• ই-পেপার

ধর্মীয় জ্ঞানার্জনে মেধা ও মননের ব্যবহার

কোরআন থেকে শিক্ষা

পর্ব-১১৯৪

কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ

হে মুমিনরা! আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সম্মুখে তোমরা কোনো বিষয়ে অগ্রণী হয়ো না। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞা। হে মুমিনরা! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু কোরো না এবং নিজেদের ভেতর যেভাবে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলো তার সঙ্গে সেভাবে উচ্চৈঃস্বরে কথা বোলো না।...

(সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১-২)

পবিত্র কোরআনের ৪৯তম সুরা হুজুরাত। মদিনায় অবতীর্ণ এই সুরায় পারিবারিক ও সামাজিক জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিধান বর্ণনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় যেকোনো কথা ও কাজে তাঁর চেয়ে অগ্রগামী হওয়া নিষিদ্ধ ছিল, এমনকি হাঁটার সময় তাঁকে অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়াও। পরবর্তীদের জন্য আয়াতের শিক্ষা হলো মহানবী (সা.)-এর মর্যাদা পরিপন্থী সব কথা-কাজ পরিহার করা।

২. আলেমরা নবীদের উত্তরসূরি, তাই সাধারণ মানুষের জন্য তাদের সম্মান রক্ষা করাও জরুরি।

৩. কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি (রহ.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পরও তাঁর সম্মান রক্ষা করা আবশ্যক এবং বেয়াদবি করা হারাম।

৪. আলেমরা বলেন, রওজা আতহার জিয়ারত করার সময় অহেতুক কথা বলা এবং উচ্চৈঃস্বরে সালাম দেওয়াও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মর্যাদা পরিপন্থী।

৫. হাদিসের দরসে হট্টগোল করা, গালগল্পে লিপ্ত হওয়া এবং অমনোযোগী থাকাও বেয়াদবির অন্তর্ভুক্ত।

  (মাআরেফুল কোরআন : ৮/৮৫)

গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে করমর্দন করার বিধান

ইসলামী জীবন ডেস্ক
গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে করমর্দন করার বিধান

গায়রে মাহরাম (যার সঙ্গে বিবাহ বৈধ) নারী ও পুরুষের করমর্দন সম্পর্কে ইসলামী আইনবিদদের মধ্যে মতভেদ আছে। হানাফি, মালিকি, শাফেয়ি ও হাম্বলি মাজহাবের গ্রহণযোগ্য মত অনুসারে প্রাপ্তবয়স্ক গায়রে মাহরাম নারীর সঙ্গে করমর্দন হারাম। হানাফি আইনবিদরা এই হারাম হওয়ার শর্ত হিসেবে বলেছেন, যদি নারী কামনা জাগানিয়া (যাকে দেখে আকর্ষণ সৃষ্টি হয়) হন, তাহলে এমন নারীর সঙ্গে করমর্দন হারাম।

হাম্বলি মাজহাবের আলেমরা বলেছেন, করমর্দন সরাসরি হোক বা কাপড় বা অন্য কোনো আবরণ দিয়ে হোকউভয় অবস্থায়ই তা নিষিদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো ফিতনার আশঙ্কা। যদি করমর্দনকারী দুজনের মধ্যে একজন এমন হন, যিনি কামনা করেন না এবং তাঁকে নিয়েও কামনার আশঙ্কা নেই, তাহলে ফিতনার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বা প্রায় অনুপস্থিত। তবে মালিকি মাজহাবের আলেমরা বলেছেন, এমনকি বয়স্ক বৃদ্ধা নারীর সঙ্গেও করমর্দন করা বৈধ নয়। তাঁরা এ ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাসংক্রান্ত সাধারণ দলিলগুলোকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

অন্যদিকে শাফেয়ি মাজহাবের ফকিহ গায়রে মাহরাম নারীর শরীর স্পর্শ করাকে সাধারণভাবে হারাম বলেছেন; তাঁরা বৃদ্ধা ও যুবতির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। সুতরাং তাঁদের মতে, উভয়ের সঙ্গেই করমর্দন নিষিদ্ধ। সংক্ষেপে বেশির ভাগ ইসলামী ফকিহের মতে, গায়রে মাহরাম যুবতি নারীর সঙ্গে করমর্দন হারাম।

হানাফি মাজহাবে এ নিষেধাজ্ঞা কামনা জাগানিয়া নারীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে (বৃদ্ধা নারীর ক্ষেত্রে নয়), আর হাম্বলি মাজহাবের মতে, আবরণ থাকুক বা না থাকুকউভয় অবস্থায়ই হারাম হওয়ার এ বিধান প্রযোজ্য।

মাওলানা ফজলুর রহমানের হুঁশিয়ারি ‘পাকিস্তান ডুবছে’

ইসলামী জীবন ডেস্ক
মাওলানা ফজলুর রহমানের হুঁশিয়ারি ‘পাকিস্তান ডুবছে’

জমিয়তে উলামা-ই-ইসলাম (এফ), পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীকে সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তািন ডুবছে, দেশ একটি কঠিন পথ অতিক্রম করছে। বর্তমানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি পাকিস্তানের তুলনায় ভালো। তিনি আফগানিস্তানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, বেলুচিস্তান ও কাশ্মীর অঞ্চলে সৃষ্ট অসন্তোষ দমনে ব্যর্থতার দরুন তিনি সরকারকে সতর্ক করেছেন।

একটি রাজনৈতিক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফজলুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আঞ্চলিকভাবে ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং দেশটি একদিকে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, অন্যদিকে আফগানিস্তান উভয়ের সঙ্গেই সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ও মুখোমুখি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিরোধ কোনো দেশেরই উপকারে আসছে না; তাই এই সংঘাতের অবসান হওয়া উচিত।

তিনি উভয় পক্ষকে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রচারণা বন্ধ করার আহবান জানিয়ে বলেন, প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করুন। এক পক্ষ বলে তারা নির্দোষ, অন্য পক্ষও একই দাবি করে। এক পক্ষ বলে তারা আত্মরক্ষার জন্য লড়ছে, অপর পক্ষও একই কথা বলে। এসব কথায় সমস্যার সমাধান হয় না।

জমিয়তে উলামা-ই-ইসলামের এই নেতা আরো বলেন, তাঁর দল আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য প্রস্তুত। তবে এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে হলে আগে একটি উপযুক্ত ও অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের উচিত তাদের বর্তমান নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা।

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ ডটএএফ

মুমিনের জীবনে নবীপ্রেমের স্বরূপ

আলেমা হাবিবা আক্তার
মুমিনের জীবনে নবীপ্রেমের স্বরূপ

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ভালোবাসা ঈমানের অংশ। নবীজি (সা.)-কে যথাযথভাবে ভালোবাসতে না পারলে ব্যক্তির ঈমান অপূর্ণ থেকে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে সত্তার হাতে আমার জীবন! তোমাদের কেউ পরিপূর্ণ মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার মা-বাবা ও সন্তান-সন্ততি থেকে প্রিয় হবো।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪)

তবে প্রাজ্ঞ আলেমরা বলেন, নবীজি (সা.)-এর ভালোবাসার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। নবীপ্রেমের নামে এমন কিছু করা যাবে না, যা শরিয়ত অনুমোদন করে না, যার মাধ্যমে নবীজি (সা.)-কে আল্লাহর অংশীদার প্রমাণিত করা হয়। আবার তাঁর ভালোবাসা থেকে বিমুখও থাকা যাবে না। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি

সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে, যাতে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনো এবং রাসুলকে শক্তি জোগাও ও তাকে সম্মান করো; সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্র ও মহিমা ঘোষণা করো।

(সুরা : ফাতহ, আয়াত : ৮-৯)

উল্লিখিত আয়াতদ্বয়ে আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দায়িত্ব ও কর্তব্য, তাঁর প্রতি মুমিনের করণীয় এবং তাঁর প্রতি সম্মানের সীমান চিহ্নিত করেছেন। তা এভাবে যে পৃথিবীর অসংখ্য নবী-রাসুলের মতো তাঁর দায়িত্ব ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষকে সুসংবাদ ও হুঁশিয়ারি প্রদান করা। নবীজি (সা.)-এর প্রতি মুমিনের দায়িত্ব হলো তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা, তাঁর কাজে সহযোগিতা ও তাঁকে প্রাপ্য সম্মান দান করা। সম্মান ও ভালোবাসার সীমা হলো তাঁকে উপাস্যের স্তরে নিয়ে না যাওয়া। কেননা এ ক্ষেত্রে আল্লাহর কোনো শরিক নেই। আর রাসুলের ভালোবাসা ও আনুগত্য আল্লাহর ভালোবাসা ও আনুগত্যের অধীন। মহান আল্লাহর সতর্কবার্তা হলো যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর অবাধ্যতা থেকে সাবধান থাকে তারাই সফলকাম।

(সুরা : নুর, আয়াত : ৫২)

শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা বিদআত নয়, তবে প্রকাশ পেতে হবে তাঁর পথ অনুসরণ, তাঁর আদেশ পালন ও নিষেধ পরিহার এবং সর্বদা তাঁর প্রতি দরুদ পাঠের মাধ্যমে। তবে রাসুলের ভালোবাসার নামে এমন কিছু করা যাবে না শরিয়তে যার কোনো ভিত্তি নেই। কেননা মহান আল্লাহ বলেছেন, তাদের কি এমন কতগুলো উপাস্য আছে, যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে এমন দ্বিনের, যার অনুমতি আল্লাহ দেননি? (সুরা : আশ-শুরা, আয়াত : ২১)

বিপরীতে ইসলাম সেসব মানুষেরও নিন্দা করেছে যারা আল্লাহর রাসুলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না, তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করে না এবং তাঁর আনুগত্য করে না। অথচ মহান আল্লাহর ঘোষণা হলো—‘হে মুমিনরা! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো।

(সুরা : আনফাল, আয়াত : ২০)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, আল্লাহ নবীর প্রতি অনুগ্রহ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করে। হে মুমিনরা! তোমরাও নবীর জন্য অনুগ্রহ প্রার্থনা করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।

(সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৬)

বিশেষত আল্লাহ সেসব মানুষকে সতর্ক করেছেন যারা সম্মানের সঙ্গে নবীজি (সা.)-এর নাম উচ্চারণ করে না। ইরশাদ হয়েছে, রাসুলের আহবানকে তোমরা তোমাদের একে অপরের আহ্বানের মতো গণ্য কোরো না।

(সুরা : নুর, আয়াত : ৬৩)

হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনি খাঁটি নবীপ্রেমিক হওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

 

ধর্মীয় জ্ঞানার্জনে মেধা ও মননের ব্যবহার | কালের কণ্ঠ