তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ছাড়া আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী

তরুণ প্রজন্মের উন্নয়ন ছাড়া আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
শিক্ষামন্ত্রী

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে দুবাই পুলিশের চাওয়া আইনি ও কারিগরি ব্যাখ্যার জবাব প্রস্তুত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত দুবাই কারাগারে বন্দি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে দুবাই পুলিশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেসব ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা সেসব ব্যাখ্যার জবাব প্রস্তুত করছেন। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে দুবাই পুলিশের চাওয়া ব্যাখ্যার জবাব পাঠিয়ে দেবে দুদক।’
সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে দুবাই পুলিশ বেনজীরের প্রত্যর্পণের আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পর্কে চারটি বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠায়। বর্তমানে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার সহযোগিতায় চিঠির জবাব প্রস্তুত করছে দুদক। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুত জবাব পাঠানো গেলে বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
এর আগে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলে জানিয়েছে, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে আটক করা হয়েছে।
এরপর বাংলাদেশ সরকার ইন্টারপোলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর প্রত্যর্পণ চায়। দুদকের প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবিতে অনুবাদ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে দুবাইয়ে পাঠানো হয়। এতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি নথি সংযুক্ত ছিল। প্রায় এক মাস পর সেই আবেদনের জবাব দিয়েছে দুবাই পুলিশ।
সর্বপ্রথম কালের কণ্ঠে ‘বেনজীরের ঘরে আলাদীনের চেরাগ’ এবং ‘বনের জমিতে বেনজীরের রিসোর্ট’ শিরোনামে ২০২৪ সালের ৩১ মার্চ ও ২ এপ্রিল পৃথক দুটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন দুটি প্রকাশের পর দেশে-বিদেশে ব্যাপক সাড়া পড়ে। মূলত এরপর ওই বছরের ১৮ এপ্রিল বেনজীর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পরে আদালতের নির্দেশে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের বিপুল সম্পদ জব্দ করা হয়। তদন্ত চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার, জালিয়াতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
গত সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন বিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি জানান, এ লক্ষ্য অর্জনে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘রোড সেফটি ২০২১-২০৩০’ দশকব্যাপী বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুপক্ষীয় সমন্বয় শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি পার্শ্ব-আয়োজনে সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনা-পরবর্তী জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ ও আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত, অনুমোদন ও প্রণয়নের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার, কার্যকর অংশীদারি এবং সবার যৌথ দায়িত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও সবার জন্য সমতাভিত্তিক সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে বাংলাদেশ কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের আইন সংস্কারের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সুপারিশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা, দ্বৈত নাগরিকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে অযোগ্য ঘোষণা করার কথা বলা হয়েছে। এসব বিধান যুক্ত করে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করতে চায় ইসি। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে ১২তম কমিশন সভায় এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকাল সকাল ১১টায় সভা শুরু হয়। শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টায়। সভায় প্রতি ১৫ বছর পর পর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। নবায়নের সময় আবেদনকারীকে পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ইসি প্রত্যেক নাগরিকের ফ্যামিলি ট্রি বা বংশগত তথ্য তৈরি করতে পারে। ১৫ বছরেরও কম বয়সীদের এনআইডি প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েছে সংস্থাটি। তবে এ ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন বয়সসীমা পরে নির্ধারণ করা হবে।
সভায় ২০০৯ সালে করা স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইন তথা—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনের পর্যালোচনা করা হয়। আখতার আহমেদ বলেন, এই আইনগুলোর ভেতরে আমাদের কমিশনের বিবেচনায় যেসব জায়গায় সংশোধন করা দরকার, আমরা সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সব আইনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনী যুক্তের সুপারিশ করা হয়েছে। ইসি মনে করে যে সব আইনে এটা যুক্ত করা উচিত।
বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সার্বক্ষণিক কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জাতীয় নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছিল। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এ সুযোগ বাতিলের সুপারিশ সরকারের কাছে করতে যাচ্ছে ইসি। আখতার আহমেদ বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কী পারবেন না—এ বিষয়ে কমিশন মনে করে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য থাকেন।
ঋণখেলাপির বিষয়ে সচিব বলেন, এখানে দুটি ক্ষেত্র রয়েছে। একটি হচ্ছে বন্ধকদাতা ও জামিনদার। ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই, কিন্তু জামিনদারদের ঋণখেলাপি হিসেবে অযোগ্য করার প্রস্তাবে ইসি নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ, ভূমি অফিস ও ওয়াসা এই ধরনের সেবা প্রদানকারী সংস্থায় যদি কেউ কোনো বিল খেলাপি থাকেন, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে, এটি নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে আসবে। লাভজনক পদে থেকেও নির্বাচন করা যাবে না।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ হলে এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য রাখার সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে ইসি। এ বিষয়ে সচিব বলেন, কমিশন মনে করে, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই, এ বিষয়ে সংবিধানে বাধা আছে (সংবিধানে জাতীয় নির্বাচনের কথা বলা আছে)। পাশাপাশি আচরণ বিধিমালা সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে দ্রুত প্রস্তাব পাঠাব, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘আমরা আইন সংস্কার করার এখতিয়ার রাখি না, এ জন্য সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রস্তাব অনুসারে জাতীয় সংসদের।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল সম্পর্কে সচিব বলেন, তফসিল চূড়ান্ত হলে জানানো হবে। প্রস্তুতির ব্যাপারটা চলমান। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেছিলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে। তো সেই অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে।
কমিশন সভায় এনআইডি সংশোধনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভোটার স্থানান্তর নিয়েও কথা হয়েছে উল্লেখ করে আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন অনলাইনে করা যাবে। স্থানান্তরের একটা সংশোধনী ফি দিতে হবে, এটা নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে অনূর্ধ্ব ১৬ বছর বয়সীদের এনআইডির জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। যাতে ১৮ বছর হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান। এ তথ্য সংগ্রহের পর্যায়টা কোন বয়স পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরো কিছু পর্যালোচনার পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।