পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছুড়ছেন এক তরুণ যোদ্ধা। তাঁর ঠিক সামনে অস্ত্র হাতে অসীম সাহসিকতায় এগিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিকামী নারী। সঙ্গে রাইফেল তাক করা আরো দুজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের পেছনে উড়ছে বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত লাল-সবুজের পতাকা। বনানী থেকে বিমানবন্দরের দিকে যেতে হাতের বাঁয়ে নজরে পড়বে দৃষ্টিনন্দন এই ভাস্কর্য। নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার ১ নম্বর প্রবেশপথ বরাবর সড়কের পাশে নির্মিত হচ্ছে এটি। চতুর্দিক থেকে দৃশ্যমান মুক্তিযুদ্ধের এ ভাস্কর্যটির নাম ‘বীর’। ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ এই স্লোগান থেকেই ‘বীর’ শব্দটি নেওয়া হয়েছে। একজন নারী ও তিনজন পুরুষ মুক্তিযোদ্ধার যে দৃঢ়তা দেখানো হয়েছে তাতে তাঁদের ক্লান্ত মুখাবয়ব এবং যুদ্ধের সাহসী বীর ভঙ্গিমাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। নতুন পতাকা, নতুন দিনের স্বপ্ন তাদের চোখে-মুখে। এ পতাকার জন্যই ৯ মাস ধরে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লড়েছেন বাংলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬২ ফুট প্রস্থ এবং ৫৩ ফুট উঁচু এ ভাস্কর্যটির নির্মাণকাজ একেবারেই শেষের পথে। সন্ধ্যা হলেই সাত রঙের এলইডি আলো ফুটে উঠবে ভাস্কর্য ঘিরে। সাত বীরশ্রেষ্ঠকে স্মরণ করা হচ্ছে এই সাতটি রঙের মধ্য দিয়ে। দিন-রাত ভাস্কর্য ঘিরে ফোয়ারা থেকে উৎসারিত হবে পানি। এ ছাড়া ভাস্কর্যের নিচের অংশে গাছপালা থাকবে। কমপক্ষে এক শ বছর টিকতে সক্ষম এ ভাস্কর্যটি। নির্মাতাদের দাবি, উচ্চতার দিক থেকে দেশে মুক্তিযুদ্ধের সবচেয়ে বড় ভাস্কর্য ‘বীর’। এত দিন পর্যন্ত রাঙামাটি ক্যান্টনমেন্টে ৫০ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্যই ছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত সর্বোচ্চ ভাস্কর্য। ‘বনানী ওভারপাস-এয়ারপোর্ট মোড় বিউটিফিকেশন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হচ্ছে এটি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এর পরিকল্পনা ও অর্থায়ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভিনাইল ওয়ার্ল্ড গ্রুপ। চলতি মাসেই উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। প্রথাগতভাবে এ ভাস্কর্যের কোনো ‘স্থপতি’ নেই। মূল ডিজাইনার চারুকলার পেইন্টিং বিভাগ থেকে সদ্য পাস করা হাজ্জাজ কায়সার। চারুকলারই কয়েকজন মেধাবী তরুণ পাঠচক্রের মাধ্যমে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করছেন। তাঁদের সহযোগিতা করেছে ভিনাইল ওয়ার্ল্ডের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার টিম। আর ফাউন্টেন নির্মাণ তদারকি করছেন সাবির সারওয়ার উপল। সওজের তত্ত্বাবধানে আগামী জুলাই মাসের দিকে বিমানবন্দর সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই ভাস্কর্য সেই সৌন্দর্যবর্ধনেরই একটি অংশ।