• ই-পেপার

মিয়ানমারে বেসামরিকদের ওপর হামলা বেড়েছে, পর্যবেক্ষক সংস্থার সতর্কবার্তা

‘দানব’ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে ফ্রান্স-স্পেন

অনলাইন ডেস্ক
‘দানব’ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে ফ্রান্স-স্পেন
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, দেশজুড়ে চলমান দাবানল নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ ও আগামীকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বুধবার থেকে আবহাওয়া এমন হবে, যা আগুন নেভানোর কাজকে আরো কঠিন করে তুলবে।’ দাবানলের কারণে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মী ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দিনে দাবানল আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। 

ফ্রান্স ও স্পেনে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সোমবারও দমকলকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, নতুন তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

দাবানলের কারণে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ফ্রান্সের বোর্দো শহরের কাছের জিরোন্দ অঞ্চলের বাসিন্দা। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি এলাকাতেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফায়ারফাইটার্স ফেডারেশন জানিয়েছে, এই দাবানল থেকে বিরল ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ অগ্নি-মেঘ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের মেঘ নিজেই শক্তিশালী বাতাস ও বজ্রপাত সৃষ্টি করতে পারে, যা নতুন করে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।

সংস্থাটির মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্ডি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। তবে দমকলকর্মীরা আগুনের দুর্বল অংশ খুঁজে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন।

অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দাবানল-কবলিত ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করছেন। সেখানে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আরো ১৫ হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, আগুন ধীরে ধীরে এগোলেও সামনে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে। আভিলা প্রদেশে আগুনের বিস্তারকে দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ভার্জিনিয়া বারকোনেস ‘একটি দানবের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সেখানে প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন তীব্র দাবানল ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় বেশি ঘটছে। দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাব এবং শুকিয়ে যাওয়া বনভূমি আগুনকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে পর্যটকদের ওই এলাকা এড়িয়ে অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৪৫টি ক্যাম্পসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্কাউটদের রাত্রিযাপন কর্মসূচি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত ছুটির ক্যাম্পও বন্ধ ঘোষণা করেছে। জিরোন্দের বাসিন্দা জর্জেস ক্লিভাজ জানান, আগুন থেকে বাড়ি রক্ষার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাগানের পাইপ দিয়ে বাড়ির চারপাশে পানি ছিটাচ্ছেন।

তবে দমকলকর্মীরা সতর্ক করেছেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন তাদের এলাকায় পৌঁছে যেতে পারে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস বলেছেন, সারা দেশে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত প্রতিকূল। তবে জিরোন্দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোর পর্যন্ত আগুন মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

ফ্রান্সের দাবানলে আহত ৮৪ দমকলকর্মী, নতুন তাপপ্রবাহের সতর্কতা

ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলের ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের সিএফডিটি ইউনিয়নের ফেডারেল সেক্রেটারি সেবাস্তিয়েন বুভিয়ের অভিযোগ করেছেন, আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে সুরক্ষার জন্য দমকলকর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে নতুন তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এতে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরো কঠিন করে তুলবে। জিরোন্দ অঞ্চলে দাবানলে অন্তত ২৪০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। এর বেশিরভাগই লে পোর্জ গ্রামে।

তবে বোর্দোর মেয়র থমাস ক্যাজেনভ বলেছেন, ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর বোর্দো খালি করার কোনো পরিকল্পনা নেই। যদিও শহরটিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, তবু পরিস্থিতির ওপর কর্তৃপক্ষ সতর্ক নজর রাখছে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া দাবানলে জিরোন্দ অঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বন ও জমি পুড়ে গেছে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোর্দোর কাছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শিল্প এলাকা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বোর্দোর দক্ষিণের প্রধান মহাসড়ক ও রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে জিরোন্দ অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ৫০০ দমকলকর্মী, এক হাজার ৫০০ সেনাসদস্য এবং এক হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্পেনে দাবানলে ‘অকল্পনীয়’ ক্ষতি, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বলেছেন, দেশের ভয়াবহ দাবানলে প্রাকৃতিক পরিবেশের অকল্পনীয় ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রিদের পশ্চিমে ভিলামান্তা এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। দাবানলের কারণে মাদ্রিদ অঞ্চল, আভিলা, টোলেডো এবং পূর্বাঞ্চলের কাস্তেলোন থেকে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভিলামান্তার একটি জিমনেসিয়ামকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া আজুসেনা পাগুয়াদা বলেন, ‘আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। গার্ডিয়া সিভিল আমাদের বাড়িতে এসে দ্রুত এলাকা ছেড়ে যেতে বলে।’

৭০ বছর বয়সী আরেক আশ্রয়প্রার্থী মার্গারিটা জানান, তিনি চার দিন ধরে একই পোশাক পরে আছেন। তিনি বলেন, ‘রানি আমাদের দেখতে এসেছিলেন, আর আমি এই নোংরা পোশাকই পরে ছিলাম।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতাসের কারণে মাদ্রিদের কাছের আগুন আপাতত রাজধানী থেকে দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। তবে আগুনের পথের গ্রামগুলো থেকে আরো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নতুন দাবানল খুবই তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে। ভ্যালেন্সিয়ার কাছে আরেকটি ছোট দাবানলে শনিবার একজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এটি স্পেনে চলমান দাবানলে প্রথম বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বোর্দোর কাছে আগুন নেভানোর সময় মঙ্গলবার দুই দমকলকর্মী নিহত হন।

রবিবারের প্রার্থনায় পোপ লিও চতুর্থ স্পেন ও ফ্রান্সের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। এদিকে ইতালিও দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে। 

দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের পুগলিয়া অঞ্চলের পেশিচি শহরের কাছে সমুদ্রপথে ৪০০ জনের বেশি পর্যটক ও সৈকত ভ্রমণকারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরো প্রায় ৩০০ জনকে উদ্ধার করার প্রস্তুতি চলছে।


 

৪২০০ কোটি রুপির এক্সপ্রেসওয়ে, ১২ দিনেই ফাটল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
৪২০০ কোটি রুপির এক্সপ্রেসওয়ে, ১২ দিনেই ফাটল
সংগৃহীত ছবি

অনেক ধুমধাম করে উদ্বোধন করা হয়েছিল ভারতের উত্তর প্রদেশের লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। কিন্তু মাত্র ১২ দিনের মাথায় দামি এই এক্সপ্রেসওয়েতে ফাটল দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রবল বর্ষণকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দায়ী করলেও বিরোধীরা এর জন্য নিম্নমানের কাজ, নির্মাণকাজে তদারকিতে গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে সোচ্চার হয়েছেন। 

গত ১৩ জুলাই লখনউ-কানপুর গ্রিনফিল্ড ন্যাশনাল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কেন্দ্রীয় মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি উপস্থিত ছিলেন।

এক্সপ্রেসওয়েটি বানাতে মোট ৪ হাজার ২০০ কোটি রুপি ব্যয় হয়েছিল। উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় আসা কিছু ছবি সবাইকে চমকে দিয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে, কোথাও কোথাও ধসে পড়েছে।

উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা মধুসূদন যাদব এক্সপ্রেসওয়ে থেকে একটি ভিডিও শেয়ার করে জানিয়েছেন, কোরারি গ্রামের কাছে রাস্তার প্রায় পাঁচ থেকে সাত মিটারের একটি অংশ ধসে গেছে। ফাটলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে যাদব বলেন, ‘আমি লখনউ-কানপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং কোরারিতে পৌঁছানো মাত্রই দেখলাম বৃষ্টির পর রাস্তাটিতে কিভাবে ফাটল ধরেছে।’

এই ধরনের ফাটল বড় কোনো দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে যাদব সরকারকে এই প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তবে খবর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মেরামত শেষে এক্সপ্রেসওয়েটি চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনের মাত্র ১২ দিনের মাথায় লখনউ-কানপুর এক্সপ্রেসওয়ের এই দশার জন্য ভারি বর্ষণ এবং পিচের উপরিভাগের প্রযুক্তিগত ত্রুটিকেই দায়ী করা হচ্ছে।

ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়া-এর প্রকল্প পরিচালক নকুল প্রকাশ ভার্মা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মূল সড়কটি ধসে যায়নি। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পিচের একেবারে ওপরের আস্তরণ আলগা হয়ে প্রায় ৪০ মিটার রাস্তাজুড়ে পিছলে গেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভেতরের মূল কাঠামো বা নিচের মাটি ধসে না পড়ায় একে স্ট্রাকচারাল ফেইলিউর বা স্থায়ী ধস বলা যাবে না।

কর্মকর্তারা দাবি করেন, পিচের তৈরি দীর্ঘ মহাসড়কগুলোতে কাজ শেষ হওয়ার পরপরই হুট করে ভারি বৃষ্টি হলে দু-এক জায়গায় এমন কারিগরি বা টেকনিক্যাল সমস্যা দেখা দিতে পারে। তারা বলেন, উন্নাওয়ের কোরারি এলাকার ওই অংশের পাশের মাটির বাঁধটি ভারি বর্ষণের তোড়ে ধুয়ে যাওয়ায় রাস্তার উপরিভাগের পিচ ধরে রাখার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।

চিলিতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প

অনলাইন ডেস্ক
চিলিতে ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প
ছবি : রয়টার্স

চিলির আন্তোফাগাস্তা শহরে সোমবার (২৭ জুন) ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এ তথ্য জানিয়েছে ইউরোপীয় ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি)। 

ইএমএসসি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৯৩ কিলোমিটার গভীরে।

তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে বিভিন্ন এলাকায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।  পরিস্থিতি মূল্যায়ন শেষ হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

জুনের পর জুলাইও ভয়ংকর ইউক্রেনে

অনলাইন ডেস্ক
জুনের পর জুলাইও ভয়ংকর ইউক্রেনে
ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভের ওখমাতদিত শিশু হাসপাতালে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। ছবি : রয়টার্স

যেমনটা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঘটেছেও তাই। যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের সবচেয়ে ভয়ংকর মাস এখন চলতি জুলাই। ২৯৩ জন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু নিয়ে গত মাস মানে জুন মাস ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর।

যুদ্ধ যেভাবে তীব্রতা পাচ্ছিল, তাতে জুলাই জুন মাসকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, এমন আশঙ্কা ছিল। শেষ হওয়ার আগেই জুলাই সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হয়ে গেছে ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের জন্য।

ইউক্রেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে রাশিয়ার হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৭৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ২ হাজার ১২৯ জন আহত হয়েছেন।

চলতি মাসের হামলাগুলোতে উচ্চ সংখ্যার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিহত করা বেশ কঠিন। এগুলো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু করেছে। এ কারণেই হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ‘রাশিয়া গত সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি ড্রোন, ১ হাজার ৬৩০টিরও বেশি গাইডেড এরিয়াল বোমা এবং ৫০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।’

রবিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক সন্ত্রাসের ওপর রাশিয়ার এই বাজি আমাদের রুখে দিতেই হবে।’

তিনি আরো যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী প্রতিটি ইন্টারসেপ্টর আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে। তবে সেগুলো আমাদের সহযোগীদের গুদামে থাকলে হবে না, ইউক্রেনীয় ব্যবস্থায় থাকতে হবে।’

জেলেনস্কি প্রায়শই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট এবং অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বারবার আবেদন জানিয়ে আসছেন।

ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিববার চের্নিহিভে একটি সুপারমার্কেটে রুশ ড্রোন হামলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশু এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং আরো তিনজন আহত হয়েছেন।

তবে ইউক্রেনও গত সপ্তাহে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান অব্যাহত রেখেছে। যার ফলে রাশিয়ার বেশ কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অভিযানের কারণে রাশিয়া বছরের শেষ নাগাদ ডিজেল রপ্তানির ওপর তাদের নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে বাধ্য হয়েছে।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক শনিবার বলেছেন, বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরকার ডিজেল রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।

ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার শনিবার জানিয়েছে, ‘রাশিয়ার অনেক এলাকা এবং দখলকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো এখনো জ্বালানি সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে। যদিও রুশ কর্মকর্তারা ক্রমশ এমন ভাব দেখাচ্ছেন যে, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সংকট স্থিতিশীল হচ্ছে।’

জবাবে রাশিয়াও উত্তর ইউক্রেনের জ্বালানি স্টেশনগুলোতে হামলা চালিয়েছে এবং কৃষ্ণসাগর ও দানিয়ুব নদীর তীরে ইউক্রেনীয় বন্দরগুলোতেও তাদের হামলা জোরদার করেছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে জুন মাসে একটি বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়ার ভেতরে জ্বালানী অবকাঠামো, স্যাটেলাইট কেন্দ্রসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নানা অবকাঠামোয় অব্যাহত ড্রোন হামলা চালায় ইউক্রেন।

শুরুর দিকে বেশ সাফল্যও পেয়েছিল তারা। রাশিয়ার মত তেল উৎপাদনকারী দেশেও তীব্র জ্বালানী সঙ্কট দেখা দেয়। কিন্তু ইউক্রেনের জন্য ব্যাপারটা হয়ে যায় ভিমরুলের চাকে ঢিল দেয়ার মতো। পুতিন ইউক্রেনের চাপে কাবু হওয়ার বান্দা নন। তীব্রভাবে পাল্টা হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেন যুদ্ধ এখন একদম তার শুরুর দিকের তীব্রতায় ফিরে গেছে। ফলে দুই পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।