• ই-পেপার

যুদ্ধজয়ের যাত্রা : মার্চ থেকে ডিসেম্বর

  • সালেক খোকন

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রস্তুতি সম্পন্ন

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রস্তুতি সম্পন্ন
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রস্তুতি সম্পন্ন। গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাক্ষাৎকার : ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

জিয়াউর রহমানের ঘোষণা বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা যাবে না

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালের কণ্ঠকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান

জিয়াউর রহমানের ঘোষণা বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লেখা যাবে না
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

কালের কণ্ঠ : ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিভাবে শুরু হলো এবং কিভাবে বাংলাদেশের জন্ম হলো?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : এটি লম্বা ইতিহাস। ছোট করে যদি বলি, ২৫ মার্চ রাতেই পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। এর আগে মানুষ হতাশায় ভুগছিল, যাদের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না বা তারা মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণা মানুষের মধ্যে সাহসের জোগান দিল, তারা মনে করল এবার মুক্তিযুদ্ধ হবে। যুদ্ধে বাঙালি সেনারা নেমে গেছে, তাই পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বর্বরতার মোকাবেলা করা সম্ভব হবে বলে মানুষের মনে আশার সঞ্চার হয়।

কালের কণ্ঠ : আপনি কি স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছিলেন?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমি নিজের কানে শুনেছি। সেই ঘোষণা শুনেই উদ্বেলিত হয়েছি।

কালের কণ্ঠ : তখন সময়টা কয়টা ছিল?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : আমি যখন শুনি তখন ২৬ মার্চ আনুমানিক সকাল ১০টা। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে আশাহত মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হলো। তারা মনে করল, এবার মুক্তিযুদ্ধটা হবে। বাঙালি সেনারা যুদ্ধে নেমে গেছে। পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে নিরস্ত্র বাঙালি মোকাবেলা করতে পারবে কি না এ নিয়ে হতাশা ছিল। কিন্তু তখন জিয়াউর রহমানের ঘোষণা মানুষকে ঘুরিয়ে দিল, আশার সঞ্চার করল। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা এ জন্য গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, দল-মত-নির্বিশেষে গোটা বাঙালি জাতি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, কামার-কুমার ও কৃষকের সন্তানরা।

কালের কণ্ঠ : বিগত আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি করেছে। বিএনপি সরকার জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেবে কি?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : আমি আগেই বলেছি, এটি কোনো দলের যুদ্ধ ছিল না। এটি ছিল জনযুদ্ধ। আর বিএনপি আওয়ামী লীগের মতো বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধকে নিজের দলীয় যুদ্ধ বানানো, মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা দাবি বিএনপি কখনোই করে না। তবে ইতিহাস যদি লিখতে হয় জিয়াউর রহমানের এই ঘোষণা বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা যাবে না। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাই মানুষকে ঘুরিয়ে দিয়েছিল। হতাশাগ্রস্ত মানুষকে আলোর দিশা দেখিয়েছিল। জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনে আমার মধ্যেও উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল, সেটাই আমি বললাম। কারো নাম বাদ দিয়ে ইতিহাস লেখা যাবে না।

কালের কণ্ঠ : নতুন প্রজন্মের কাছে আপনাদের সরকার কিভাবে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরবে?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : আমি মনে করি, বিএনপির উচিত বা আমাদের সবার উচিত সঠিক ইতিহাসটা তুলে ধরা। আমাদের প্রজন্ম মরে গেলে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আর কেউ কথা বলার থাকবে না। আমি নিরপেক্ষ মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছি। সেখানে যে ব্যক্তি যুদ্ধটা শুরু করলেন তাঁর নাম বাদ দিয়ে ইতিহাস শুরু করা যাবে না। হ্যাঁ, একটি আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। সেই আন্দোলনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন, মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান, সোহরাওয়ার্দী ছিলেন, আরো অনেকে ছিলেন। এই আন্দোলনটা ত্বরান্বিত হয়েছিল মুক্তিযুুদ্ধে। আর সেই মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান।

কালের কণ্ঠ : স্বাধীনতার ৫৫ বছরের সবচেয়ে বড় অর্জন কী? অসম্পূর্ণই বা রয়ে গেল কী?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। এটা হলো ৫৫ বছরে সবচেয়ে বড় ক্ষতিকর একটা অধ্যায়। আজকে যদি হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকে সর্বজনীন রাখতেন, যার যার অবদান তার তার মূল্যায়ন করতেন...! আজকে আমার খুব কষ্ট হয়, যখন দেখি আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্ক হয়। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বাজে কথা বলে। তারা আবার জনগণের কাছে যায়, বলে ভোট দেন। এটা আমাদের জন্য খুবই কষ্টের এবং এ নিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। এত মানুষের জীবনের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আমরা তো মুক্তিযুদ্ধ করেছি, ক্ষমতার ভাগ চাইনি।

কালের কণ্ঠ : একাত্তর  আর চব্বিশ কিভাবে দেখেন?

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু : একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধ আর চব্বিশ এক নয়। স্বাধীনতার যুদ্ধ আমাদের একটি পতাকা দিয়েছে, একটি দেশবাংলাদেশ দিয়েছে। আমাদের জাতির পরিচয় দিয়েছে। আর চব্বিশ তো আমাদের পরিচয় দেয়নি। এটি স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি দিয়েছে।

সাক্ষাৎকার: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে রক্ত টগবগিয়ে ওঠে

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কালের কণ্ঠকে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনে রক্ত টগবগিয়ে ওঠে
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

কালের কণ্ঠ : ওই সময়ের কিছু স্মৃতির কথা বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ১৯৭১-এর ২৬ মার্চ ছিল মূলত বিগিনিং। ওই দিন মেজর (শহীদ রাষ্ট্রপতি) জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই আমরা স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ি। শুধু আমরা নই, দেশের সব মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। অথচ গত ১৭ বছর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণাকে অস্বীকার করা হয়েছে। বাট দ্যাট ইজ দ্য ইজ দ্য রিয়ালিটি। শুধু আমার কথা নয়। ওই সময় যাঁরাই ছিলেন তাঁরা সবাই এটা জানেন। সত্যিকারের ইতিহাস কখনোই মুছে ফেলা যায় না।

কালের কণ্ঠ : জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা সম্পর্কে একটু বিস্তারিত বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : একটি বিশাল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করা, এটা নিঃসন্দেহে এই জাতির জন্য অত্যন্ত গর্বের। এ কারণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাদের কাছে এত বেশি প্রাসঙ্গিক, অনুকরণীয় ও স্মরণীয়। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের গোটা জাতিকে একটা নতুন ভূখণ্ড, নতুন পতাকা এবং নতুন একটা পরিচিতি দিয়েছিল। একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে এগুলো আমরা অর্জন করতে পেরেছিলাম। কিন্তু তারও আগে বহুদিন ধরেই এ দেশের মানুষ স্বাধীকারের জন্য সংগ্রাম করছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা আমাদের একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা দিয়েছিল। দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহস জুগিয়েছিল।

কালের কণ্ঠ : জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার পর কেমন লেগেছিল?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : আমরা তখন টগবগ করছি যুদ্ধের জন্য, লড়াইয়ের জন্য। দেশের মানুষও তখন দেশ স্বাধীনের নেশায় লাড়াই-সংগ্রামে নামতে মুখিয়ে ছিল। অথচ কোনো দিশা নেই, দিকনির্দেশনা নেই। ঠিক সেই সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রক্ত টগবগিয়ে ওঠে। মনে হলো এই বুঝি মুক্তির দিশা মিলল।

কালের কণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধের কথা যদি কিছু বলতেন...।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : দেশের জনগণের স্বাধিকারের লড়াই-সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হয় না। জনযুদ্ধ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ কখনো ব্যর্থ হবে না। এ যুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে আমার পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন আমি হয়তো বেঁচে ফিরব না। কিন্তু আমার কখনো এ রকম মনে হয়নি। আমরা সব সময় আশাবাদী ছিলাম, হয়তো লম্বা সময় লাগতে পারে, তবে বাংলাদেশ অবশ্যই স্বাধীন হবে।

কালের কণ্ঠ : আপনি কখন স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছিলেন?

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ২৬ মার্চ রাত্রিবেলা আমরা প্রথম জিয়াউর রহমানের ঘোষণা শুনতে পাই। ২৭ তারিখে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা শুনতে পাই। এটা শুনেই আমরা সবাই রাস্তায় বেরিয়ে আসি। মানুষকেও বের হওয়ার জন্য ডাকতে থাকি। তখন আমাদের ওখানকার এসডিপিওকে গিয়ে বলিতোমার আর্মসের আলমারিটা খুলে দাও। খুলে দেওয়ার পর সেখান থেকে কিছু আর্মস নিই। পরে বিডিআরের কিছু অংশ বিদ্রোহ করে। তারাও আমাদের সঙ্গে একই জায়গায় শেল্টার নেয়। তাদের সহযোগিতায় আমরা সৈয়দপুর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের দিকে যে হাইওয়ে রাস্তাটা আছে, ওই রাস্তাটা ধরে যে ব্রিজ ছিল সেটা কেটে দিই, যাতে সৈয়দপুর থেকে পাকবাহিনী ঠাকুরগাঁওয়ে আসতে না পারে। ভোরের দিকে বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটা অংশ আসে। তখনকার বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসারের নাম ছিল ক্যাপ্টেন নাসের। পরে সে মেজর জিয়াউর রহমানের আমলে এনএসআই চিফও হয়।

কালের কণ্ঠ : যুদ্ধের সময়ের কথা কিছু বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : ওই সময়টায় পশ্চিম দিনাজপুরে ইসলামপুর নামের একটি সাবডিভিশন শহরে নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেখানে দিলীপের সাইকেল স্টোরে থাকি। এই দিলীপের সঙ্গে যুদ্ধের সময় আমাদের পরিচয় হয়। সে আমাদের থাকার জায়গা দেয়। তার সাইকেল স্টোরে আলমারির পেছন দিকে একটু ছোট জায়গায় রাতে খুব কষ্ট করে থাকতাম। জায়গাটি এত ছোট যে কোনো রকমে মাথাটা রাখা যেত। আমার চাচা বাবলু মির্জাসহ সাতজন সেখানে থাকতাম। আমরা তখন চেষ্টা করেছি ভারতের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিংয়ের জন্য একটা ইয়ুথ ক্যাম্প করার। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকার আমাদের ইসলামপুর হাই স্কুলে শিফট করে দেয়। পরবর্তী সময়ে আমরা সেখানেই থাকতাম। আমরা বর্ডারে অর্গানাইজিং ইয়ুথ ক্যাম্প তৈরি করি।

কালের কণ্ঠ : ওই সময়ের আরো কিছু কথা যদি বলতেন...।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : শেখ মুজিব ধরা পড়ে পাকিস্তানিদের হাতে চলে যান সেন্স অব ডিরেকশনে (একক সিদ্ধান্তে)। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রথমেই ইন্ডিয়ায় চলে যায়। তারা প্রথম দিকে কোনো নেতৃত্ব দিতে পারেনি। ইন্ডিয়ায় গিয়েও তারা অনেক পরে নেতৃত্ব দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সাংগঠনিক কাজ শুরু করে। তখন আমরা যারা বাম রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলাম, তারা আরেকটা বড় বিপদে পড়ি। আওয়ামী লীগ আমাদের ওউন করতে চায় না। ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী দিয়ে আমাদের বহু লোককে গ্রেপ্তার করায়। এমনকি আমাকেও বহুবার থানায় হাজিরা দিতে হয়েছে। যে কারণে আমরা বাম সংগঠনগুলো মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে একটা ফ্রন্ট তৈরি করি। সেখানে হায়দার আকবর খান রনো, রাশেদ খান মেনন, কাজী জাফর আহমেদসবাই ওই ফ্রন্টের ব্যানারে মুক্তিযুদ্ধের কাজ শুরু করি।

কালের কণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আওয়ামী লীগের ভূমিকা প্রসঙ্গে কিছু বলুন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : মুক্তিযুদ্ধকালীন পুরো সময়টায় আওয়ামী লীগ কখনোই আমাদের মেনে নিতে পারেনি। তখন নানা প্রতিবন্ধকতা আর অনিশ্চয়তা তাড়া করে ফিরত। তবু দুচোখে যুদ্ধজয়ের স্বপ্ন ছিলআমরা জিততে পারবই। সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তখন হয়েছি, যখন আমরা যারা বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলামভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব আমাদের শত্রু মনে করতে শুরু করল। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধে জড়িত হতে না পারি সে জন্য সব চেষ্টা তারা করেছে। যেকোনোভাবে আমাদের বিপদে ফেলার জন্য তারা ওত পেতে থাকত। এ বিষয়গুলো এড়িয়ে কাজ করাটা ভীষণ চ্যালেঞ্জ ছিল।

যুদ্ধজয়ের যাত্রা : মার্চ থেকে ডিসেম্বর | কালের কণ্ঠ