• ই-পেপার

গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরেও ইতিহাস গড়ল কানাডা

ভিনির জোড়া গোলে বিরতিতে ব্রাজিল

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিনির জোড়া গোলে বিরতিতে ব্রাজিল
জোড়া গোলের পর ভিনির উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

গোল করার পর কর্নারের ফ্ল্যাগ হাতে সাম্বা ড্যান্সে মাতলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু নাচ শেষ করতেই শুনতে পেলেন বাতিল হতে পারে তার দ্বিতীয় গোলটি। ভিএআরে দেখার পর রেফারিও তাই করলেন। মনিটরে দেখার পর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় গোলটি বাতিল করে দিলেন তিনি।

পরে অবশ্য ঠিকই জোড়া গোল পেয়েছেন ভিনি। তার জোড়া গোলেই বিরতিতে গেছে ব্রাজিল। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন তিনি। সেখানে প্রথম গোলের সুযোগটা কি করে হাতছাড়া করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। যখন মুখের সামনে খাবার এসে পড়ে। 

মায়ামি স্টেডিয়ামে তাই সুযোগটাও হাতছাড়া করলেন না ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৭ মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়ে সহজেই স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। অ্যাঙ্গাস গানের অবশ্য কিছু করারই ছিল না। 

করবেন কি করে? সতীর্থ স্কট ম্যাককেনা যে শিশুতোষ ভুল করে বসেন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রায়ানের পায়ে মারেন। সেই বল ডি বক্সে আনমার্কড থাকা ভিনিসিয়ুস পান। তাতে সহজেই গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাসকে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এতে করে এবারের বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করলেন ভিনি। 

২২ মিনিট আরেকটি গোল করেছিলেন ভিনি। কিন্তু ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়। তাতে আনন্দটা মাটি হয়ে যায় তার। বল পাওয়ার আগে ভিনির পা সামনে থাকলে জ্যাক হেনড্রি ভারসাম্য হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগান তিনি। কিন্তু ভিএআরে সেটাকেই ফাউল ধরে। এ নিয়ে তাই বিতর্ক থেকেই গেল। 

বিরতিতে যাওয়ার আগে লিড বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল ব্রাজিল। ভিনির পাস থেকে বলকে জালের পথ দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন ম্যাথিউস কুনহা। তার শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে জালে যাওয়ার আগে গোলরক্ষকের পায়ে লেগে বাইরে যায়।

যোগ করা সময়ে অবশ্য ঠিকই ২-০ লিড নিয়েছে। এবারের গোলের নায়কও ভিনি। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সতীর্থ ব্রুনো গুইমারেসের ক্রসে শুধু ফাঁকা জালে হেড নিতে হয়েছে ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডকে।

অন্যদিকে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে অবিশ্বাস্য মিস করে বসেন রায়ান। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

অন্যদিকে ‘সি’ গ্রুপের অন্য ম্যাচে ২-২ গোলে বিরতিতে গেছে মরক্কো-হাইতি।

ভিএআরে বাতিল ভিনির গোল

ক্রীড়া ডেস্ক
ভিএআরে বাতিল ভিনির গোল
ভিএআরে গোল বাতিল হওয়ায় ভিনির আনন্দ পূর্ণতা পায়নি। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। সেখানে এমন সুযোগ কি করে হাতছাড়া করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। যখন মুখের সামনে খাবার এসে পড়ে। 

মায়ামি স্টেডিয়ামে তাই সুযোগটাও হাতছাড়া করলেন না ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৭ মিনিটে ডি বক্সে বল পেয়ে সহজেই স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। অ্যাঙ্গাস গানের অবশ্য কিছু করারই ছিল না। 

করবেন কি করে? সতীর্থ স্কট ম্যাককেনা যে শিশুতোষ ভুল করে বসেন। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড রায়ানের পায়ে মারেন। সেই বল ডি বক্সে আনমার্কড থাকা ভিনিসিয়ুস পান। তাতে সহজেই গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাসকে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এতে করে এবারের বিশ্বকাপে টানা তৃতীয় ম্যাচে গোল করলেন ভিনি। 

২২ মিনিট আরেকটি গোল করেছিলেন ভিনি। কিন্তু ভিএআরে গোলটি বাতিল হয়। তাতে আনন্দটা মাটি হয়ে যায় তার। বল পাওয়ার আগে ভিনির পা সামনে থাকলে জ্যাক হেনড্রি ভারসাম্য হারালে সেই সুযোগ কাজে লাগান তিনি। কিন্তু ভিএআরে সেটাকেই ফাউল ধরে। এ নিয়ে তাই বিতর্ক থেকেই গেল।

কাতারকে হারিয়ে নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
কাতারকে হারিয়ে নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা
কাতারের জালে শেষ পেরেক মারা মিডফিল্ডার মাহমিচের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

সিয়াটলে রেফারির কিক অফ বাঁশি শেষ হতেই বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার আক্রমণ। শুরুর ৩ মিনিটে একটি নয় দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে তারা। তবে সে যাত্রায় কাতারকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাডা। 

তবে এরমেন্ডিন দেমিরওভিচ ও ইভান সুনজিকের শট দারুণ দক্ষতায় শুরুতে ঠেকিয়ে দিলেও কাতারের হার এড়াতে পারেননি আবুনাডা। ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার কাছে ৩-১ ব্যবধানের হার দেখেছে তারা। এ হারে বিশ্বকাপের পথচলাও থেমেছে তাদের। বিদায়বেলা তাদের সঙ্গী হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রয়ে পাওয়া ১ পয়েন্ট।

বিপরীতে আজকের জয়ে বিশ্বকাপ ভাগ্যে টিকে রইল বসনিয়ার। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা তৃতীয়। অন্যদিকে কানাডার বিপক্ষে জয় পাওয়া সুইজাল্যান্ড ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। তাদের সঙ্গী হিসেবে শেষ ৩২ জায়গা পেয়েছে ৪ পয়েন্ট পাওয়া কানাডা। বসনিয়া-কানাডার পয়েন্ট সমান হলেও গোল ব্যবধানে রানার্সআপ হয়েছে কানাডা।

ম্যাচের শুরুতে কাতারের গোলরক্ষক আবুনাডা বাধা হয়ে দাঁড়ালেও ২৯ মিনিটে কেরিম আলাজবেগোভিচকে থামাতে পারলেন না। আসলে বক্সের বাইরে থেকে কেরিমের চোখ ধাঁধানো শটটি প্রতিহত করার কোনো উপায়ই ছিল না কাতারের গোলরক্ষকের। 

গোলমুখ খুলতেই দ্বিতীয় লিড নিতে সময় লাগল না বসনিয়াকে। তবে ৩৪ মিনিটে পাওয়া গোলটি আত্মঘাতী। এডিন জেকোর ভলি শট ব্লক করার জন্য সুলতান আল ব্রেক পা দাঁড়ালে হালকা স্পর্শ হওয়ায় বল জালে জড়ায়। বলের গতি পথ বদলে যাওয়ায় ঝাঁপিয়ে পড়েও আর ঠেকাতে পারেননি আবুনাডা। ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। ৩৮ মিনিটে ডেকোর বাঁ পায়ের শটটি দূরের পোস্টে না লাগত। 

দুই গোলে পিছিয়ে পড়া কাতার ম্যাচে ফেরে ৪২ মিনিটে। এডমিলসন জুনিয়রের পাসে দারুণ এক ফিনিশিং করেন হাসান আল হাইদুস। প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের পায়ের ফাঁক দিয়ে সমতা ফেরানো গোলটি করেন কাতারের অধিনায়ক। যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার সুযোগও পেয়েছিল তারা।

কিন্তু ভাগ্য পাশে ছিল না কাতারের। পেদ্রো মিগুয়েলের শট প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে বিট করলেও দূরের পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এতে হতাশা নিয়েই ২-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় তারা।

বিরতির পর সমতায় ফিরতে মরিয়া কাতারকে ৮১ মিনিটে ম্যাচ থেকেই ছিটকে দেন এরমিন মাহমিচ। সতীর্থ স্টেফান রেডেলজিচের পাস থেকে গোলটি করেন বদলি নামা মিডফিল্ডার। তার শেষ পেরেকেই ৩-১ গোলে জিতে বিশ্বকাপের নকআউটে যাওয়ার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছে বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনা। 

আজকের জয়ে তাদের পয়েন্ট দুই ম্যাচে ৪। সমান পয়েন্ট স্বাগতিক কানাডার হলেও গোল ব্যবধানে তারা ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন সুইজারল্যান্ডের সঙ্গী হয়ে তারা প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউটে সুযোগ পেয়েছে। সুইসদের পয়েন্ট ৭।

প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা ভেঙে ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ কাতার মিডফিল্ডার

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা ভেঙে ৫ ম্যাচ নিষিদ্ধ কাতার মিডফিল্ডার
সংগৃহীত ছবি

কড়া ট্যাকলে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পা ভেঙে দেওয়ার দায়ে কাতার মিডফিল্ডার আসিম মাদিবোকে বড় শাস্তি দিয়েছে ফিফা। কানাডার মিডফিল্ডার ইসমাইল কোনেকে গুরুতর ইনজুরিতে ফেলার অপরাধে মাদিবোকে ৫ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বুধবার (২৪ জুন) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই নিষেধাজ্ঞার খবর নিশ্চিত করেছে ফিফা।

চলতি ফিফা বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে কাতারের মুখোমুখি হয়েছিল কানাডা।

সেই ম্যাচে কাতারকে ৬-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় কানাডিয়ানরা। তবে ম্যাচটি ছাপিয়ে সব আলোচনা এখন মাঠের ভেতরের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত ফাউলকে কেন্দ্র করে।

খেলার ৫৩ মিনিটে কানাডার ইসমাইল কোনেকে পেছন থেকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ও কড়া ট্যাকল করে বসেন আসিম মাদিবো। ট্যাকলটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, কোনে সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ব্যথায় লুটিয়ে পড়েন।

রেফারি প্রথমে ফাউলের বাঁশি বাজালেও, ঘটনার তীব্রতা দেখে মাদিবোকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দেন। পরে ভিএআর প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। এই গুরুতর ফাউলের কারণে মাঠেই তাৎক্ষণিক চিকিৎসার পর ইসমাইল কোনেকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে এক্স-রে ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনের পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে জরুরি অস্ত্রোপচার (সার্জারি) করাতে হওয়ায় তার জন্য এবারের বিশ্বকাপ মিশন এখানেই শেষ হয়ে গেছে।

ম্যাচ শেষে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি। ফাউলের ধরনকে ‘মারাত্মক রকমের অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে লাল কার্ডের স্বাভাবিক শাস্তির বাইরেও অতিরিক্ত ৫ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় মাদিবোকে।

তবে ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, কাতারের এই মিডফিল্ডার চাইলে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল কমিটির কাছে আপিল করতে পারবেন।

এদিকে মাঠের সেই বৈরিতা ভুলে মানবিকতার এক অনন্য নজির দেখিয়েছেন আসিম মাদিবো। কোনের সফল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতালে তাকে দেখতে যান মাদিবো এবং কাতারের ক্রীড়ামন্ত্রী। সেখানে তিনি কোনের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।