• ই-পেপার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আ. লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ায়

উক্তি

উক্তি

সাইবার সুরক্ষা আইন এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের তথ্যপ্রবাহের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

রেলমন্ত্রী

রেলপথে ১৫ বছরে ১৩৩৪ দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেলপথে ১৫ বছরে ১৩৩৪ দুর্ঘটনা
শেখ রবিউল আলম

দেশে রেলপথে গত ১৫ বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজার ৩৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সড়ক রেল ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এর মধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি জানান, রেললাইন, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিংয়ের ত্রুটির কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চাকার শার্প ফ্ল্যাঞ্জ, গেজের অসামঞ্জস্যতা এবং প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে যাওয়া বা দেবে যাওয়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা বিভাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রো রেল এমআরটি-৬ প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এমআরটি-৬ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প ছক (ডিপিপি) তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা বেড়ে হয় ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পরে তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ৬৬টি ব্রড গেজ ও ৪১টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ, ৩২০টি ব্রড গেজ এবং ৪৮২টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বসুন্ধরায় শিক্ষিত-সচ্ছল মানুষদের বসবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বসুন্ধরায় শিক্ষিত-সচ্ছল মানুষদের বসবাস
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বসুন্ধরাসহ রাজধানীর নতুন নতুন আবাসিক এলাকায় মূলত শিক্ষিত ও সচ্ছল মানুষ বসবাস করেন বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বনানী, গুলশান, বারিধারা, এমনকি বসুন্ধরাসহ নতুন নতুন যে রেসিডেনশিয়াল এলাকাগুলো গড়ে উঠছে, সেখানে মূলত শিক্ষিত ও সচ্ছল মানুষদেরই বসবাস। তাই আপনাদের জন্য কাজটা অনেক সহজ। যদি আমরা সবাই মিলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি, একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি, তাহলে সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার আপনার সকলের দায়িত্ব শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহর বাড়ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। অথচ আমরা এখনো অভ্যস্ত নই যে, আমার ময়লাটা আমি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলব। আপনি বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে যান, তারা খুঁজে দেখে কোথায় ডাস্টবিন আছে, তারপর সেখানে ময়লা ফেলে। এই কাজটাই সবার আগে করতে হবে। মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে হবে যে, আমাকে আমার জায়গাটা পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি সিটি করপোরেশনগুলোকে একটি প্রকৃত স্থানীয় সরকারে পরিণত করতে না পারি, যেখানে তারা ঢাকা শহরের প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিভাগকে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তাহলে এই সমস্যার সহজ সমাধান হবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সিরিয়াস। আপনারা দেখেছেন, তিনি নিজেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে নগর ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, একসময় আমরা বুড়িগঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণ করতাম। নদীর পানি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নির্মল। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এর পাশে দাঁড়ানোও কঠিন। বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ছয় মিটার পুরু বর্জ্যের স্তর জমে আছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকা পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।

নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক চালক সাধারণ সড়কে নিয়ম ভঙ্গ করলেও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের পর নিয়ম মেনে চলেন। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক নজরদারি চালু হওয়ার পরও মানুষ আইন মানতে শুরু করেছে। কারণ নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার আওতায় পড়তে হয়। এভাবেই সচেতনতা ও জবাবদিহি নাগরিক আচরণে পরিবর্তন আনে।

শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায় থেকেই আমার শহর, আমার দায়িত্ব’—এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের মতো কর্মসূচি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা করলে দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

মতভিন্নতা থাকবে, তবে শত্রুতা নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যের ডাক প্রধানমন্ত্রীর

দেশে আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথা চাড়া দিতে না পারে সে জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি ইউনিভার্সাল কার্ড-এর আওতায় নিয়ে আসার কথা জানান তিনি।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর, শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া, মুক্তিযোদ্ধাদের মতো গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের সুযোগ সুবিধা দেওয়া, বিএনপির স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।  এ ছাড়া বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকলেও দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারি দল ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

সংসদ নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ইউনিভার্সাল কার্ড

জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়েই দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা বা দয়া নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা সব কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন বা ইউনিভার্সাল কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।

সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব : প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান, গতকাল যখন একজন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে তাঁর নিজ এলাকায় কবে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে তা জানতে চান, তখন তিনি অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু যখন দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের কথা আসে, তখন সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাঁবেদারি রুখতে হলে রাষ্ট্র এবং দেশের জনগণকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে। আর সেই শক্তিশালীকরণের প্রথম ধাপই হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করা।

দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতিবছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। এই বিপুল অর্থ পাচার ও ব্যাপক দুর্নীতির কারণেই দেশের সার্বিক অবকাঠামো, রাস্তাঘাট ও জনজীবনের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে বর্তমান সরকার যেকোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরতে বদ্ধপরিকর। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। যেখানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিকেই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়েছে। সরকার কেবল যুবসমাজকে ঘরে বসিয়ে না রেখে দেশের বিশাল কর্মক্ষম জনশক্তিকে সম্পদে রূপান্তর করতে চায়। এই লক্ষ্যে দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ, ব্লু ইকোনমি ও ইকোট্যুরিজম খাতে আরো ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ ছাড়া যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক ক্যারিয়ার সেন্টার স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

৩১ দফা ও জুলাই সনদ : প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ৩১ দফা এখন জাতীয় দলিলে পরিণত হয়েছে। গত নির্বাচনে জনগণ এই ৩১ দফার প্রতি রায় দিয়েছে। এটি এখন জনগণের ৩১ দফা। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে আমরা যে জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেছিলাম, তার প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন ও জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ : শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে অটো প্রমোশন ও নকলকে উৎসাহিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা এই ধারা পরিবর্তন করছি। শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিতর্কিত সিলেবাস সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

স্বাস্থ্য খাতে ১০১ ভাগ অসুস্থতা নিরাময়ের উদ্যোগ : স্বাস্থ্য খাতের নাজুক অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা বলেছিলেন স্বাস্থ্য খাত ১০০ ভাগ অসুস্থ, আমি বলি ১০১ ভাগ অসুস্থ। আমরা এই খাতকে পুনর্গঠন করতে চাই।

তিনি জানান, তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের সুচিকিৎসায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাঁচটি বিভাগে ২০০ বেড করে মোট এক হাজার বেডের পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। স্বাস্থ্য খাতেও আগামী পাঁচ বছরে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাপেক্সকে সক্রিয় করা হচ্ছে : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতে তিন লাখ কোটি টাকার হরিলুট হয়েছে। কুইক রেন্টালের নামে কুইক মানি অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। জ্বালানি মজুদ মাত্র ৩০ দিনের কম ছিল, যা আমরা এরই মধ্যে ৪৫ দিনে উন্নীত করেছি এবং ৯০ দিনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো জানান, বিদেশিদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাপেক্সকে সক্রিয় করা হচ্ছে এবং তাদের জন্য নতুন রিগ আমদানি করা হচ্ছে।

সামাজিক সচেতনতা : প্রধানমন্ত্রী দেশের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা এবং প্লাস্টিক-পলিথিন ফেলা রোধে জনসচেতনতা তৈরির আহবান জানান। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়তে ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন জরুরি।

প্রতিহিংসা-প্রতিশোধের পরিবর্তে ন্যায়পরায়ণতায় জাতীয় ঐক্যের ডাক : সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও কোনো শত্রুতা থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে দেশে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের কবলে না পড়ে এবং তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সে জন্য জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের রীতি অনুযায়ী আমাদের মধ্যে মতভিন্নতা থাকবে, তবে শত্রুতা নয়। প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে থাকবে ন্যায়পরায়ণতা। বাংলাদেশে আর যাতে কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং এই প্রিয় মাতৃভূমি আর যাতে তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সেই প্রশ্নে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে শুধু রাজনীতি বা অর্থনীতিই নয়, বরং আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পারিবারিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় ঘটেছে। এই মূল্যবোধকে যেকোনোভাবেই হোক আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। বিশেষ করে পারিবারিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি।

মূল্যবোধ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি ছড়া উদ্ধৃত করে বলেন, সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলিআমাদের এই ছোটবেলার মূল্যবোধকে যেকোনো মূল্যে এই সংসদে ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা যদি এই দেশকে গঠন করতে চাই, তবে এসব মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনা অপরিহার্য।