• ই-পেপার

আলজাজিরাকে ড. ইউনূস

শেখ হাসিনা নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ভাবলেও বাস্তবতা ভিন্ন

উক্তি

উক্তি

সাইবার সুরক্ষা আইন এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের তথ্যপ্রবাহের অধিকার সুরক্ষিত থাকে।

জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

রেলমন্ত্রী

রেলপথে ১৫ বছরে ১৩৩৪ দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
রেলপথে ১৫ বছরে ১৩৩৪ দুর্ঘটনা
শেখ রবিউল আলম

দেশে রেলপথে গত ১৫ বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে এক হাজার ৩৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সড়ক রেল ও নৌ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, এর মধ্যে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি জানান, রেললাইন, পয়েন্টস অ্যান্ড ক্রসিংয়ের ত্রুটির কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বগি লাইনচ্যুত হয়ে দুর্ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া চাকার শার্প ফ্ল্যাঞ্জ, গেজের অসামঞ্জস্যতা এবং প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে যাওয়া বা দেবে যাওয়ার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি বা বিভাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেট্রো রেল এমআরটি-৬ প্রকল্পে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, এমআরটি-৬ প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প ছক (ডিপিপি) তিনবার সংশোধন করা হয়েছে। প্রথমে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে তা বেড়ে হয় ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। পরে তৃতীয় সংশোধনীতে ব্যয় পুনর্নির্ধারণ করে ৩২ হাজার ৭১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা করা হয়েছে।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলপথমন্ত্রী জানান, ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ৬৬টি ব্রড গেজ ও ৪১টি মিটার গেজ লোকোমোটিভ, ৩২০টি ব্রড গেজ এবং ৪৮২টি মিটার গেজ যাত্রীবাহী কোচ যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আ. লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ায়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
আ. লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ায়
সালাহউদ্দিন আহমদ

প্রশাসনিক আদেশে নিষিদ্ধ না করে আইনানুগ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশে বা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) অ্যাক্ট ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে দল হিসেবেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে। তা ছাড়া বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সংগঠন হিসেবেও বিচারের স্পষ্ট বিধান রয়েছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যেভাবে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোকে নিষিদ্ধ ও রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল, ঠিক তেমনি বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে আসমান থেকে গুলি করে শিশু ও গৃহিণী হত্যার মতো যে নজিরবিহীন গণহত্যা চালানো হয়েছে, তার দায় আওয়ামী লীগ এড়াতে পারে না।

মন্ত্রী বলেন, গতকাল পার্লামেন্টেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে। তিনি বলেন, বিদেশে পলাতক ফ্যাসিবাদী সরকারের মন্ত্রী, এমপি ও কর্মকর্তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে এবং এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো একক সংগঠনের নয়, বরং এটি ছিল দেশের আপামর জনগণের আন্দোলন। ফ্যাসিবাদবিরোধী এই ঐক্য ধরে রেখে শহীদদের প্রত্যাশিত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন ফ্যাসিবাদী আচরণ করতে না পারে, সে জন্য গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তুমি কে আমি কে? রাজাকার রাজাকার এবং কে বলেছে কে বলেছে? স্বৈরাচার স্বৈরাচার স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সঙ্গে।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বসুন্ধরায় শিক্ষিত-সচ্ছল মানুষদের বসবাস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বসুন্ধরায় শিক্ষিত-সচ্ছল মানুষদের বসবাস
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বসুন্ধরাসহ রাজধানীর নতুন নতুন আবাসিক এলাকায় মূলত শিক্ষিত ও সচ্ছল মানুষ বসবাস করেন বলে উল্লেখ করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বনানী, গুলশান, বারিধারা, এমনকি বসুন্ধরাসহ নতুন নতুন যে রেসিডেনশিয়াল এলাকাগুলো গড়ে উঠছে, সেখানে মূলত শিক্ষিত ও সচ্ছল মানুষদেরই বসবাস। তাই আপনাদের জন্য কাজটা অনেক সহজ। যদি আমরা সবাই মিলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারি, একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারি, তাহলে সেটিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) আয়োজিত নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : আমার আপনার সকলের দায়িত্ব শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, শহর বাড়ছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, বর্জ্যের পরিমাণ বাড়ছে। অথচ আমরা এখনো অভ্যস্ত নই যে, আমার ময়লাটা আমি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলব। আপনি বিশ্বের যেকোনো সভ্য দেশে যান, তারা খুঁজে দেখে কোথায় ডাস্টবিন আছে, তারপর সেখানে ময়লা ফেলে। এই কাজটাই সবার আগে করতে হবে। মানুষের মধ্যে এই ধারণা তৈরি করতে হবে যে, আমাকে আমার জায়গাটা পরিষ্কার রাখতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা যদি সিটি করপোরেশনগুলোকে একটি প্রকৃত স্থানীয় সরকারে পরিণত করতে না পারি, যেখানে তারা ঢাকা শহরের প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিভাগকে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তাহলে এই সমস্যার সহজ সমাধান হবে না। আমরা বিষয়টি নিয়ে সিরিয়াসলি চিন্তা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সিরিয়াস। আপনারা দেখেছেন, তিনি নিজেই ঘুরে ঘুরে দেখছেন।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু। দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে নগর ব্যবস্থাপনা দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, নাগরিক সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, একসময় আমরা বুড়িগঙ্গায় নৌকায় ভ্রমণ করতাম। নদীর পানি ছিল অত্যন্ত স্বচ্ছ ও নির্মল। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানি এতটাই দূষিত হয়েছে যে, এর পাশে দাঁড়ানোও কঠিন। বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ছয় মিটার পুরু বর্জ্যের স্তর জমে আছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীকে দূষণমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকা পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।

নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ববোধ তৈরি করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, অনেক চালক সাধারণ সড়কে নিয়ম ভঙ্গ করলেও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় প্রবেশের পর নিয়ম মেনে চলেন। আবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ট্রাফিক নজরদারি চালু হওয়ার পরও মানুষ আইন মানতে শুরু করেছে। কারণ নিয়ম ভাঙলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানার আওতায় পড়তে হয়। এভাবেই সচেতনতা ও জবাবদিহি নাগরিক আচরণে পরিবর্তন আনে।

শিশুদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কিন্ডারগার্টেন পর্যায় থেকেই আমার শহর, আমার দায়িত্ব’—এই ধারণা ছড়িয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহের মতো কর্মসূচি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিকভাবে পরিচালনা করলে দীর্ঘ মেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

শেখ হাসিনা নিজেকে প্রধানমন্ত্রী ভাবলেও বাস্তবতা ভিন্ন | কালের কণ্ঠ