• ই-পেপার

হোসেন জিল্লুর রহমান বললেন

দেশে দুর্বল মানুষগুলোর দুর্দশা বেড়েছে

বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ ১২ জন নিহত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
বজ্রপাতে মা-ছেলেসহ ১২ জন নিহত

দেশের পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১২ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছয়জন, গাইবান্ধায় মা-ছেলে, ময়মনসিংহে দুজন এবং পঞ্চগড় ও নীলফামারীতে একজন নিহত হয়। গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার এসব ঘটনা ঘটে। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জ : সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলায় বজ্রপাতে এক রাখাল, দুই গৃহবধূ, দুই কিশোর-কিশোরী এবং এক এক যুবক নিহত হয়। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে ঘটনাগুলো ঘটে। মৃতরা হলেন সদরের আতাহার গ্রামের মো. রাব্বিলের ছেলে আবদুল্লাহ (১৭), শিবগঞ্জের চককীর্তি ইউনিয়নের চকনরেন্দ্র গ্রামের দুবাইপ্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মাহমুদা বেগম (১৯), একই ইউনিয়নের রানীবাড়ি বাজারপাড়া গ্রামের কাশেমের মেয়ে সাদিয়া (১৬), শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ফিটুর ছেলে মেসবাহুল ওরফে মেসবাবাবুর (১৪), নাচোলের লাহাবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাকিবের স্ত্রী সুমিয়ারা বেগম (৪০) এবং গোসাইপুর গ্রামের মো. শাফিউলের ছেলে হাসান আলী লালু (২১)। লাহাবাড়ির ঘটনায় আহত হয়েছেন জিয়াউর রহমান (৩৬) নামের এক ব্যক্তি।

সদর থানার ওসি একরামুল হোসাইন, শিবগঞ্জ থানার ওসি মতিউর রহমান, নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গাইবান্ধা : সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার বিকেলে ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। মৃতরা হলেন মান্দুরা গ্রামের শৈলেন চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী দাস (৫৫) ও ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস (৩২)। স্থানীয়রা জানায়, সোহাগ ঢাকায় চাকরি করতেন এবং এবার ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বিকেলে হঠাৎ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিলে তিনি মা কল্পনা রানীর সঙ্গে বাড়ির বাইরে শুকাতে দেওয়া খড় তুলতে যান। এক পর্যায়ে বজ্রপাতে মা-ছেলে দুজন বজ্রপাতের শিকার হন। মান্দুরা গ্রামের ইউপি সদস্য সাহিন আলম জানান, বজ্রপাতে আহত মা-ছেলেকে স্থানীয়রা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু পথেই মা-ছেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

ময়মনসিংহ : মুক্তাগাছার রৌয়ারচর বাজার এলাকায় গতকাল বজ্রপাতে কলেজ শিক্ষক এ এস এম খালেকুল আজাদ (৫৬) নিহত হন। তিনি উপজেলার রঘুনাথপুর রৌয়ারচর গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে। খালেকুল উপজেলার গাবতলী ডিগ্রি কলেজে গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : গফরগাঁওয়ে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল সিয়ামুল ইসলাম সিয়াম (২৩) নামের এক যুবকের। গতকাল পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের মধ্য লামকাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সিয়াম ওই গ্রামের মৃত রুকন মিয়ার ছেলে।

পঞ্চগড় : সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকায় গতকাল বিকেলে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (১৯) নামের এক তরুণ নিহত হন। তিনি ট্রাক্টরচালকের সহকারী ও এলাকার কেরামত আলীর ছেলে। অমরখানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী : ডিমলা উপজেলার নাউতারা নিজপাড়া গ্রামে গতকাল সন্ধ্যায় বজ্রপাতে রবিউল আলম নামের এক ব্যক্তি নিহত এবং শেরিনা বেগম নামের এক নারী গুরুতর আহত হন। রবিউল গ্রামটির নুর ইসলামের ছেলে। নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিরপুরে আরো এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
মিরপুরে আরো এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আরো এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনিও একা বসবাস করতেন। মিরপুর-৬ এলাকার একটি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা এই নারীর নাম সেলিনা আফরোজ (৫৫)। তাঁর স্বামী ও দুই সন্তান দীর্ঘদিন ধরে কানাডায় বসবাস করেন।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. এমদাদুল হক জানান, সেলিনা আফরোজ প্রায় ১২ বছর আগে কানাডা থেকে দেশে ফিরে বাবার ফ্ল্যাটে একা বসবাস শুরু করেন। তাঁর স্বামী ও দুই মেয়ে বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন। ফ্ল্যাটের দরজা খুলে স্বজনরা তাঁর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, গত ২৬ মে থেকে ৩ জুনের মধ্যের কোনো একসময় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। কারণ ২৬ মে রাতে এক ভাতিজার সঙ্গে ফোনে সর্বশেষ তাঁর কথা হয়েছিল। এর পর থেকে পরিবারের সদস্য বা স্বজনদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

পুলিশ জানায়, মরদেহে পচন ধরায় কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন  পেলে ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এর আগে গত রবিবার রাজধানীর পল্লবী এলাকায় নূরজাহান বেগম নামের এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনিও একটি ঘরে মৃত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে পল্লবী থানার পুলিশ গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।

আসছে সুপার এল নিনো, খাদ্যসংকটের আশঙ্কা এশিয়ায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
আসছে সুপার এল নিনো, খাদ্যসংকটের আশঙ্কা এশিয়ায়

কয়েক বছর ধরে খরার কারণে এশিয়াজুড়ে ফসল রোপণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জানিয়েছেন, আগামী মাসগুলোতে সুপার বা অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো আঘাত হানবে। ফলে জনবহুল এই মহাদেশে খাদ্য সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ভারতের শস্য উৎপাদনকারী উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সমভূমি, অস্ট্রেলিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় রুটির ঝুড়ি, থাইল্যান্ডের ধানক্ষেত ও ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ পাম তেল বাগানসবখানেই তীব্র গরম এবং স্বল্প বৃষ্টিপাত ফসলের ক্ষতি করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সার ও ডিজেল সংকটের মাঝে এল নিনোজনিত এই খরা কৃষকদের জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে ২০২৬ সালের শুরু থেকে গমের দাম প্রায় ২০ শতাংশ এবং গত এক মাসে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার রপ্তানি হাবগুলোতে চালের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০২৬ সালের শেষভাগে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো জোরালো রূপ নিতে পারে, যা এশিয়ায় তীব্র খরা এবং আমেরিকায় অতিবৃষ্টি বয়ে আনবে। স্যাটেলাইট ডেটা সংস্থা স্কাইফাই জানিয়েছে, তাদের হাই-রেজল্যুশন ইমেজারিতে এরই মধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন অংশে খরার প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

ভারতে প্রায় ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাত নির্ভর করে চার মাসের বর্ষা মৌসুমের ওপর। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর সম্প্রতি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আরো কমিয়ে দিয়েছে। তীব্র গরমের কারণে গ্রীষ্মকালীন ফসল (ধান, সয়াবিন, ডাল, আখ ও ভুট্টা) রোপণ বিলম্বিত হচ্ছে। একই পরিস্থিতি থাইল্যান্ড ও ফিলিপিন্সেও, যেখানে জুন-জুলাইয়ে প্রধান ধান রোপণ করা হয়। থাইল্যান্ডের কৃষকরা পানির অভাবে দ্বিতীয়বার ধান চাষ করা নিয়ে ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপসহ বেশ কিছু অঞ্চলে টানা ১০ দিনের বেশি কোনো বৃষ্টি হয়নি।

বিশ্বের মোট চাল রপ্তানির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে ভারত। তাদের কাছে পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও বাজারে চালের দাম বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হলে ভারত নিজেদের মজুদ ধরে রাখতে চাল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে। এ ছাড়া সারসংকটের কারণে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে চাল উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে থাইল্যান্ডের কিয়াতনাকিন ফাত্রা ব্যাংক। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কৃষকরা এল নিনোর আশঙ্কায় তাঁদের গম চাষের এলাকা প্রায় ৩০ শতাংশ কমিয়েছেন। সূত্র : রয়টার্স

আদ-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যু

হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে তদন্তে

নিজস্ব প্রতিবেদক
হাসপাতালের অবহেলার প্রমাণ মিলেছে তদন্তে

রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি। তিন সদস্যের কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা তৈরি হয়। বদ্ধ কক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় অস্ত্রোপচারের পর রাখা নবজাতকদের জন্য পরিবেশ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাসপাতালটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের প্রধান ফটকে কারণ দর্শানোর নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়। এতে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ সম্ভব নয়। তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং লিখিত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছোট একটি বদ্ধ কক্ষে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায় এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে নবজাতকদের দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অনুপস্থিতি, নার্সদের দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার বিষয়টিও তদন্তে উঠে এসেছে।

চরম অবহেলা ও অসহযোগিতা : গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দায়িত্বরত সেবিকা, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মৃত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে চরম অবহেলার প্রমাণ পেয়েছে।

মন্ত্রী জানান, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলেও সংশ্লিষ্ট নার্স দ্রুত সাড়া দেননি। অভিভাবকদের আহ্বানেও তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেননি এবং কোনো চিকিৎসককে বিষয়টি অবহিত করেননি। ফলে জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদানে বিলম্ব ঘটে। তদন্তে আরো দেখা গেছে, পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ড নম্বর-২-এ রোগীদের দেখাশোনার জন্য কোনো চিকিৎসক দায়িত্বে ছিলেন না। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেবিকাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণও ছিল না।

ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ৯০০ বর্গফুট আয়তনের ওই কক্ষে ১১ জন রোগী, নবজাতক ও তাদের স্বজনসহ প্রায় ৫০ জন অবস্থান করছিল। কক্ষটিতে আলো-বাতাস চলাচলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল না। অতিরিক্ত লোকজনের উপস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি। তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রমাণ পাওয়া গেছে যে তাঁরা হাসপাতাল পরিচালনার মৌলিক শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে যে শাস্তির বিধান রয়েছে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেন, নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিল করা হবে। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে। মন্ত্রী আরো বলেন, মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। আইনে যতটুকু কঠোর হওয়ার সুযোগ রয়েছে, আমরা তার সর্বোচ্চ প্রয়োগ করব।

ময়নাতদন্ত হয়নি : গত ২৭ মে ভোর ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ ও সিআইডি ময়নাতদন্তের উদ্যোগ নিলেও শোকাহত পরিবারগুলোর আপত্তির কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা যায়নি। তবে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হয়েছে।

হাসপাতালের অনুমোদন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিষ্ঠানটির প্রাথমিক অনুমোদন থাকলেও পরবর্তী সময়ে ভবনে একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা আইনসংগত নয়। রাজউকের এক প্রতিবেদনে ভবনের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। তদন্তে নবম তলায় বেকারি স্থাপনের অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

সারা দেশে নজরদারি জোরদার : আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনার পর দেশের সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিভাগীয় পরিচালক, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নতুন হাসপাতাল বা ক্লিনিকের লাইসেন্স দেওয়ার আগে ভবনের উপযোগিতা যাচাই এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দণ্ডবিধির ১৮৬০ সালের ৩০৪-ক ধারায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এ ধারাসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দেশে দুর্বল মানুষগুলোর দুর্দশা বেড়েছে | কালের কণ্ঠ