• ই-পেপার

উৎসবে রঙিন নববর্ষে গণতন্ত্রের ঐকতান

কালের কণ্ঠে উচ্ছ্বাসে আনন্দে নববর্ষ আবাহন

নিজস্ব প্রতিবেদক
কালের কণ্ঠে উচ্ছ্বাসে আনন্দে নববর্ষ আবাহন
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় শোভাযাত্রা বের করে কালের কণ্ঠ পরিবার (বাঁয়ে) এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের বৈশাখ উদযাপনে যোগ দেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন । ছবি: কালের কণ্ঠ

আয়োজনের শুরুতেই ছিল পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদের নিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া। বিতরণ করা হয় বৈশাখী টি-শার্ট ও গামছা। বিকেলে কালের কণ্ঠ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ঢোল, বাঁশি ইত্যাদি বাজনার তালে তালে শোভাযাত্রায় অংশ নেন কালের কণ্ঠের সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদকসহ সর্বস্তরের কর্মীরা। সঙ্গে ছিল অনেকের পরিবারের সদস্যরাও। অংশগ্রহণকারীদের কারো পরনে ছিল রঙিন শাড়ি, অনেকের গায়ে পাঞ্জাবি, বৈশাখের টি-শার্ট, কাঁধে-কোমরে গামছা। শোভাযাত্রা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ঘুরে ছড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ। এরপর কালের কণ্ঠের আঙিনায় মঞ্চে শুরু হয় গান, নাচ।

অন্যদিকে চলে প্রাঙ্গণে রাখা বাতাসা, খই-মুড়কি, মিষ্টান্ন, চিপস, কোমল পানীয়, জুস ইত্যাদির স্বাদ নেওয়া। বিভিন্ন কোনায় বসে চলতে থাকে প্রাণখোলা আড্ডা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে হয় র‌্যাফল ড্র। আয়োজন শেষ হয় রাত ১০টার দিকে। পুরো সময় ছিল শুভেচ্ছা-কুশল বিনিময়, ছবি তোলা।

গত মঙ্গলবার এমন জাঁকজমকভাবে উদযাপন করা হয় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। কালের কণ্ঠে প্রথমবারের মতো নিজেদের উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ষবরণ উৎসব রূপ নেয় এক পারিবারিক মিলনমেলায়।

বৈশাখের ব্যানার-ফেস্টুনে সাজানো কালের কণ্ঠের প্রাঙ্গণে দুপুর থেকেই জমতে থাকে ভিড়। শিশু থেকে প্রবীণসব বয়সীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আয়োজনে আনন্দ ভাগাভাগি করতে ছুটে আসেন কয়েকজন মফস্বল প্রতিনিধিও।

পুরো আয়োজনে বিশেষ করে কর্মীদের সন্তান-পরিবারের অংশগ্রহণ, শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এভাবে আয়োজনটি পায় এক পারিবারিক আবহ, যা সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ ছড়িয়ে দেয়। রাতে আলো আর সুরের মূর্ছনায় নতুন মাত্রা পায় অনুষ্ঠান। এরই মাঝে অনুষ্ঠিত হয় বহুল প্রতীক্ষিত র‌্যাফল ড্র। এতে ছিল ৭২টি আকর্ষণীয় পুরস্কার। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার ছিল ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা বিমানের কাপল টিকিট এবং দ্বিতীয় পুরস্কার ছিল ঢাকা-সিলেট-ঢাকা বিমানের কাপল টিকিট। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বিদেশি তিন অতিথিও। তাঁরা বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে অংশ নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তাঁদের উপহার দেওয়া হয় গামছা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যে কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় উৎসবগুলোর একটি। এটিকে আমরা নিজেদের পরিসরে উদযাপন করতে পেরে গর্বিত।

নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলী বলেন, আমরা চেয়েছি একটি নিরাপদ ও আনন্দমুখর পরিবেশ তৈরি করতে। আয়োজনের সাড়া দেখে মনে হচ্ছে, আমরা সে লক্ষ্য পূরণ করতে পেরেছি। আগামী দিনে এটি আরো বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ইউআইইউতে বর্ণিল আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ইউআইইউতে বর্ণিল আয়োজন
রাজধানীর শিশু পার্কের সামনে ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর বর্ষবরণ অনুষ্ঠান (বাঁয়ে) এবং নাচে-গানে বর্ষবরণ করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।   ছবি : কালের কণ্ঠ

বর্ণিল আয়োজন ও প্রাণচাঞ্চল্যে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ) ক্যাম্পাসে সম্পন্ন হয়েছে ইউআইইউ বর্ষবরণ উৎসব ১৪৩৩। তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। এ আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল কালের কণ্ঠ

উৎসবের সূচনা হয় ১২ এপ্রিল আল্পনা উৎসব ১৪৩৩ দিয়ে। ওই দিন বিকেল থেকেই শিক্ষার্থীরা রংতুলি হাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আঁকতে শুরু করেন বৈশাখের নান্দনিক আল্পনা। সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় দেয়াল ও প্রাঙ্গণজুড়ে ফুটে ওঠে বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও উৎসবের রঙিন বহিঃপ্রকাশ।

পরদিন ১৩ এপ্রিল দিনব্যাপী মূল বর্ষবরণ আয়োজন ঘিরে ক্যাম্পাসে দেখা যায় উৎসবমুখর পরিবেশ। মেলায় বসে নানা স্টল, যেখানে ছিল দেশীয় পণ্য, হস্তশিল্প ও বাহারি খাবারের সমাহার। দর্শনার্থীদের জন্য ছিল লোকজ খেলাধুলার আয়োজন ও নাগরদোলা। পাশাপাশি লাইভ মিউজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখরিত ছিল পুরো দিন।

আয়োজক ইউআইইউ কালচারাল ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য ছিল নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা জাগিয়ে তোলা। অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করে তারা।

 

নাচ-গান শোভাযাত্রায় এনএসইউতে বর্ষবরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নাচ-গান শোভাযাত্রায় এনএসইউতে বর্ষবরণ

পুরনো বছরের গ্লানি, ক্লান্তি ও অবসাদ পেছনে ফেলে নতুন আশায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়। গত মঙ্গলবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি সাংস্কৃতিক সংগঠন ক্লাবের উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠান শুরু হয় বৈশাখী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে। এ আয়োজনে মিডিয়া পার্টনার ছিল কালের কণ্ঠ।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক আয়োজনে ছিল নৃত্য, গান, আবৃত্তি ও ফ্ল্যাশমব। পাশাপাশি বাউল ও ভাটিয়ালি গানের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে মুখরিত।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান এম এ কাশেম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদস্য বেনজীর আহমেদ, মিসেস দুলুমা আহমেদ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দীন আহমেদ ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান।

এম এ কাশেম বলেন, পহেলা বৈশাখ বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। এ উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শিকড়ের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। পুরনো বছরের সব গ্লানি ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আমরা নতুন করে শুরু করার অনুপ্রেরণা পাই।

উপ-উপাচার্য নেছার উদ্দীন আহমেদ বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

 

জাতীয় প্রেস ক্লাবে তথ্যমন্ত্রী

সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে মুখোশ পরাতে চায় অনেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে মুখোশ পরাতে চায় অনেকে

গত মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বর্ষবরণ করা হয়। বরেণ্য শিল্পীদের একের পর এক বাউলগান, ভাওয়াইয়া ও দেশি গানে বর্ষবরণ উৎসব সবাইকে মুগ্ধ করে। প্রেস ক্লাব সদস্যদের ছেলেমেয়েদের পরিবেশনায় এসো হে বৈশাখ এসো গান দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

সকাল ৮টায় প্রেস ক্লাব সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য খই, মুড়ি-মুড়কি, পায়েস, বাতাসা, খিচুড়ি ও পান্তা-ইলিশে প্রাতরাশের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের দেশীয় বিশেষ খাবারে সদস্যরা সপরিবারে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বাউলসংগীত পরিবেশন করেন পুতুল বাউল, উপমা বাউল, উল্কা হোসেন, ইমু বাউল ও শামিম বাউল। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী সোহানুর রহমান, আবিদা রহমান সেতু ও মোহনা দাস গান পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাচ পরিবেশিত হয়। 

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংস্কৃতির বহুত্ববাদ না বুঝে নববর্ষের গায়ে কেউ কেউ নানা মতের মুখোশ পরাতে চায়।

সকালে ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশেষ অনুষ্ঠান ও আপ্যায়ন উপকমিটির আহ্বায়ক কাদের গনি চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ বক্তব্য দেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী রওনাক হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

উৎসবে রঙিন নববর্ষে গণতন্ত্রের ঐকতান | কালের কণ্ঠ