• ই-পেপার

সংস্কারে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান

সিজেপির লিখিত আবেদন গ্রহণ, অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ সরকারের

অনলাইন ডেস্ক
সিজেপির লিখিত আবেদন গ্রহণ, অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ সরকারের
ছবি : দ্য হিন্দু

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিনিধি সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বৈঠকের পর সরকার বিক্ষোভকারীদের তাদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানিয়েছে। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নাড্ডা বলেন, বিক্ষোভকারীদের অনুরোধে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধিদল একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছে।

ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) হাজারো সমর্থক দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন। মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা জন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে পদযাত্রার প্রস্তুতি চলে। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার জেরে সিজেপি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছে। 

নাড্ডা বলেন, তিনি বিক্ষোভকারীদের অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এদিকে দিল্লি পুলিশও বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার, সংযম দেখানোর এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি গুজব, ভুল তথ্য ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার বা বিশ্বাস না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছে।

সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে এবং জে.পি. নাড্ডা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে আলোচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি।

সৌরভ দাস বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’

 

সিজেপি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিট-২০২৬ প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং সাম্প্রতিক সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির পোর্টাল সমস্যা ও পরীক্ষার বিলম্বের জন্য দায়ী করেছে। নাড্ডার কাছে দেওয়া চিঠিতে সিজেপি অভিযোগ করেছে, এসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, যা তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার প্রমাণ।

এর আগে সোমবার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ মধ্য দিল্লির উচ্চ-নিরাপত্তা এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা সংসদের দিকে মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। এলাকায় আগেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল, যা বড় ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করে।

তবে আন্দোলন এখনও চলমান রয়েছে। সূত্রের দাবি, জন্তর মন্তর থেকে কাউকে জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়া হয়নি এবং এ ধরনের কিছু খবর সঠিক নয়।

গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া সবচেয়ে বড় বিক্ষোভগুলোর একটিতে সোমবার দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকা কার্যত অচল হয়ে পড়ে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে হাজারো বিক্ষোভকারী যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে মিছিল করেন।

সংসদের ভেতরেও উত্তপ্ত পরিস্থিতি ছিল, তবে বাইরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেশি নজর কাড়ে। সন্ধ্যার মধ্যে যন্তর মন্তর এলাকা খালি করা হলেও ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) জানিয়েছে, তাদের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো এখনও কেরালা হাউসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে অনশনের ২৩তম দিনে পৌঁছানো সোনম ওয়াংচুক এক খোলা চিঠিতে জানিয়েছেন, পুলিশের পদক্ষেপের প্রতিবাদে তিনি তার অনশন চালিয়ে যাবেন। সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সহায়তা করে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও।

বিক্ষোভের সময় সরকার ওই এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়। সকালে আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে ব্যারিকেড বসানোর দৃশ্যও দেখা যায়। পরে বিক্ষোভকারীরা সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে। অনেক বিক্ষোভকারী পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ করেছেন। আরএমএল হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সংঘর্ষ-সংশ্লিষ্ট ৬৫টি মেডিকো-লিগ্যাল মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।

সিজেপি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী উদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আগে আম আদমি পার্টির (এএপি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দলে কাজ করেছেন।


 

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

জ্বালানি ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা প্রধানের বৈঠক

অনলাইন ডেস্ক
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার বৈঠক

ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার করা এবং অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক বাণিজ্যপথের সুরক্ষার বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সৌদি আরবের রাজনীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত ড. সৌদ আল-সাতি উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত এপ্রিলেও অজিত দোভাল সৌদি আরব সফরে গিয়ে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক করেছিলেন। এ ছাড়া বিগত বছরের ডিসেম্বরে দুই দেশের মধ্যে একটি কূটনৈতিক ভিসা মওকুফ চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যা দুই দেশের সম্পর্কের গতি বাড়াতে সাহায্য করছে।

ভারতে অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহের অন্যতম প্রধান উৎস হলো সৌদি আরব। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে বেশ সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে প্রায় ২৭ লাখ ভারতীয় বসবাস করছেন, যারা দুই দেশের সম্পর্কের একটি বড় জীবন্ত সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছেন। নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতের এই সাম্প্রতিক আলোচনা ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারতে প্রথমবার ৪-৬০ বছর বয়সীদের জন্য ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে প্রথমবার ৪-৬০ বছর বয়সীদের জন্য ডেঙ্গু টিকার অনুমোদন
ছবি : রয়টার্স

ভারতে প্রথমবারের মতো ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা কিউডেঙ্গা (টিএকে-০০৩) ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই)। জাপানের টাকেডা ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করা এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে।

কী এই কিউডেঙ্গা এবং টিকার ডোজ কয়টি?

কম্পানির তথ্য অনুযায়ী, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাটি তিন মাসের ব্যবধানে দুটি ডোজে নিতে হয়। টিকাটি দুই ডোজে দেওয়া হবে। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। এটি নেওয়ার আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন নেই এবং আগে ডেঙ্গু হয়েছে কি না, সেটিও বিবেচ্য নয়। 

এই অনুমোদন ১৯টি ফেজ-১, ফেজ-২ ও ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফলের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। এসব গবেষণায় ডেঙ্গুপ্রবণ ও অ-ডেঙ্গুপ্রবণ অঞ্চলের ২৮ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেন।

টাকেডার প্রধান ফেজ-৩ ‘টিডস’ (ডিইএন-৩০১) গবেষণায় ডেঙ্গুপ্রবণ আটটি দেশের ২০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নেয়। গবেষণায় দেখা যায়, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার ১২ মাস পর টিকাটি ডেঙ্গু প্রতিরোধে ৮০.২ শতাংশ কার্যকর ছিল। এ ছাড়া ১৮ মাস পর ডেঙ্গুজনিত হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে এর কার্যকারিতা ছিল ৯০.৪ শতাংশ। সাড়ে চার বছর পরও হাসপাতালে ভর্তি প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮৪.১ শতাংশ।

সাত বছর পর্যন্ত অনুসরণে দেখা গেছে, টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে সক্ষম। ভারতে ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের ওপর পরিচালিত আরেকটি ফেজ-৩ গবেষণায়ও কিউডেঙ্গাকে নিরাপদ, ভালোভাবে সহনীয় এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে কার্যকর বলে পাওয়া গেছে।

টাকেডার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভারত অঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার পিটার স্ট্রেইবল বলেন, ডেঙ্গু শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়, এটি পুরো অঞ্চলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এ রোগ মোকাবেলায় দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠানটির মেডিক্যাল অ্যাফেয়ার্স প্রধান ডা. গোহ চু বেং বলেন, ভারতের অনেক এলাকায় ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই ছড়িয়ে পড়ে। কিউডেঙ্গা এসব ধরন থেকেই সুরক্ষা দিতে পারে এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশের প্রচেষ্টাকে আরো শক্তিশালী করবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডেঙ্গুর উচ্চ সংক্রমণপ্রবণ এলাকায় কিউডেঙ্গা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে। টিকাটি ডব্লিউএইচওর প্রাক-যোগ্যতা স্বীকৃতিও পেয়েছে।

বর্তমানে কিউডেঙ্গা এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের ৪৩টি দেশে অনুমোদিত। এ পর্যন্ত ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। ব্রাজিলের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে টিকাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সরকারি কর্মসূচিতেও এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

ভারতে ডেঙ্গু এখনো বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। গত দুই দশকে দেশটিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে। বিশ্বে ডেঙ্গুর মোট সংক্রমণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতে ঘটে। তবে গবেষকদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে আরো বেশি হতে পারে।

 

 


 

সিকিমে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণে নিহত ৭

অনলাইন ডেস্ক
সিকিমে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণে নিহত ৭
সংগৃহীত ছবি

ভারতের সিকিমের নামচি জেলায় নির্মাণাধীন একটি সুড়ঙ্গে মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণ ও ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর সুড়ঙ্গের ভেতরে মোট ২৫ জন শ্রমিক আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে সাতজনকে উদ্ধার করা হলেও বাকি ১৮ জন এখনো ভেতরে আটকা রয়েছেন। তাদের জীবিত উদ্ধার করতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।

জেলা প্রশাসন সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আটকে পড়া শ্রমিকদের মধ্যে জাতীয় জলবিদ্যুৎ শক্তি করপোরেশনের (এনএইচপিসি) কর্মীরাও রয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে নামচি জেলার এনএইচপিসির তিস্তা ষষ্ঠ ধাপ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে। ঘটনার পর থেকেই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এনডিআরএফ), রাজ্য দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনী (এসডিআরএফ), জেলা প্রশাসন, পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবা বিভাগসহ একাধিক সংস্থা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, মাটির নিচের শিলাস্তর থেকে বের হওয়া মিথেন গ্যাস সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জমে ছিল। পরে সেই গ্যাস বের করে দেওয়ার চেষ্টা করার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পরই ভূমিধস হয় এবং সুড়ঙ্গের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শ্রমিকদের বের হওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় কয়েকজন শ্রমিক দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকেই সুড়ঙ্গের গভীরে আটকা পড়ে যান। সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার খবর পায়। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। তবে শুরু থেকেই উদ্ধারকাজে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়। সুড়ঙ্গের ভেতরে বিপজ্জনক মাত্রায় মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সেখানে অক্সিজেনের মাত্রা অনেক কমে যায়। ধসের কারণে ভেতরে দৃশ্যমানতাও খুব কম ছিল এবং সুড়ঙ্গের পথ ছিল অত্যন্ত সরু। এসব কারণে উদ্ধারকর্মীদের পক্ষে ভেতরে প্রবেশ করা এবং আটকে পড়া শ্রমিকদের কাছে পৌঁছানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

প্রথমে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। কিন্তু বিষাক্ত গ্যাস এবং অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে তাদের শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। এ সময় কয়েকজন উদ্ধারকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হয়। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একটি দল উদ্ধারকাজ শুরু করলেও একই কারণে তারাও খুব বেশি দূর এগোতে পারেনি। এরপর উদ্ধার অভিযান আরো জোরদার করতে পাশের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্যাস প্রতিরোধী বিশেষ সরঞ্জামসহ একটি বিশেষজ্ঞ দল আনা হয়। পাশাপাশি পাকিয়ং ও শিলিগুড়িভিত্তিক এনডিআরএফের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে আরো কয়েকটি জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছেন।

সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে নামচি জেলা প্রশাসন, এনএইচপিসি, এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সিকিম পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা সারা রাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে গেছে। উদ্ধারকারীরা জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিবেশ এখনো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও আটকে পড়া ১৮ শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।