বিশেষ সময়ে একটি বিশেষ বাজেট দরকার ছিল। কিন্তু এটি একটি রুটিন বাজেট হয়েছে। এটি সাধারণ মানুষের খুব বেশি উপকারে আসবে বলে মনে হয় না। অঙ্কের হিসাবে মিলবে রাজস্ব আদায় ও রাজস্ব ব্যয়। যে চ্যালেঞ্জগুলো আছে, সেগুলো কতটুকু মোকাবেলা করতে পারবে সে ব্যাপারে আমি যথেষ্ট সন্দিহান। গত বাজেটের অসমাপ্ত কাজগুলোর প্রতি আরো নজর দেওয়া উচিত ছিল। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না এবারের বাজেট বাস্তবভিত্তিক হয়েছে। এটা বাস্তবায়ন হওয়া কঠিন হবে। এটা একটি রুটিন বাজেট হয়েছে। এবার বাজেটে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে চ্যালেঞ্জ হলো রাজস্ব কতটুকু কিভাবে আদায় করবে। ব্যয়ের ব্যাপারে কিন্তু কোনো সমস্যা হয় না। ব্যয় ঠিকই সরকার করবে। আর্থিক খাতে যে সমস্যা হবে সেটা হলো সরকার বিরাট একটি অংশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেবে। এই ঋণের চাপ ব্যাংক কিভাবে সামাল দেবে। এমনিতেই তো রাষ্ট্রায়ত্ত ও কমার্শিয়াল ব্যাংকগুলো সমস্যায় আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকা ছাপাবে। টাকা ছাপালে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে যাবে। এই বিষয়গুলো লক্ষ রাখা উচিত। কারণ দেশে এখনো মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। সরকারের যে ক্রেডিট ফ্লোটিং আছে, কর্মসংস্থান বাড়াতে ছোট ও মাঝারি শিল্পে ঋণ দেওয়া উচিত ছিল। বড় শিল্পেও ঋণ লাগবে, তবে বিশেষ এরিয়াতে তাদের দিতে হবে। বিশেষ করে বাজেটে কৃষি ও খাদ্যে উৎপাদনশীল খাতে গুরুত্ব আরো বেশি দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। আইএমএফ যেসব শর্ত দিয়েছে তার মধ্যে কিছু যথার্থ। এখন প্রতিফলন করাতে হবে জিডিপির অনুপাতে করের হার বাড়ানোর বিষয়টি। তাদের শর্ত মানতে গিয়ে যারা কর দিচ্ছে তাদের ওপর যেন করের বোঝা চাপানো না হয়। বরং করের জালটি বাড়াতে হবে। পরোক্ষ করে এত নির্ভর করা যাবে না। কারণ ভ্যাট সবার ওপরেই প্রভাব ফেলে। সরকার চাচ্ছে এনবিআরের মাধ্যমে বিশেষ উপায়ে সহজে কর আদায় করা। এনবিআর কষ্ট করে ও দক্ষতা বাড়িয়ে সততার সঙ্গে কর যে আদায় করবে সে ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেই। আমরা দেখেছি বাজেট বাস্তবায়নে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। যাদের বরাদ্দ দেওয়া হবে তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে পরবর্তী বাজেটে জানিয়ে দিতে হবে তোমাদের পারফরম্যান্স খারাপ তাই বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এই বিষয়গুলো প্রায় বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই চালু রয়েছে। খেলাপি ঋণের বিষয়টি খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। এটি বাজেটে সরাসরি বলা হয় না, তবে খেলাপি ঋণ সেটি বহু আগে থেকেই। এটি বাড়ার কারণ ব্যাংকগুলোর দায়িত্বশীলতার অভাব। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করা হয়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিষয়টিতে দিনের পর দিন ছাড় দিয়েই যাচ্ছে। এটি একদমই উচিত হয়নি। বরং ঋণখেলাপিদের অনেকভাবে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যথেষ্ট শক্ত হতে হবে কমার্শিয়াল ব্যাংকের প্রতি। লেখক : অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর