kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইকরামুল মুসলিমীনের ত্রাণ বিতরণ

ইসলামী জীবন ডেস্ক   

৩ জুন, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইকরামুল মুসলিমীনের ত্রাণ বিতরণ

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ বিতরণ করেছে আলেমদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন।

৩১ মে রবিবার সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা ও আশাশুনি উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায় কয়েকশ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে ফাউন্ডেশনটি।

বেড়িবাঁধের বালি ভরাটের জন্য প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসাইনের কাছে দুই হাজার পিস বস্তা প্রদান করে তারা। এর আগে লাগাতার দুই দিন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন ফাউন্ডেশনের নেতারা।

সংগঠনের আহ্বায়ক মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ বলেন, ‘আমরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো ঘুরে দেখেছি। বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। মানুষের ঘরবাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে পরিবারগুলো। এখন পর্যন্ত বলার মতো তেমন কোনো সরকারি বা বেসরকারি অনুদান সেখানে পৌঁছেনি। মানবেতর জীবনযাপন করছে উপকূলবাসী।’

তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনের কারণে কিছু এলাকা সামান্য রক্ষা পেলেও বেশির ভাগ এলাকাই বিধ্বস্ত হয়েছে। চিংড়িঘের ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত। জোয়ারের পানি বিপত্সীমা পেরোনোয় মাছ ভেসে গেছে। নোনা পানির কারণে ফসলাদি নষ্ট হয়ে গেছে অনেকের।

জানা যায়, স্থানীয় লোকজনের স্বেচ্ছাশ্রমে এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে শ্যামনগর ও আশাশুনির ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকায়।

তবে সেটা পর্যাপ্ত নয়, জোয়ার এলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। সরকারিভাবে বেড়িবাঁধের দাবি স্থানীয়দের। ইকরামুল মুসলিমীনের পক্ষ থেকে বেড়িবাঁধের জন্য দুই হাজার পিস বস্তা দেওয়া হয়।

ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে থাকায় সহায়-সম্বলহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো রাস্তায় ঠাঁই নিয়েছে এমন এক হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী ও ১০০ বাথরুম করে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইকরামুল মুসলিমীন।

এ ছাড়া শ্যামনগরের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে ত্রাণের জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর ঘূর্ণিঝড় আম্ফান তহবিলে নগদ অর্থ প্রদান করে তারা।

উল্লেখ্য, ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন করোনাকালে লকডাউনের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জরুরি খাদ্যসামগ্রী বিতরণ, স্প্রে, জনসচেতনতায় মাইকিং, নগদ অর্থ বিতরণ, তিন দফা রমজান প্যাকেজ, ঈদ প্যাকেজ ও রান্না করা খাবার, ইফতার-সাহরি বিতরণ করেছে। সারা দেশে ৭০টি টিমের মাধ্যমে করোনায় মৃতের কাফন-দাফনের কাজও চলমান আছে তাদের।

হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, হিজরা কিংবা বেদে,  সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্যই কাজ করছে ফাউন্ডেশনটি।

এর আগে হিজড়া ও বেদে সম্প্রদায়কে ঈদ উপহার ও নগদ অর্থ সহায়তা দেয় ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন। গত ১৯ মে মঙ্গলবার মুন্সীগঞ্জের লৌহজং বেদেপল্লীর প্রায় আড়াই শ পরিবারকে ঈদ উপহার এবং শ্যামপুরে হিজড়াদের বাড়িতে ঈদ উপহার বিতরণ করে ইকরামুল মুসলিমীন ফাউন্ডেশন।

ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহর নেতৃত্বে আব্দুর রহমান কোব্বাদী, এহসান সিরাজ, সিরাজুল ইসলাম আকন, সাব্বির মাজহারী, মনযূরুল হকসহ স্থানীয় নেতারা ত্রাণকার্য পরিচালনা করেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা