• ই-পেপার

মেসির জন্য জায়গা তৈরিই আর্জেন্টিনার সূত্র

গতির ঝড় থামিয়ে ফাইনালে স্পেন

মামুন উর রশীদ
গতির ঝড় থামিয়ে ফাইনালে স্পেন
স্পেনের প্রথম গোলের পর গোলদাতা মিকেল ওয়াইরসাবালের সঙ্গে সতীর্থদের উল্লাস। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালের দ্বৈরথটা ২-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ছবি : রয়টার্স

তাদের আক্রমণভাগ নিয়ে চিন্তা করলেও কাঁপুনি উঠে যায় সব প্রতিপক্ষের। অথচ সেই দলটিকেই কি না অকার্যকর করে দিল স্পেনের রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক উনাই সিমন। লা রোজাদের রক্ষণে বারবার প্রবেশ করেও সফল হতে পারলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্র্যাডলি বারকোলা আর উসমান দেম্বেলেরা। কিন্তু ঠিকই ছন্দোময় ফুটবলে ফরাসিদের রক্ষণ চিড়ে দুটি গোল আদায় করে ফাইনালে উঠে গেল স্পেন। টানা তৃতীয়বার বড় কোনো আসরের সেমিতে তাদের কাছে হারল ফ্রান্স। গতকাল মঙ্গলবার ডালাসে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর লা রোজারা পৌঁছুল আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে। আর টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার সুযোগ হাতছাড়া করল গত আসরের রানার্স আপ লেস ব্লুজ। সর্বশেষ যে চারবার বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে খেলেছে ফ্রান্স, প্রতিবারই উঠেছে ফাইনালে। কিন্তু তাদের বিপক্ষে বড় আসরে সেমি জেতার দারুণ রেকর্ডটাকে তিনে নিয়ে গেল লা রোজারা।

শেষ চারের এই ম্যাচটি ঘিরে অনেক সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ঘেঁটে বোঝা যাচ্ছিল হতে যাচ্ছে জমজমাট লড়াই। বিধ্বংসী আক্রমণের বিপক্ষে জমাট রক্ষণ আর সিমনের মতো বিশ্বকাপে রেকর্ড ৬৫০ মিনিট গোল হজম না করা গোলরক্ষকের সাক্ষাৎ। এ কারণেই স্পেন চলতি বিশ্বকাপে আগের ছয় ম্যাচে হজম করেছে মাত্র একটি গোল। তবে গত বছর নেশন্স লিগ এবং সবশেষ ইউরোতে (২০২৪) সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞায় নামে ফ্রান্সের গতিময় আক্রমণভাগ। ম্যাচের শুরুর দিকে কিছু সুযোগও তৈরি করে ফরাসিরা, আক্রমণের ধারও ছিল বেশি। কিন্তু লা রোজাদের রক্ষণভাগের দৃঢ়তা ও সিমনের দক্ষতায় গোল পাননি বারকোলা, দেম্বেলেরা। উল্টো ২১ মিনিটের সময় স্পেনের আক্রমণে ডি-বক্সে লামিন ইয়ামাল ফাউলের শিকার হলে সরাসরি পেনাল্টি দেন রেফারি। ভিএআর বিশ্লেষণেও বহাল থাকে সেটি। ২২ মিনিটের সময় স্পট কিকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে নেন (১-০) মিকেল ওয়াইরসাবাল। এরপর যেন দুর্দশা বাড়ে ফরাসিদের, হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি নিয়ে ২৯ মিনিটে উইলিয়াম সালিবাকে মাঠ ছাড়তে হয়। ৩৭ ও ৩৮ মিনিটে পরপর দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি স্পেনের পেদ্রো পোরো ও ফাবিয়ান রুইজ। এরপর আর গোল পায়নি কোনো দলই।

সবমিলিয়ে প্রথমার্ধে ফ্রান্স চারটি ও স্পেন পাঁচটি গোলের সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু ১-০ গোলে পিছিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে স্পেন। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকার পরও বিশ্বকাপে শেষ চারে জিতেছে ১৯৯০ সালে ইতালির বিপক্ষে আর্জেন্টিনা এবং ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া। সে দুটি ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশায় দ্বিতীয়ার্ধে নামে ফরাসিরা। কিন্তু লা রোজার সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগে ব্যর্থ হয়েছেন এমবাপ্পে, দেম্বেলেরা আগের মতোই। উল্টো ৫৮ মিনিটে দানি ওলমোর কাছ থেকে বল পেয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন স্পেনের ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরো (২-০)। ৬১ মিনিটে ইয়ামালের আরেকটি গোল বাতিল হয় অফসাইডে। মাঝমাঠের দখলটা ধরে রাখে স্পেন এবং সে কারণেই ফরাসি আক্রমণভাগ ভয়ংকর কোনো আক্রমণ করে সাফল্য আদায় করতে পারেনি। বেশ কয়েকবার তারা জোর চেষ্টা করেছে, তবে স্পেনের জমাট রক্ষণব্যূহ ভেদ করে গোলের নিশানা খুঁজে পাননি এমবাপ্পেরা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয়ে ২০১০ সালের পর আবার ফাইনালে উঠে যায় লা রোজারা।

চলতি আসরে মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেন ১৬ বছর আগে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের আসরেও হজম করেছিল মাত্র দুটি গোল। এবারও তারা যেভাবে ফাইনালে উঠেছে তাতে আরেকটি গৌরব অর্জনের পথে এক পা এগিয়েই থাকল তারা। সেই সঙ্গে এই ম্যাচ জিতে ইতালির রেকর্ড ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডেও ভাগ বসাল স্পেন। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেনের সেমির রেকর্ডও ফ্রান্সের বিপক্ষে বেশ ভালোই। অনূর্ধ্ব-১৯ ও ২১ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং জাতীয় দলের ২০২৪ ইউরোতে ও নেশন্স লিগের সেমিতে ফ্রান্সকে হারিয়েছে তাঁর শিষ্যরা। সবমিলিয়ে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে স্পেনের এবং দুটিতে আছে ফ্রান্সের জয়। সেটি ধরে রেখে বড় আসরে দেশমের দলের বিপক্ষে টানা তিনটি সেমি (আগের দুটি ইউরো, নেশন্স লিগসহ) জিতল ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

পরাজয়ের ক্ষত শুকানোর দৃঢ়সংকল্প নিয়ে দেশম কোচ হিসেবে রেকর্ড ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচে নেমেও পেলেন না সুখের পরশ। পশ্চিম জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০) এবং ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২) পর টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার রেকর্ডটাও ছোঁয়া হলো না তাদের। এবার সেমিতে উঠেই ফরাসি দল টানা তিন বিশ্বকাপের সেমি খেলার রেকর্ডও গড়েছিল। সেখানেই থেমে গেল তারা। অথচ ১৯৫৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে সেমি থেকে বিদায় নেওয়া ফ্রান্স আর কখনোই বিশ্বকাপে শেষ চারের ম্যাচে হারেনি। ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা সেমিতে জিতে পা রাখে ফাইনালে। কিন্তু তাদের প্রবল শত্রুতে পরিণত হওয়া স্পেন যখন প্রতিপক্ষ, তখন আর সেই রেকর্ড থাকে কি করে!

উক্তি

উক্তি

প্রতিটি হুংকারে আমরা সংঘবদ্ধ হব, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াব।

মো. আসাদুজ্জামান, আইনমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তৎপর বিএনপি

মাহমুদুল হাসান
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তৎপর বিএনপি

দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেটে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিএনপি সরকার ও দলীয় পর্যায়ে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, বন্যাদুর্গতদের সহযোগিতায় প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঠে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক পর্যায়ে সংগ্রহ করা ত্রাণসামগ্রী দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের বানভাসি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর এই ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

গত শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকারের পাশাপাশি দলের ত্রাণ কার্যক্রম আরো জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহবান জানানো হয়।

দলীয় নির্দেশনা অনুযায়ী, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশে বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার তৎপরতা এবং পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। গত কয়েক দিন ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালি, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, পতেঙ্গাসহ বন্যাকবলিত অঞ্চলে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) পক্ষ থেকেও বন্যাকবলিত অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন চিকিৎসকরা।  এ ছাড়া দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় নেতাকর্মীরা তীব্র বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় বিভিন্ন অঞ্চলে পানিবন্দিদের পাশে ছুটে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা। বন্যার্তদের উদ্ধার ও তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত আছে। চিকিৎসাসেবায় গঠন করা হয়েছে মেডিক্যাল টিম।  

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার কালের কণ্ঠকে বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ) সব সময় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে। সেই ধারবাহিকতায় সারা দেশে টানা ভারি বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় সৃষ্ট বন্যায় দুর্ভোগে পড়া পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের নির্দেশনায় ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ অব্যাহত আছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাৎ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় আমাদের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলামান আছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় ছাত্রদল, যুবদলের নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই এসে ত্রাণ দিয়ে গেছেন। আমরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।

তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। পানি নেমে যাচ্ছে। তবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

জানা যায়, পুনর্বাসন পরিকল্পনায় বন্যার্তদের সহায়তায় শুধু খাবার ও ত্রাণ বিতরণের মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবেলায় বিএনপি ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ নির্মাণ, বাসস্থান পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে বিএনপির অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান বন্যার্তদের বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। কেন্দ্র থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে বিএনপি ও তার অঙ্গ বা সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বন্যার্ত এলাকায় ত্রাণসামগ্রী ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছেন।

 

স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসীন আলী বলেন, দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী। সব অঙ্গ সংগঠন, মূল দলের নেতাকর্মীরা দুর্গত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। বিশেষ করে বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়িসহ যেসব এলাকায় দুর্গত মানুষের জন্য খাবার স্যালাইনসহ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছেন আমাদের সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও ১০ দফা জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন বন্যাকবলিত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, গবাদি পশু নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

জানতে চাইলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় ছাত্রদল বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যার্ত মানুষের মাঝে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা, উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম ও ত্রাণসামগ্রী কাজে অংশ নিচ্ছে। কেন্দ্র থেকে আমি নিজে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করে এসেছি। এই মুহূর্তে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব চট্টগ্রামের বন্যার্ত এলাকায় অবস্থান করছেন এবং ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে ত্রাণ কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে।

যুবদল দেশের বন্যাকবলিত ও পাহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে পানিবন্দি মানুষের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম নয়ন দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য কেন্দ্রীয় মেডিক্যাল টিম গঠন করেছেন।

দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার নেতৃত্বে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়াসহ বেশ কয়েকটি দুর্গত এলাকায় শুকনা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বন্যায় দুর্গত মানুষদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ডা. লোহানী মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. গালিব হাসানকে সমন্বয়ক করে একটি বিশেষ মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য যুবদলের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি নিজে বন্যাদুর্গত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেছি। আমাদের সংগঠনের প্রতিটি নেতাকর্মী তৎপর আছেন।

শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ তিন বিষয়ে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ তিন বিষয়ে আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে
আ ন ম এহছানুল হক মিলন

টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যায় পড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও

যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা আবার নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের যেসব জেলার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে, ওই বিষয়গুলোর নতুন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সময়ই সারা দেশের ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না পেছানোয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এহছানুল হক মিলন এই ঘোষণা দেন। গত সোমবার পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথমপত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথমপত্রের পরীক্ষা হয়। বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে ঢাকা, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলায় পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সংসদ অধিবেশনে দুঃখ প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকে আপত্তি করেছেন। আমি কাউকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলতে চাইনি। যদি কেউ আহত হয়ে থাকেন, আমি সিম্পলি দুঃখ প্রকাশ করছি।

এর আগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ, পরীক্ষা পেছানোর দাবি উপেক্ষা এবং পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয় তুলে ধরে সরকারের ব্যাখ্যা জানতে চান সংসদ সদস্যরা। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুকূলে থাকায় পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু পূর্বাভাস সঠিক না হওয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার আহবান জানাই।

গতকাল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ নেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এইচএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীরা কয়েক দিন ধরে পরীক্ষা পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এ নিয়ে আন্দোলনও হয়েছে। অথচ সরকার এক বা দুই দিনের জন্যও পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়নি। পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের পরীক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণ কী, সেটি তিনি জানতে চান।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তরিক। সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সারা দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হয়। বন্যা পরিস্থিতির কারণে আগে থেকেই রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে পুরো চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়। তবে দেশের অন্য অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। পরীক্ষার আগের দিন বিকেল পর্যন্ত ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও জানান, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই বিকেল ৫টার দিকে পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চলতি মৌসুমের পরীক্ষাগুলো নিয়ে সরকার শুরু থেকেই উদ্বিগ্ন এবং বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। যেসব পরীক্ষাকেন্দ্র বন্যার পানি বা জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। যেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেসব সমস্যা সমাধান করা কঠিন নয়। এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র প্রস্তুত রয়েছে, তাই পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব। প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। জরিপ প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে পুনঃপরীক্ষার (রি-এক্সাম) ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এরই মধ্যে এ ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুতরাং আমরা অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠ পানিতে তলিয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। যেসব শিক্ষার্থীর পোশাক ভিজে গিয়েছিল, তাদের জন্য শুকনা পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পরে এক ঘণ্টা বিলম্বে পরীক্ষা শুরু করা হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়, যাতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সংসদে আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা জানুয়ারি মাসে এবং এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী তাঁর প্রথম বক্তব্যে পদার্থ বিজ্ঞান প্রথমপত্রের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও পরের বক্তব্যে তিনি গত সোমবারের পদার্থবিজ্ঞানসহ তিনটি পরীক্ষাই পুনরায় নেওয়ার কথা বলেছেন।