দ. আফ্রিকা-দ. কোরিয়া (সকাল ৭টা)
ইকুয়েডর-জার্মানি (রাত ২টা)
জাপান-সুইডেন (ভোর ৫টা)
চেক প্রজাতন্ত্র-মেক্সিকো (কাল সকাল ৭টা)
কুরাসাও-আইভরি কোস্ট (রাত ২টা)তিউনিশিয়া-নেদারল্যান্ডস (কাল ভোর ৫টা)

দ. আফ্রিকা-দ. কোরিয়া (সকাল ৭টা)
ইকুয়েডর-জার্মানি (রাত ২টা)
জাপান-সুইডেন (ভোর ৫টা)
চেক প্রজাতন্ত্র-মেক্সিকো (কাল সকাল ৭টা)
কুরাসাও-আইভরি কোস্ট (রাত ২টা)তিউনিশিয়া-নেদারল্যান্ডস (কাল ভোর ৫টা)

চট্টগ্রামের বিভাগীয় ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ জরিপে নগরে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গু বিস্তারের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপকৃত প্রতি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে আটটি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
চট্টগ্রামে গত মাসের তুলনায় চলতি মাসের গত ২৪ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী দ্বিগুণের বেশি। শুধু তাই নয়, এটি গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ (মাসভিত্তিক)। চলতি মাসের শুরু থেকে ডেঙ্গু বাড়তে শুরু করে।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো—উত্তর কাট্টলী, পাঁচলাইশ, জালালাবাদ, পশ্চিম বাকলিয়া, দক্ষিণ বাকলিয়া, দক্ষিণ হালিশহর, পাথরঘাটা ও আন্দরকিল্লা। ডেঙ্গুর ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বরাবর চারটি সুপারিশ করেছে চার সদস্যের জরিপ দল।
ওই জরিপ প্রতিবেদন গতকাল বুধবার বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কাছে দেওয়া হয়। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রতিবেদনটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হবে বলে বিভাগীয় পরিচালক ও চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। এডিস মশার উপস্থিতির বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভার মধ্যে এডিস (অ্যাডিস) ইজিপটাই (এজিপ্টি) ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং সেকেন্ডারি ভেক্টর এডিস এলবোপিকটাস ২০ থেকে ৩০ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে জরিপ দলে থাকা চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত জেলা কীটতত্ত্ববিদ মঈন উদ্দীন গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, চলতি মাসে বাড়লেও গত বছরের তুলনায় চট্টগ্রামে এখনো ডেঙ্গু আক্রান্ত কম। তবে জরিপকালে লার্ভার আধিক্য বেশি পাওয়া গেছে। এডিস ইজিপ্টাই ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ লার্ভা পাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক। জরিপ প্রতিবেদনের সুপারিশের আলোকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা যাবে।
জানা যায়, চলতি মাসের গত জুন থেকে ১৭ জুন পর্যন্ত নগরের ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৮টি ওয়ার্ডে এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। জরিপ দলে প্রধান করা হয়েছিল চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের বিভাগীয় কীটতত্ত্ববিদ মো. মফিজল হক শাহ।
কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘যেসব ওয়ার্ডকে আমরা ডেঙ্গুর জন্য উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে নির্ধারণ করেছি, সেখানে এডিস মশার লার্ভা অনেক বেশি ছিল। জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমরা চারটি সুপারিশ করেছি।’
এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—এডিস মশার বংশবিস্তার নির্মূল করা, কোনো পাত্রে বা আঙিনায় তিন দিনের বেশি জমে থাকা পানি অপসারণ, নিজ নিজ বাসস্থান ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। এ ছাড়া প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তার উদ্যোগে নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সব ধরনের প্লাস্টিক কনটেইনার নির্মূলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, সুউচ্চ অট্টালিকার আন্ডারগ্রাউন্ড ও নির্মীয়মাণ ভবনে এডিস মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি, লার্ভিসাইডিং এবং এডালটিসাইডিং সময়োপযোগী প্রয়োগ, সূর্যোদয়ের পর পর এবং সূর্যাস্তের আগে এডালটিসাইডিং পরিচালনা, মশক নিধনে ব্যবহৃত কীটনাশকের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম। এই সময় ডেঙ্গু বাড়তে পারে। ভারি বৃষ্টিপাত হলে লার্ভা থাকে না। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে গঠন করা জরিপ দলের প্রতিবেদন আজ (গতকাল) পাওয়ার পর এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণে চসিক মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে লিখেছি। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিয়েছি।’
একই বিষয়ে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, চট্টগ্রামে এপ্রিল মাস থেকে ডেঙ্গু রোগী বাড়ার দিকে। মে মাসের তুলনায় আবার চলতি মাসে আক্রান্ত বেশি। সাধারণত বর্ষা মৌসুমের আগে-পরে ডেঙ্গু আক্রান্ত বেশি হয়। তবে এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে চট্টগ্রামের ডেঙ্গু পরিস্থিতি। জরিপে যেসব ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুিঁকপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেসব ওয়ার্ডে ডেঙ্গু নির্মূলে প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে গতকাল চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেঙ্গু প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগী ২৫৩ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৬৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিলে ২৯ জন, মে মাসে ৩৭ জন ও চলতি জুনে গতকাল পর্যন্ত ৭৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে একজন পুরুষ রোগী মারা গেছেন। মোট আক্রান্তের মধ্যে নগরে ১৫৭ জন ও জেলার ১৫ উপজেলায় ৯৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর মধ্যে পুরুষ ১৩৩ জন, নারী ৭১ জন ও শিশু ৪৯ জন। বর্তমানে ২১ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত বছর চট্টগ্রামে ডেঙ্গু রোগী ছিল চার হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যু হয়।

খাগড়াছড়ির রামগড়ে গতকাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসীত) এক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় তাদের দুই সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। ঘটনাস্থল থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, একটি ম্যাগাজিন, একটি পাইপগান ও ২৭ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।
একই দিনে জেলার দীঘিনালায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফের আরেক সদস্য নিহত হন।
পুলিশ জানিয়েছে, সকালে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় সেনাবাহিনীর একটি টহলদল পৌঁছলে সেখানে অবস্থানরত সশস্ত্র সদস্যরা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে রামগড় উপজেলার মাজারটিলা এলাকার বাসিন্দা ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। এদিকে রামগড়ের ঘটনায় দেওয়া এক বিবৃতিতে নিহত ববিন ত্রিপুরাকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করেছে ইউপিডিএফ (প্রসীত)। পাশাপাশি আহত মংসানু মারমাকে আটক করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
রামগড় থানার ওসি নাজির আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় লাশ উদ্বার ও অন্যান্য প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে গতকাল দুপুরে দীঘিনালার বাবুছড়া ইউনিয়নের মুড়োপাড়া চৌমুহনীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসীত) সদস্য সুজন চাকমা (৪৮) নিহত হন। তিনি কবাখালী ইউনিয়নের তারাবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিনন্দ মোহন চাকমার ছেলে।
দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, ইউপিডিএফের এই কালেক্টর একটি দোকানে অবস্থানকালে বিশেষ পোশাক পরিহিত পাঁচ ব্যক্তি সেখানে এসে সুজন চাকমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তিনি দোকানের পেছন দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সেখানে গিয়ে তাঁকে তিন রাউন্ড গুলি করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। পুলিশ জানায়, নিহত সুজন চাকমার বিরুদ্ধে হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে। দলটির দীঘিনালা সংগঠক সজীব চাকমা ঘটনার জন্য জনসংহতি সমিতিকে (সন্তু) দায়ী করেন। তবে এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণে সমাজসেবা অধিদপ্তরের চলমান ‘সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি ও উপকারভোগী নির্বাচন উন্নয়ন (এসএসপিরিট)’ প্রকল্পের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন আউটসোর্সিংয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়ে প্রকল্পটির প্রথম সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প প্রস্তাব (আরটিএপিপি) অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখা-১ থেকে গতকাল জারি করা এক চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদন পায়। তখন এর মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯০৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ছিল চার কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ছিল ৯০০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত।
তবে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সারা দেশে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে দুই হাজার ৮১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত এক হাজার ৯০৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা যোগ হবে, যা প্রায় ২১১ শতাংশ বেশি।
মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সারা দেশে বিস্তৃত করতে প্রকল্পের আওতায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং যানবাহন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম শক্তিশালী করা হবে। এ জন্য প্রকল্পের কাঠামো ও ব্যয় পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে ৬০ হাজারের বেশি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যে ৪১ লাখ নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কার্ডধারী পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি মোবাইল বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বাড়াতেই এসএসপিরিট প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত প্রকল্প প্রস্তাবটি এখন অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।