• ই-পেপার

সরকারকে সতর্ক করে যে বার্তা দিলেন রাহুল গান্ধী

ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ী কে?

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ী কে?
ছবি : রয়টার্স

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। একই সঙ্গে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনার জন্য কেন্দ্র সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য আমরা সরাসরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে দায়ী করি। তার অনুমতিতেই আমাদের শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। এটি আমাদের মৌলিক ইস্যু এবং সংসদে এটি বড় বিষয় হিসেবে উত্থাপন করা হবে।’

শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও ক্ষমা চায় মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, ‘সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও শুধু এতে সমস্যার সমাধান হবে না। তাকে (ধর্মেন্দ্র প্রধান) যেতে হয়েছে, এটি ভালো হয়েছে। কিন্তু এখন শিক্ষা ব্যবস্থা পরিবর্তনে সরকারকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।’

জ্ঞানের ওপর আঘাত হানা হয়েছে বলে অভিযোগ করে রাহুল বলেন, ‘আরএসএস ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। যদি মোদিজি দোষী হন, তাহলে আরএসএসও সমানভাবে দায়ী। তারা উইপোকার মতো শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’

বক্তব্যের শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘এই বিজয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন। যে শিক্ষা ব্যবস্থা একসময় আমাদের গর্ব ছিল, সেটির ওপর আঘাত করা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছিল তারই প্রতিক্রিয়া।’

কলকাতায় বিক্ষোভে মমতা, পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের ধস্তাধস্তি

অনলাইন ডেস্ক
কলকাতায় বিক্ষোভে মমতা, পুলিশের সঙ্গে তৃণমূলের ধস্তাধস্তি

ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থনে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, শনিবার কলকাতার পদ্মপুকুরে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তাবিত মিছিলের অনুমতি না দেননি কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরেও পূর্বে ঘোষিত এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলে সেখানে পুলিশ ও তৃণমূলের কালিঘাট গোষ্ঠীর সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করার সময় পুলিশ বেলেঘাটা কেন্দ্রের বিধায়ক কুণাল ঘোষ এবং ছাত্রনেতা বৈশ্বনার চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে। এর পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান। পরে তিনি স্কুটারে করে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে যান।

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) কালিঘাট গোষ্ঠী, দলের যুব সংগঠন ও আইটি সেলের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পরিকল্পনা ছিল পদ্মপুকুর থেকে সিআইটি রোড হয়ে মৌলালি পর্যন্ত একটি মিছিল করার। তবে পুলিশ পূর্বে দেওয়া অনুমতি প্রত্যাহার করলে আয়োজকরা কলকাতা হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আদালত শেষ পর্যন্ত ওই মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ অবস্থায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পদ্মপুকুরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। 

আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা সিজেপির

অনলাইন ডেস্ক
আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা সিজেপির
ছবি : রয়টার্স

ভারতের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগসহ কেন্দ্রীয় সরকার তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় সংগঠনটি এ ঘোষণা দিয়েছে।

সরকারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সিজেপির নেতা সৌরভ দাস বলেন, ‘সরকার আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। তাই আমরা সব বিক্ষোভকারীকে বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

সিজেপির দাবি অনুযায়ী, সরকার যেসব বিষয়ে সম্মত হয়েছে, সেগুলো হলো

* নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

* কেন্দ্রীয় সরকার এবং এনডিএশাসিত রাজ্যগুলোতে আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের করা সব এফআইআর প্রত্যাহার করা হবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারো বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

* পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে সিজেপির ৫ দফা সনদ সরকার বিবেচনা করবে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে সরকারের সঙ্গে সিজেপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা জানান, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর করা হবে না—সরকার এই দাবি মেনে নিয়েছে।

এর আগে আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। সেই দাবি পূরণ হওয়ার পর সরকার বাকি বিষয়গুলোতেও ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ায় আন্দোলন আর চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংগঠনটি।

এদিকে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলা এ বিক্ষোভের আপাত সমাপ্তি ঘটলেও সরকারের প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়নের ওপর নজর রাখার কথা জানিয়েছে সিজেপি।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন কেজরিওয়াল

অনলাইন ডেস্ক
তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন কেজরিওয়াল
ছবি : রয়টার্স

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তরুণদের অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির আম আদমি পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। 

শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন।’

কেজরিওয়াল আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের জেন-জিদের অনেক অভিনন্দন। এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। আপনাদের সংগ্রাম সফল হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করতে হয়েছে।’

গণতন্ত্রের বড় বিজয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের গণতন্ত্রের ওপর থেকে আস্থা উঠে যাচ্ছিল। মানুষের মনে হচ্ছিল, সরকার জনগণের কথা শোনে না। জনগণ সরকারের সামনে চিৎকার করে, অনুরোধ করে, হাতজোড় করে, এমনকি পায়ে ধরেও আবেদন জানায়, তবু সরকার কথা শোনে না।’

 

কেজরিওয়াল আরো বলেন, ‘এত বড় আন্দোলনের পর শেষ পর্যন্ত সরকারের অহংকার নত হয়েছে। জনগণের সামনে সরকারকে মাথা নত করতে হয়েছে। এটি গণতন্ত্রের বড় বিজয়।’

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এখন সরকারের বোঝা উচিত যে জনগণের কথা শুনতে হবে। এটাই গণতন্ত্র। গণতন্ত্র জনগণের, জনগণের দ্বারা এবং জনগণের জন্য।’

এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকার নিট পরীক্ষার পুরো ব্যবস্থাকে সংস্কার করবে, যাতে আগামী বছর থেকে আর প্রশ্ন ফাঁস না হয়। এই দেশের কোনো শিক্ষার্থীকে আর আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে না হয়।’

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের তৃতীয় দফার আলোচনার আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।