জ্বালানি খাতকে আরো স্বচ্ছ, টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার, নীতিগত সংস্কার, গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘এনার্জি টক-৪ : ট্রানজিশন রিয়েলিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তারা। ড্রিম রিসার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিআরডিএফ) সভাপতি ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান বাস্তবতা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব এবং জ্বালানি রূপান্তরে নাগরিক সমাজের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় ‘বাংলাদেশে জ্বালানি রূপান্তরের যৌক্তিকতা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম। তিনি বলেন, জ্বালানি সংকটের মূল কারণ শুধু জ্বালানির ঘাটতি নয়, বরং আমদানিনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি। এই বাস্তবতায় টেকসই জ্বালানি রূপান্তরের সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিজস্ব সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার। সুতরাং এখনই জ্বালানি রূপান্তরের গতি ত্বরান্বিত করতে হবে।
‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তির জ্বালানি রূপান্তরে সম্ভাব্য প্রভাব’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ও জ্বালানি গবেষক ড. মোশাহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, জ্বালানিনীতি কখনোই শুধু প্রযুক্তি বা অর্থনীতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে বাণিজ্য, ভূ-রাজনীতি এবং জাতীয় স্বার্থ। যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি এমন হতে হবে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পথকে শক্তিশালী করবে।
‘জ্বালানি রূপান্তরের আন্দোলন’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। তিনি বলেন, জ্বালানি রূপান্তর কোনো অবান্তর চাওয়া নয়, এটি বাংলাদেশের সময়ের দাবি। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ, আমদানিনির্ভরতা ও জলবায়ু ঝুঁকি থেকে বেরিয়ে এসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে এখনই সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রকৃতিকে ধ্বংস করে এবং মানুষের জীবিকাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয়, তা কখনো টেকসই উন্নয়ন হতে পারে না। সুতরাং জ্বালানি রূপান্তরের আন্দোলন পরিচ্ছন্ন, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই হতে হবে।
সভায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, উন্নয়নকর্মী, পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধি, তরুণ নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিটি উপস্থাপনার পর অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর ও মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে ন্যায়সংগত ও টেকসই জ্বালানি রূপান্তর বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা ও নীতিগত সংলাপ জোরদার এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘এনার্জি টক’ ধারাবাহিকভাবে আয়োজন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।