পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নরিন নিয়াজি দাবি করেছেন, ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পাকিস্তান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির সেনাবাহিনী জনগণের সামনে নিজেদের জয়ী হিসেবে তুলে ধরতে ‘বানানো গল্প’ প্রচার করেছে। তার এই মন্তব্যকে ঘিরে পাকিস্তানে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- নরিন নিয়াজি দাবি করেছেন চার দিনব্যাপী ভারত-পাকিস্তান সংঘাত বাস্তবে তেমন ছিল না, যেমনটি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল ভারতের একটি সফল সামরিক অভিযান এবং পাকিস্তানের সেনাবাহিনী নিজেদের ব্যর্থতা ও ক্ষয়ক্ষতি আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
তার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) তাকে তলব করে। সংস্থাটির পাঠানো নোটিশে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও আপত্তিকর’ তথ্য প্রচার করে তিনি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরস্ত্র মানুষ নিহত হন। ভারত এই হামলার জন্য লস্কর-ই-তৈয়বার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-কে দায়ী করে।
এর জবাবে ৭ মে ভোরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করে। ভারতের দাবি, ওই অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের সামরিক সংঘাত শুরু হয়। ভারত দাবি করে, পাকিস্তানের হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি পাল্টা অভিযানে দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও ভারতের এসব দাবির অনেকগুলো অস্বীকার করে এবং নিজেদের সফলতার দাবি জানায়। পরে উভয় পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয়।
এদিকে, ২০২৩ সাল থেকে কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ১৯০ মিলিয়ন পাউন্ড দুর্নীতি মামলায় তাকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার স্ত্রী বুশরা বিবিকেও সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৩ সালের সহিংস বিক্ষোভের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলার বিচারও চলমান রয়েছে।




