বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহদী হাসানের ওপর হামলা হয়েছে। আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সংগঠক আলমগীর হাসান আবিদের ভাষ্য মতে, মাহদীর ওপর কয়েক দিন ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার চেষ্টা করে আসছিলেন। মাহদী হাসান গত বুধবার তাঁর ওপর হামলা চেষ্টার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। এ সময় ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার সময় মাহদী আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাঁকে ছাড় দেয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগলে অক্সিজেন দেওয়া হয়।
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবিদুর রেজা বলেন, ‘আহত অবস্থায় মাহদী হাসানকে ভর্তি করা হলে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। এখন তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’
এ ঘটনায় গতকাল বিকেল ৫টায় জেলা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান বলেন, মাহদীর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি ভাইরাল হওয়ার জন্য এসব করছেন। এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। চিকিৎসার জন্য তাঁকে হাসপাতালে পাঠাই।’ ওসি বলেন, ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাহদী হাসান অভিযোগ করেছেন, ফেসবুকে তাঁর দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে গত বুধবার ছাত্রদলের কর্মীরা তাঁকে ধাওয়া করেন। পরিস্থিতি ‘বেগতিক’ দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। ওই দিন দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। মাহদী হাসান ‘নিজের গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য’ এবং ভাইরাল হওয়ার জন্য মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। পুলিশও বলেছে, এ ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তারা।
জানা গেছে, গত ২ জানুয়ারি মাহদী জেলার শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।’—এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি আলোচনায় আসেন।
গতকাল গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলে মাহদী জানান, সম্প্রতি নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া রাজনৈতিক স্ট্যাটাস নিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী সহজভাবে নেননি।


