আয়োজনের শুরুতেই ছিল পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া। বিতরণ করা হয় ‘বৈশাখী’ টি-শার্ট ও গামছা। বিকেলে কালের কণ্ঠ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঢোল, বাঁশি ইত্যাদি বাজনার তালে তালে শোভাযাত্রায় অংশ নেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সর্বস্তরের কর্মীরা। সঙ্গে ছিল অনেকের পরিবারের সদস্যরাও। অংশগ্রহণকারীদের কারো পরনে ছিল রঙিন শাড়ি, অনেকের গায়ে পাঞ্জাবি, বৈশাখের টি-শার্ট, কাঁধে-কোমরে গামছা। শোভাযাত্রা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ। এরপর কালের কণ্ঠের আঙিনায় মঞ্চে শুরু হয় গান, নাচ।
অন্যদিকে চলে প্রাঙ্গণে রাখা বাতাসা, খই-মুড়কি, মিষ্টান্ন, চিপস, কোমল পানীয়, জুস ইত্যাদির স্বাদ নেওয়া। বিভিন্ন কোনায় বসে চলতে থাকে প্রাণখোলা আড্ডা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে হয় র্যাফল ড্র। আয়োজন শেষ হয় রাত ১০টার দিকে। পুরো সময় ছিল শুভেচ্ছা-কুশল বিনিময়, ছবি তোলা।
গত মঙ্গলবার এমন জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। কালের কণ্ঠে প্রথমবারের মতো নিজেদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ষবরণ উৎসব রূপ নেয় এক পারিবারিক মিলনমেলায়।
বৈশাখের ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো কালের কণ্ঠের প্রাঙ্গণে দুপুর থেকেই জমতে থাকে ভিড়। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আয়োজনে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে আসেন কয়েকজন মফস্বল প্রতিনিধিও।
পুরো আয়োজনে বিশেষ করে কর্মীদের সন্তান-পরিবারের অংশগ্রহণ, শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এভাবে আয়োজনটি পায় এক পারিবারিক আবহ, যা সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। রাতে আলো আর সুরের মূর্ছনায় নতুন মাত্রা পায় অনুষ্ঠান। এরই মাঝে অনুষ্ঠিত হয় ‘বহুল প্রতীক্ষিত’ র্যাফল ড্র। এতে ছিল ৭২টি আকর্ষণীয় পুরস্কার। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা বিমানের কাপল টিকিট এবং দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল ঢাকা-সিলেট-ঢাকা বিমানের কাপল টিকিট। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি তিন অতিথিও। তাঁরা বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে অংশ নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাঁদের উপহার দেওয়া হয় গামছা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। এটিকে আমরা নিজেদের পরিসরে উদযাপন করতে পেরে গর্বিত।’
নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, ‘আমরা চেয়েছি একটি নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি করতে। আয়োজনের সাড়া দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সে লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি। আগামী দিনে এটি আরো বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।’



