জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং গঠনমূলক বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপকে বৈশ্বিক পরিসরে আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই নতুন উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ, বিশ্লেষণধর্মী লেখা এবং মতামতভিত্তিক নিবন্ধের মাধ্যমে আল-উম্মাহ জ্ঞানচর্চা, বুদ্ধিবৃত্তিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল চিন্তাধারাকে এগিয়ে নিতে কাজ করবে। জার্নাল ও ওয়েবসাইটটি বর্তমানে বাংলা, ইংরেজি, আরবি ও তুর্কি—এই চারটি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে। পাশাপাশি ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে কৌশলগত সংযোগ ও সহযোগিতা গড়ে তুলতেও এই উদ্যোগ কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্বখ্যাত তুর্কি লেখক, গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই। সভাপতিত্ব করেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে ভুল তথ্য ও বিভাজন সমাজে দ্রুত ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় জ্ঞান, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীল চিন্তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা যেকোনো বিশ্বাসযোগ্য উদ্যোগের গুরুত্ব অনেক বেশি।
জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা এবং গবেষণাকর্ম তুলে ধরার ক্ষেত্রে আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইটকে গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গঠনমূলক সংলাপ এবং ভিন্নমতের সমন্বয়ের মাধ্যমেই স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব।
অধ্যাপক ইয়াসিন আকতাই বলেন, মুসলিম বিশ্বের রয়েছে সমৃদ্ধ বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য। তবে বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় এর কার্যকর সংযোগ স্থাপন এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও অর্থবহ সংলাপের মাধ্যমে আল-উম্মাহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক, শিক্ষাবিদ ও তরুণ বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে ইতিবাচক পরিবর্তনে অনুপ্রাণিত করতে পারে। সচেতন, ঐক্যবদ্ধ ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ মুসলিম সমাজ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ-তুরস্কের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে মানবতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি বাংলাদেশ-তুরস্কের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করেছে।
আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও আল-উম্মাহ জার্নালের সম্পাদক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, স্থায়ী ও ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয় জ্ঞান, গঠনমূলক সংলাপ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে। আল-উম্মাহ এমন একটি প্ল্যাটফর্ম; যা গবেষণা, অর্থবহ আলোচনা এবং জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর বুদ্ধিবৃত্তিক কণ্ঠকে আরো শক্তিশালী করতে কাজ করবে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের চিন্তক, লেখক ও গবেষকদের অনুপ্রাণিত করা—যাতে তারা প্রজ্ঞা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারেন।’
অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় মুসলিম উম্মাহকে শক্তিশালী করতে বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব, গণমাধ্যম, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
নতুন এই জার্নাল ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আল-উম্মাহ ফাউন্ডেশন গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা সম্প্রসারণের পাশাপাশি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সমৃদ্ধ বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে কাজ করবে।




