kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জানা-অজানা

রাজ কাঁকড়া

[সপ্তম শ্রেণির কৃষিশিক্ষা বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে ‘রাজ কাঁকড়া’র কথা উল্লেখ আছে]

ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল   

১৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজ কাঁকড়া

রাজ কাঁকড়া হচ্ছে ঘোড়ার ক্ষুরের মতো দেখতে উপবৃত্তাকার একটি কাঁকড়া। লিমুলাস গণের অন্তর্ভুক্ত এর বৈজ্ঞানিক নাম লিমুলাস পলিফিমাস। একে কাঁকড়া বলা হলেও প্রজাতিগত দিক থেকে মাকড়সার সঙ্গে বেশি মিল রয়েছে। এরা প্রধানত অগভীর, নরম বালি বা কাদাসমৃদ্ধ সমুদ্রতলে বাস করে।

সাধারণত রাজ কাঁকড়ার জীবনচক্র ডিম, লার্ভা, জুভেনাইল এবং পূর্ণাঙ্গ দশা নিয়ে গঠিত। এরা ৯ থেকে ১২ বছর বয়সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় এবং ১২ থেকে ১৯ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। পূর্ণ জোয়ারের সময় এরা প্রজনন করে এবং তখন কক্সবাজার, সোনাদিয়া, মহেশখালী এবং সেন্টমার্টিনস দ্বীপের নিকটে জলাভূমির বালুময় সৈকতে ফিরে আসে। এরা মূলত জৈব আর্বজনা ভুক প্রাণী। এদের অধিকাংশই সমুদ্রের তলদেশের ছোট প্রাণী, পোকা-মাকড় এবং ছোট মাছ শিকার করে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এরা প্রধানত নিশাচর।

ডাইনোসরের চেয়েও প্রায় ২০ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে এসেছিল এই রাজ কাঁকড়া। আজ থেকে ৪৫ কোটি বছর আগে বিবর্তিত হয়ে এত দিন প্রায় অবিকৃত চেহারায় থেকে যাওয়ার জন্য এদের জীবন্ত জীবাশ্ম হিসেবে গণ্য করা হয়।

কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলে এই প্রাণীটি দিয় কিঁয়ারা বা দৈত্য কাঁকড়া নামে বেশি পরিচিত।

বিংশ শতাব্দীর প্রথম অর্ধাংশে আমেরিকায় রাজ কাঁকড়া সার এবং পশু খাদ্য তৈরিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হতো। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ যেমন—থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম এবং চীনে রাজ কাঁকড়ার ডিম সুস্বাদু খাবার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর রক্তের রং নীল। মানুষের শরীরের দ্রুত রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে এবং মেডিক্যাল যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতে এই কাঁকড়ার নীল রক্ত অতুলনীয়। এ ছাড়া এর শরীরের পেছনে থাকা ছোট্ট লেজটি দিয়ে তৈরি করা হয় ক্যান্সারের ওষুধ। তাই চিকিৎসাশাস্ত্রে এই প্রাণীটির কদর দিন দিন বাড়ছে।

২০১.৩ মিলিয়ন থেকে ১৪৫ মিলিয়ন বছর আগের জুরাসিক পিরিয়ডের পূর্ববর্তী যুগের প্রাণীটি প্রকৃতির চরমতম প্রতিকূল পরিবেশেও টিকে থাকলেও বর্তমানে চরম বিপন্ন অবস্থার মধ্যে রয়েছে এই প্রাণীটি। বিশেষ করে ওষুধি গুণের কথা প্রচার হওয়ার পর প্রাণীটি পড়েছে চরম ঝুঁকির মুখে।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                             

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা