kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

সাড়ে তিন মাসে ১৫০০ খুন

এস এম আজাদ   

২৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



সাড়ে তিন মাসে ১৫০০ খুন

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করছে সরকার ও প্রশাসন। তাদের দেওয়া পরিসংখ্যানেও সেই দাবির সত্যতা তুলে ধরে। তবে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে ওই দাবির সত্যতা মেলে না। দেশে একের পর এক সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ঘটনা ওই দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। চাঞ্চল্যকর অপহরণ, হত্যাসহ বেশির ভাগ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনেই দেখা যাচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা। এরই মধ্যে নতুন ধরনের বিভিন্ন অপরাধ জনমনে শঙ্কা তৈরি করছে। সাম্প্রতিক সময়ের অপরাধ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা, অপহরণ, গুম, শিশু নির্যাতন ও হত্যা এবং পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরেই শত শত সহিংস ঘটনা ঘটছে। এসব সহিংসতায় এরই মধ্যে খুন হয়েছে ৩২ জন। গত সাড়ে তিন মাসে দেড় হাজারের বেশি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে দেশে।

মানবাধিকারকর্মী, মনোবিজ্ঞানী, অপরাধ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পরিসংখ্যান দেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে হলেও অপরাধের ধরন ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করছে। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা ধরা না পড়ায় বিচারহীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা। খুবই সামান্য ও ব্যক্তিগত ছোটখাটো দ্বন্দ্বে বা ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে প্রতিনিয়ত ঘরেবাইরে হত্যাসহ নানা অপরাধ ঘটেই চলছে। বৈশ্বিক সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে পারিবারিক পর্যায়ে নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধ ঘটছে। এসব ঘটনাকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বলে ধরা হচ্ছে না। তবে এগুলো অস্থিরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আকাশ সংস্কৃতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মাদকের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে পারলেই দেশে অপরাধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনেও বলা হচ্ছে, দেশে পরিসংখ্যানের হিসাবে অপরাধ কমলেও নৃশংস ঘটনা বাড়ছে। গত এক বছরে হত্যা, গণপিটুনি, শিশু ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ‘ক্রসফায়ার’, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং পাচার বেড়েছে। এ সময়ে বীভৎস কায়দায় শিশুহত্যা ও নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে শিশু রাজন, রাকিব, সাঈদ, সুমন হত্যাসহ বেশ কিছু হত্যার দ্রুত বিচার হওয়ায় আইনের প্রতি জনগণের আস্থা কিছুটা হলেও বেড়েছে। গত এক বছরে বিদেশি, ব্লগার ও লেখক হত্যা এবং সেই সব হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা  রক্ষাকারী বাহিনী সমালোচনার মুখে পড়েছে বারবার।

গত ২০ মার্চ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনুকে সুরক্ষিত সেনানিবাস এলাকায় নৃশংসভাবে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তনুর বাবার দাবি, তাঁর মেয়েকে হত্যার আগে ধর্ষণও করা হয়। এই হত্যার বিচার দাবিতে সারা দেশে তোলপাড় চলছে। রহস্য উদ্ঘাটনে তিনটি তদন্ত সংস্থা বদল করা হলেও আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। গত ৪ এপ্রিল পুরান ঢাকার ইসলামপুরে ঝব্বু খানম জামে মসজিদের মুুয়াজ্জিন বেলাল হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ দাবি করছে, নিছক মসজিদের টাকার লোভে হত্যাকাণ্ড ঘটে। গত ৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সিলেটের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদকে। ওই ঘটনার তদন্তে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে (এবিটি) সন্দেহ করা ছাড়া গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। একইভাবে গত বছরের শেষভাগে মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়, ব্লগার নিলাদ্রী চট্টোপাধ্যায় ও অনন্ত বিজয় দাশ এবং প্রকাশক দীপন খুন হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। একই সময়ে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে দুই বিদেশি হত্যা এবং কয়েকজনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। হত্যা করা হয় কয়েকজন ভিন্ন মতাদর্শীকেও। এসব ঘটনায় জঙ্গিবাদ ইস্যু সামনে এলেও বেশির ভাগ ঘটনার পরিকল্পনাকারী বা হোতারা ধরা পড়েনি। বিভিন্ন পক্ষ থেকে দেশে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেট (আইএস) তৎপর বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সরকার তা বারবার প্রত্যাখ্যান করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘দেশে আইএস জঙ্গিদের কোনো অস্তিত্ব নেই, তবে আমাদের দেশীয় জঙ্গি রয়েছে। তবে যারা এই জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত তারা সকলেই আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তনু ও নাজিম হত্যার বিষয়ে তিনি বলেন, তনু হত্যা মামলা সিআইডি তদন্ত করছে। শিগগিরই হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে। নাজিম খুনের কারণ এবং কারা করে থাকতে পারে তা নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। এটিও বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালোই আছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। দু-চারটি ঘটনা নিয়েই আলোচনা হয়। এসব ঘটনার তদন্ত করে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছে।’

অন্যদিকে আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বলব, পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মামলা বা ঘটনার সংখ্যা দিয়ে এই ভয়াবহতা নিরূপণ করা যাবে না। এখন নতুন ধরনের ঘটনা, নৃশংস ঘটনা, শিশু হত্যা, অপহরণের পর হত্যা এবং গুম করে ফেলার ঘটনা বেড়েছে। অনেক ঘটনায়ই মামলা পর্যন্ত হচ্ছে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান বলেন, ‘সার্বিকভাবে দেখলে এখন আগের মতো সন্ত্রাসী বাহিনী, বড় ধরনের গ্যাং কমে গেছে। হয়তো অপরাধের সংখ্যাও কমেছে। তবে শিশু হত্যা, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ আগের মতোই ঘটছে। বরং কিছুটা নতুনত্বও আছে। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সামাজিকভাবে বৈষম্য তৈরি, আকাশ সংস্কৃতির প্রভাব, আত্মকেন্দ্রিক চলাফেরা এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এমন অপরাধ বাড়ছে। এর পেছনে মাদকেরও প্রভাব আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘সব ধরনের অপরাধেরই তদন্ত হওয়া জরুরি। কারণ বিচারহীনতা অপরাধপ্রবণতা বাড়ায়। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমও গ্রহণ করা জরুরি।’

থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের তৈরি করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর চার হাজার ২৫টি হত্যা, এক হাজার ৪২২টি ডাকাতি-দস্যুতা, ২১ হাজার ২২০টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ৮০৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৪ সালের তুলনায় গত বছর হত্যার ঘটনা কমেছে। ওই বছর ছিল হত্যা চার হাজার ৫১৪টি, অপহরণ ৯২০টি, ডাকাতি-দস্যুতা এক হাজার ৮০৬টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন ২১ হাজার ২৯১টি। তবে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সব ধরনের অপরাধ বেড়েছে। জানুয়ারি মাসে ২৬৭টি হত্যা, ১২১টি দস্যুতা, এক হাজার ৩১৫টি নারী-শিশু নির্যাতন ও ৬৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। ফেব্রুয়ারি মাসে ২৯১টি হত্যা, ১৪৩টি দস্যুতা, এক হাজার ৪৮২টি নারী ও শিশু নির্যাতন, ৫৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। মার্চে খুন হয়েছে ৩০৭টি। নারী ও শিশু নির্যাতন হয়েছে এক হাজার ৬৬৩টি। অপহরণ হয়েছে মার্চে ৬৯টি।

অন্যদিকে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গত সাড়ে তিন মাসে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে প্রায় দেড় হাজার। চলতি মাসের ২০ দিনেই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে প্রায় সাড়ে ৩০০। তিন দফায় ইউপি নির্বাচনে প্রাণ হারিয়েছে ৩২ জন সাধারণ মানুষ। আহত হয়েছে দুই হাজারের বেশি। বিএনপির দাবি, নিহতের সংখ্যা ৪৫। চতুর্থ ধাপের নির্বাচন ঘিরেও চলছে সহিংসতা। গত বুধবার গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নে ইউপি সদস্য পদপ্রার্থী আক্তার হোসেন খন্দকারকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ এবং কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এদিকে অপহরণের পর গত বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় অপহৃত ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকনকে লাহিনীপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আসকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর দেশে ৮৬৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছে ১৫৩ জন আর আহত হয়েছে ছয় হাজার ৩১৮ জন। আসকের সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, গত তিন মাসে হত্যার শিকার হয়েছে ১৫২ শিশু। নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৩৭০ শিশু। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪৬ নারী, ধর্ষণের পরে হত্যা করা হয়েছে ১০ নারীকে। দুই ধর্ষিতা আত্মহত্যা করেছেন। এ সময় ২৮০টি রাজনৈতিক সংঘাতের ঘটনায় বিভিন্ন দলের ৩৫ কর্মী নিহত ও তিন হাজার ৮৭৮ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে গত দুই সপ্তাহে দেশে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা বেড়েছে। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ১০ দিন আগে পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া কলেজ ছাত্রের গুলিবিদ্ধ লাশ গত বুধবার পাওয়া গেছে চুয়াডাঙ্গায়। এর আগে একইভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ার এক মাস পর কালীগঞ্জের দুই শিবির নেতাকর্মীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল যশোর থেকে। একইভাবে অপহরণ করা হয়েছে কালীগঞ্জের ঈশ্বরবা গ্রামের মহসিন আলীর ছেলে ও শহীদ নূর আলী কলেজের ছাত্র সোহানুর রহমান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন এবং নীলফামারী সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র নূরে আলমকে। তাঁরা এখনো নিখোঁজ। বান্দরবানের থানচি-আলীকদম সড়ক থেকে অপহরণের চার দিন পর গত মঙ্গলবার তিনজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ৯ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী এলাকার গারো নৃগোষ্ঠীর তিন ব্যক্তি। গত কয়েক বছর গুম ও গুপ্তহত্যার ঘটনা ব্যাপক আলোচিত ছিল। ফলে সম্প্রতি অপহরণের ঘটনা জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছে।

পারিবারিক সহিংসতা : গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন এক মা। গত সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরখানে স্বামীর প্রতি সন্দেহ ও দাম্পত্য কলহের জের ধরে দেড় বছরের শিশু নেহাল সাদিককে হত্যা করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা মীর ফাহমিদা মুক্তি। সোমবার নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার ভাণ্ডারদহ গ্রামে চার বছরের ছেলে ফারদিনকে হত্যার পর মা সেলিনা বেগম আত্মহত্যা করেন। এর আগে ২৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বনশ্রীতে ১৪ বছর বয়সী মেয়ে নুসরাত আমান অরণী ও ছয় বছর বয়সী ছেলে আলভী আমান নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। মা মাহফুজা মালেক জেসমিন এ হত্যাকাণ্ডের দায় অকপটে স্বীকার করেন। অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সামাজিক অস্থিরতার কারণে ঘটে যাওয়া পারিবারিক সহিংসতাগুলোই এখন বেশি আলোচনায় আসছে।

মনোবিজ্ঞানী ডা. মোহিত কামাল বলেন, ‘বৈশ্বিক সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, সামাজিক ও মূল্যবোধের তীব্র অবক্ষয়, মাদকের ভয়াবহ প্রভাবজনিত কারণে সমাজে খুনখারাবিসহ নানা অপরাধ ঘটছে। মানসিক অস্থিরতা এবং আশপাশের পরিবেশের কারণে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন অনেকে। এখানে আমাদের বলতে হবে, মা তাঁর সন্তানকে নয়, এক নারী একটি শিশুকে হত্যা করেছে। কারণ হত্যার আগে বিষণ্নতা কিংবা হতাশার কারণে মা সত্তাটি হারিয়ে ফেলেন তিনি।’

আসকের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক নূর খান বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ভয়ের সংস্কৃতি দেশে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করেছে। এমন অবস্থায় মানুষের মধ্যে দুর্নীতি ও অপরাধ করে পার পাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়। এতে অবক্ষয় ঘটছে। ফলে স্বামী স্ত্রীকে, বাবা-মা সন্তানকে খুন করছে। কাছের মানুষ খুনি হয়ে উঠছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলায় এগুলোও প্রভাব ফেলছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশের মতো রাজধানীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কিছু ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ ঠেকানো কঠিন। তার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

‘ক্রসফায়ার’ ও হেফাজতে মৃত্যু : আইন ও সালিশ কেন্দ্রের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে ৫৫ জনকে আটক করা হয়েছে, কিন্তু কোনো বাহিনী আটকের অভিযোগ স্বীকার করেনি। আর বিভিন্ন বাহিনীর ‘ক্রসফায়ার’ ও হেফাজতে মারা গেছে ১৯২ জন। এর মধ্যে ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে ১৪৬ জন। আসকের সর্বশেষ প্রতিবেদন মতে, গত তিন মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৩২ জন নিহত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ১৬ জনকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁদের মধ্যে তিনজনের লাশ পাওয়া যায়।

মন্তব্য