• ই-পেপার

ইউআইইউতে বর্ণিল আয়োজন

উৎসবে রঙিন নববর্ষে গণতন্ত্রের ঐকতান

নিজস্ব প্রতিবেদক
উৎসবে রঙিন নববর্ষে গণতন্ত্রের ঐকতান
বর্ষবরণ : বাংলা বর্ষবরণের অন্যতম আকর্ষণ বৈশাখী শোভাযাত্রা। এতে অংশ নেন সব বয়সী মানুষ। শোভাযাত্রায় ছিল পাঁচটি প্রধান প্রতীক বা মোটিফ—মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। মঙ্গলবার সকালে চারুকলা অনুষদের সামনে। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

পহেলা বৈশাখ কেবল নতুন বছরের সূচনা নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার গভীর অনুষঙ্গ। আনন্দের পাশাপাশি এটি আত্মচেতনা জাগ্রত করার দিনও। সেই উপলব্ধিই যেন প্রতিফলিত হয়েছে এবারের বর্ষবরণের প্রতিটি আয়োজনে। পুরনো বছরের যত দুঃখ-কষ্ট, গ্লানি, দৈন্য, জীর্ণতা, হতাশাসব পেছনে ফেলে উৎসব-আনন্দে মেতেছে সারা দেশ।

নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত মঙ্গলবার রাজধানী থেকে দেশের নানা প্রান্তে বৈশাখী মেলা, পান্তা-ইলিশ, বর্ণিল শোভাযাত্রা আর সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়েছে ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ হয়ে উঠেছে এক অনন্য অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলা।

রমনা বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজন : ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে রমনার বটমূলে ছায়ানটের প্রভাতি আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সকাল সোয়া ৬টায় চিত্ত যেথা ভয়শূন্য প্রতিপাদ্যে গান ও কবিতার মাধ্যমে মানবতা, শান্তি ও অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও লোকজ ধারার সৃষ্টিকে একসূত্রে গেঁথে নতুন বছরকে স্বাগত জানান শিল্পীরা। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রখ্যাত গণসংগীতজ্ঞ সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ এবং মুক্তিযোদ্ধা মতলুব আলীর প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তা উন্মোচনের দিন। সংস্কৃতির সব প্রকাশ যেন নির্বিঘ্ন হয়। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীও দিনভর তোপখানা রোডে গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে তাদের নিজস্ব আয়োজনে বর্ষবরণ করছে। রাজধানীর ধানমণ্ডির রবীন্দ্রসরোবর প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরের ধারার আয়োজনে বাংলা গানের সুর-সংগীতের মূর্ছনায় নববর্ষকে বরণ করে নিয়েছেন সহস্র শিল্পী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজন : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বরাবরের মতো বৈশাখী শোভাযাত্রা ছিল বর্ষবরণের মূল আকর্ষণ। নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান প্রতিপাদ্যে দিনব্যাপী আয়োজন রঙিন করে তোলে পুরো এলাকা। চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রা শাহবাগ থানা, টিএসসি মোড়, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ঘুরে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশি-বিদেশি অতিথি ও কূটনীতিকরা শোভযাত্রায় অংশ নেন।

এবারের শোভাযাত্রার অন্যতম আকর্ষণ ছিল পাঁচটি বিশাল মোটিফমোরগ, বেহালা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। নতুন দিনের বার্তা, শান্তি ও নিজস্বতার প্রতীক হিসেবে এসব উপস্থাপনা বাঙালির বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। বাদ্যযন্ত্রের তালে জাতীয় সংগীত, এসো হে বৈশাখ পরিবেশনা ও জাতীয় পতাকা বহন শোভাযাত্রায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। এ ছাড়া শোভাযাত্রায় আদিবাসী সম্প্রদায়, কৃষক, জেলে ও ঢোলবাদকদের অংশগ্রহণ এর বৈচিত্র্য ও উৎসবের আমেজকে আরো বাড়িয়ে তোলে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা মানুষ জানায়, করোনাভাইরাস মহামারি ও রমজানের কারণে কয়েক বছর শোভাযাত্রার প্রাণচাঞ্চল্য কিছুটা ম্লান থাকলেও এ বছর চিরচেনা রূপ দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিন পর তারা এই শোভাযাত্রার প্রকৃত প্রাণস্পন্দন অনুভব করতে পেরেছে। এবারের শোভাযাত্রা ও আয়োজনে সমসাময়িক নানা ইস্যুও উঠে এসেছে। ফ্রি প্যালেস্টাইন, বাঁচাও সুন্দরবন, শিক্ষা বাণিজ্য বন্ধ করো’—এসব প্ল্যাকার্ড ও স্লোগানের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সচেতনতার বার্তা দেয়।

রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের আয়োজন : রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন দল নিজস্ব ব্যানারে শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এর মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈশাখী শোভাযাত্রা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের ব্যানারে প্রেস ক্লাব থেকে রমনা পর্যন্ত এই শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।

বাংলামোটর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তাদের নাগরিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বাউলগান ও বায়োস্কোপের আয়োজন রাজধানীবাসী উপভোগ করে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও বর্ষবরণে অংশ নেয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের উদ্যোগে মলচত্বরে পুতুলনাচ, লাঠিখেলা ও লোকসংগীত পরিবেশিত হয়। অন্যদিকে জাতীয় ছাত্র শক্তি আয়োজন করে পালাগান। ডাকসু আয়োজিত বায়োস্কোপ প্রদর্শনীতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে ছিল বৈশাখী উৎসব : রাজধানীর বর্ষবরণের আয়োজন কেবল রমনা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না, ঢাকার বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রচিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিয়া উদ্যান, রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাতিরঝিল, লালবাগ কেল্লা সবখানেই ছিল মানুষের ঢল। নতুন বছরের ছুটিতে বিকেলের পর পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে বের হয় নগরবাসী। কেউ মেলায় কেনাকাটা, কেউ বা সেলফি আর আড্ডায় মেতে ওঠে। অনেক জায়গায় পান্তা-ইলিশের প্রথাগত ভোজের পাশাপাশি যুদ্ধবিরোধী গান ও কবিতার আসরও বসেছিল।

বিশেষ করে পুরান ঢাকায় ঐতিহ্যবাহী আহসান মঞ্জিলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। শিশুদের গান ও নৃত্যে মেতে ওঠে দর্শনার্থীরা। একই সঙ্গে পান্তাভাত ও মাছের আয়োজন ছিল দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ।

বাংলা নববর্ষ উদযাপনে গুলশান সোসাইটির উদ্যোগে গুলশানের লেক পার্কে বসে পহেলা বৈশাখের মেলা। এতে বিভিন্ন দূতাবাসের সদস্যরা ছিলেন।

উৎসবে রঙিন নববর্ষে গণতন্ত্রের ঐকতান

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার ছায়ানটের অনুষ্ঠানে গান-কবিতায় মুখর ছিল রাজধানীর রমনা বটমূল (বাঁয়ে) এবং নাচে-গানে বর্ষবরণ করে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

উৎসবে রঙিন নববর্ষে গণতন্ত্রের ঐকতান

শিশু একাডেমির মুক্তমঞ্চে নাচ পরিবেশন করে শিল্পীরা (বাঁয়ে) এবং বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির ইয়োগা সেন্টারের উদ্যোগে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শোভাযাত্রা বের করা হয়

 

 

 

কালের কণ্ঠে উচ্ছ্বাসে আনন্দে নববর্ষ আবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কালের কণ্ঠে উচ্ছ্বাসে আনন্দে নববর্ষ আবাহন
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শোভাযাত্রা বের করে কালের কণ্ঠ পরিবার (বাঁয়ে) এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের বৈশাখ উদযাপনে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । ছবি: কালের কণ্ঠ

আয়োজনের শুরুতেই ছিল পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া। বিতরণ করা হয় বৈশাখী টি-শার্ট ও গামছা। বিকেলে কালের কণ্ঠ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঢোল, বাঁশি ইত্যাদি বাজনার তালে তালে শোভাযাত্রায় অংশ নেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সর্বস্তরের কর্মীরা। সঙ্গে ছিল অনেকের পরিবারের সদস্যরাও। অংশগ্রহণকারীদের কারো পরনে ছিল রঙিন শাড়ি, অনেকের গায়ে পাঞ্জাবি, বৈশাখের টি-শার্ট, কাঁধে-কোমরে গামছা। শোভাযাত্রা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ। এরপর কালের কণ্ঠের আঙিনায় মঞ্চে শুরু হয় গান, নাচ।

অন্যদিকে চলে প্রাঙ্গণে রাখা বাতাসা, খই-মুড়কি, মিষ্টান্ন, চিপস, কোমল পানীয়, জুস ইত্যাদির স্বাদ নেওয়া। বিভিন্ন কোনায় বসে চলতে থাকে প্রাণখোলা আড্ডা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে হয় র‌্যাফল ড্র। আয়োজন শেষ হয় রাত ১০টার দিকে। পুরো সময় ছিল শুভেচ্ছা-কুশল বিনিময়, ছবি তোলা।

গত মঙ্গলবার এমন জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। কালের কণ্ঠে প্রথমবারের মতো নিজেদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ষবরণ উৎসব রূপ নেয় এক পারিবারিক মিলনমেলায়।

বৈশাখের ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো কালের কণ্ঠের প্রাঙ্গণে দুপুর থেকেই জমতে থাকে ভিড়। শিশু থেকে প্রবীণসব বয়সীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আয়োজনে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে আসেন কয়েকজন মফস্বল প্রতিনিধিও।

পুরো আয়োজনে বিশেষ করে কর্মীদের সন্তান-পরিবারের অংশগ্রহণ, শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এভাবে আয়োজনটি পায় এক পারিবারিক আবহ, যা সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। রাতে আলো আর সুরের মূর্ছনায় নতুন মাত্রা পায় অনুষ্ঠান। এরই মাঝে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত র‌্যাফল ড্র। এতে ছিল ৭২টি আকর্ষণীয় পুরস্কার। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা বিমানের কাপল টিকিট এবং দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল ঢাকা-সিলেট-ঢাকা বিমানের কাপল টিকিট। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি তিন অতিথিও। তাঁরা বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে অংশ নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাঁদের উপহার দেওয়া হয় গামছা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। এটিকে আমরা নিজেদের পরিসরে উদযাপন করতে পেরে গর্বিত।

নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, আমরা চেয়েছি একটি নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি করতে। আয়োজনের সাড়া দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সে লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি। আগামী দিনে এটি আরো বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

নাচ-গান শোভাযাত্রায় এনএসইউতে বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাচ-গান শোভাযাত্রায় এনএসইউতে বর্ষবরণ

পুরনো বছরের গ্লানি, ক্লান্তি ও অবসাদ পেছনে ফেলে নতুন আশায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। গত মঙ্গলবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। এ আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও ফ্ল্যাশমব। পাশাপাশি বাউল ও ভাটিয়ালি গানের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে মুখরিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাশেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদস্য বেনজীর আহমেদ, মিসেস দুলুমা আহমেদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দীন আহমেদ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান।

এম এ কাশেম বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। পুরনো বছরের সব গ্লানি ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আমরা নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা পাই।

উপ-উপাচার্য নেছার উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবে তথ্যমন্ত্রী

সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে মুখোশ পরাতে চায় অনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে মুখোশ পরাতে চায় অনেকে

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ষবরণ করা হয়। বরেণ্য শিল্পীদের একের পর এক বাউলগান, ভাওয়াইয়া ও দেশি গানে বর্ষবরণ উৎসব সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রেস ক্লাব সদস্যদের ছেলেমেয়েদের পরিবেশনায় এসো হে বৈশাখ এসো গান দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সকাল ৮টায় প্রেস ক্লাব সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা-ইলিশে প্রাতরাশের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের দেশীয় বিশেষ খাবারে সদস্যরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাউলসংগীত পরিবেশন করেন পুতুল বাউল, উপমা বাউল, উল্কা হোসেন, ইমু বাউল ও শামিম বাউল। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী সোহানুর রহমান, আবিদা রহমান সেতু ও মোহনা দাস গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ পরিবেশিত হয়। 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে কেউ কেউ নানা মতের মুখোশ পরাতে চায়।

সকালে ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বক্তব্য দেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাক হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

ইউআইইউতে বর্ণিল আয়োজন | কালের কণ্ঠ