাঁরা পাচ্ছেন না ন্যায্য পারিশ্রমিক। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে চা-শ্রমিকের পারিশ্রমিক ২৫৫ থেকে ৩৩০ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ৬৫০ থেকে ৬৭০ টাকা, কেনিয়ায় ৪৮৩ টাকা, অথচ বাংলাদেশে ১৭৮ টাকা ধরা হলেও শ্রমিকরা নির্ধারিত মূল্য থেকে কম পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। চা আমরা শুধু পানি হিসেবে গ্রহণ করলেও চা-কেন্দ্রিক জীবন যাপন করায় শ্রমিকরা চা-পাতাকে দৈনন্দিন খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করছেন। বিশ্ববাজারে চায়ের চাহিদা ও চা-শ্রমিকের জীবন পর্যালোচনা করে চা-শ্রমিকের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করা হলে দেশের অর্থনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন সাধিত হবে।

ঈশিতা হক

শিক্ষার্থী, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি