দ. আফ্রিকা-দ. কোরিয়া (সকাল ৭টা)
ইকুয়েডর-জার্মানি (রাত ২টা)
জাপান-সুইডেন (ভোর ৫টা)
চেক প্রজাতন্ত্র-মেক্সিকো (কাল সকাল ৭টা)
কুরাসাও-আইভরি কোস্ট (রাত ২টা)তিউনিশিয়া-নেদারল্যান্ডস (কাল ভোর ৫টা)

দ. আফ্রিকা-দ. কোরিয়া (সকাল ৭টা)
ইকুয়েডর-জার্মানি (রাত ২টা)
জাপান-সুইডেন (ভোর ৫টা)
চেক প্রজাতন্ত্র-মেক্সিকো (কাল সকাল ৭টা)
কুরাসাও-আইভরি কোস্ট (রাত ২টা)তিউনিশিয়া-নেদারল্যান্ডস (কাল ভোর ৫টা)

চট্টগ্রামে গ্রেপ্তারের এক দিন পর চট্টগ্রামে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেলেন সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আলম। তাঁর মৃত্যুর সনদে কারণ হিসেবে শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে আনার পর সন্ধ্যায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমরা রাতেই তাঁকে হাসপাতালে পাঠাই।’ তিনি আরো বলেন, বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তিনি আরো বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে নুরুল আলমকে যখন কারাগারে আনা হয়, তখন তিনি সুস্থ ছিলেন। তাঁর শরীরে কোথাও আঘাতের কোনো চিহ্ন ছিল না। রাতেও কোনো অসুবিধার কথা তিনি জানাননি।
তবে আলমের ভাই নূর মোহাম্মদ বলেন, এলাকায় জমি নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কয়েকজন স্থানীয় নেতার সঙ্গে তাঁদের বিরোধ রয়েছে। গতকাল সাতকানিয়া ভূমি অফিসে ওই জমি নিয়ে শুনানি ছিল। শুনানিতে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তাঁর ভাই। সেখান থেকে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে। নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমার ভাইয়ের নামে কোনো মামলা ছিল না। জায়গাজমির বিরোধে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।’ এদিকে ২০২৪ সালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানায় হওয়া বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে গতকাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান ও ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
একই দিনে জেলার দীঘিনালায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফের আরেক সদস্য নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদল পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত সশস্ত্র সদস্যরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে রামগড় উপজেলার মাজারটিলা এলাকার বাসিন্দা ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। এদিকে রামগড়ের ঘটনায় দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহত ববিন ত্রিপুরাকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে ইউপিডিএফ (প্রসীত)। পাশাপাশি আহত মংসানু মারমাকে আটক করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রামগড় থানার ওসি নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় লাশ উদ্বার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল দুপুরে দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া চৌমুহনীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসীত) সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিনন্দ মোহন চাকমার ছেলে।
দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, ইউপিডিএফের এই কালেক্টর একটি দোকানে অবস্থানকালে বিশেষ পোশাক পরিহিত পাঁচ ব্যক্তি সেখানে এসে সুজন চাকমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি দোকানের পেছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানে গিয়ে তাঁকে তিন রাউন্ড গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পুলিশ জানায়, নিহত সুজন চাকমার বিরুদ্ধে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। দলটির দীঘিনালা সংগঠক সজীব চাকমা ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতিকে (সন্তু) দায়ী করেন। তবে এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে সমাজসেবা অধিদপ্তরের চলমান ‘সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি ও উপকারভোগী নির্বাচন উন্নয়ন (এসএসপিরিট)’ প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন আউটসোর্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (আরটিএপিপি) অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা-১ থেকে গতকাল জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। তখন এর মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল চার কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ছিল ৯০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
তবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সারা দেশে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে দুই হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার ৯০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা যোগ হবে, যা প্রায় ২১১ শতাংশ বেশি।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সারা দেশে বিস্তৃত করতে প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং যানবাহন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য প্রকল্পের কাঠামো ও ব্যয় পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্ডধারী পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি মোবাইল বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতেই এসএসপিরিট প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবটি এখন অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।