• ই-পেপার

বালেন্দ্র শাহকে ‘নেপালি হিটলার’ আখ্যা দিলেন জেএসপি সদস্য

ইরানে নতুন দফায় মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—‘ঠিকভাবে চলুন’

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে নতুন দফায় মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—‘ঠিকভাবে চলুন’
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো এক দফা সামরিক হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ঠিকভাবে চলুন’।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবার চালু করা মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তারা বাহরাইন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও, টানা পঞ্চম দিনের মতো নতুন সংঘর্ষ চলতে থাকায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যদি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা থেকে কোনো বাস্তব লাভ না হয়, তাহলে সেটি মেনে চলার ‘কোনো কারণ’ তেহরানের নেই। তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াও ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত ইরানের জন্য ‘অস্তিত্বের লড়াই’। 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরান যদি আবার আলোচনায় না ফেরে, তাহলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। বুধবার রাতে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, এমন হামলার আগে তিনি ইরানকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না। তবে তারা মোটামুটি পুরো বিষয়টিই জানে। তাদের ঠিকভাবে চলতে হবে।’ পরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন কঠিন চাপে রয়েছে। তার দাবি, ‘তারা খুবই মরিয়া হয়ে সমঝোতা করতে চায়। আমরা যা করছি, তা তাদের ভালো লাগছে না। আমরা দেখব যে আমরা তাদের সাথে মীমাংসা করব, নাকি ব্যাপারটা এখানেই শেষ করে দেব।’  তবে এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার বদলে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বড় আকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করতে চান।

এদিকে গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দিনের বেলায় এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় দফার হামলা। তাদের দাবি, দিনের শুরুতে চালানো হামলায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরো দুর্বল করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় সেন্টকম জানায়, দ্বিতীয় দফার হামলাও শেষ হয়েছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলায় ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসও ছিল। এ ছাড়া সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবার অবরোধ চালু করার পর থেকে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এই অবরোধের কারণে বর্তমানে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় কোনো জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে না বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানো। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে বিরোধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অবরোধ চালু করার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহিনীটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করে—এমন তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে কোন কোন পথ বন্ধ করা হতে পারে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কতটা বেশি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
 

পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য নিহত, আহত ৩৪

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য নিহত, আহত ৩৪

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে পৃথক দুটি সন্ত্রাসী হামলায় অন্তত তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩৪ জন।

বুধবার (১৫ জুলাই) সংঘটিত এসব হামলায় একটি পুলিশ কনভয় ও একটি পুলিশ স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

পুলিশ জানায়, লোয়ার দির জেলার হায়দার এলাকার লাদাম টপের কাছে একটি পুলিশ কনভয় যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা প্রথমে হ্যান্ড গ্রেনেড ছোড়ে এবং পরে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরো ১৯ জন আহত হন।

হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরো বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে, একই প্রদেশের বান্নু জেলার মিরিয়ান পুলিশ স্টেশনেও আত্মঘাতী হামলার চেষ্টা চালায় সন্ত্রাসীরা। নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরকবোঝাই একটি যানবাহন লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই গুলি চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দেয়।

পরে বন্দুকযুদ্ধে চার হামলাকারী নিহত হয়। এ ঘটনায় ১৫ পুলিশ সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য পেশোয়ারে পাঠানো হয়েছে।

বান্নু জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন (অব.) মুহাম্মদ ফুরকান বিলাল হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং হতাহতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা বিস্ফোরকবোঝাই গাড়িটি পুলিশ স্টেশনের ভেতরে ঢুকিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। তবে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দ্রুত প্রতিরোধে সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে হামলাকারীরা পুলিশ স্টেশনে প্রবেশের চেষ্টা করলেও তাদের প্রতিহত করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হতাহত, ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য তথ্য যাচাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বান্নুর ডোমেল পুলিশ স্টেশনে এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত পাঁচ বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং একজন পুলিশ সদস্যসহ আরো ১৩ জন আহত হয়েছিলেন।

সূত্র : দ্য হিন্দু

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের ভুলে ভরা গল্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের ভুলে ভরা গল্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পারিষদরা গত কয়েক মাসে এমন অনেক কথা বলেছেন, যা পরে তাদের গিলতে হয়েছে। তারা চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন সব ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছেন, পরে যার কিছুই মেলেনি। বরং তাদের আত্মবিশ্বাস চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। নিজেদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই, এমন উদাহরণও কম নয়। অনেক সময় নিজেদের কথাই তাদের হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্প নিজে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, সেখানে আসলে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তাঁর নিজেরই কোনো ধারণা বা বোঝাপড়া নেই। মার্কিন বাতা সংস্থা সিএনএন এক বিশ্লেষণে গত সাড়ে চার মাসে মার্কিন হম্বিতম্বির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক তুলে ধরেছে।

গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শিগ্‌গিরই হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে এর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ হারে ফি ধার্য করবে।’ অথচ গত মে মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ‘আমরা সবসময়ই বলে এসেছি যে এই প্রণালিতে কোনো টোল ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এটা শুধু আমরাই বলছি না, পুরো বিশ্বই বলছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ হবে।’ বৈধতার প্রশ্ন পরে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবসম্মতও নয়। কারণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে, যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। ধারণাটি যে বাস্তব নয়, তা প্রমাণ করেছেন ট্রাম্প নিজেই। একদিনের মধ্যেই ট্রাম্প নিজের ঘোষণা থেকে সরে আসেন।

শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল যুদ্ধ ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ স্থায়ী হবে। দুইমাস পর ১ মে তিনি বলেছিলেন, এ যুদ্ধ খুব দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। বাস্তবতা হলো সাড়ে ৪ মাস পরও যুদ্ধ শেষের কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

গত মাসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা ইরানের নেতাদের সম্পর্কে ভালো ভালো অনেক কথা বলেছিলেন। যেন হঠাৎ করেই তারা ভালো হয়ে গেছেন। ১৬ জুন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা এমন লোকদের সঙ্গে আলোচনা করছি যাদেরকে আমার খুব যৌক্তিক মানুষ মনে হয়। তারা আলোচনার জন্য বেশ ভালো এবং উগ্রপন্থি নন।’ ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাডি ভ্যান্সও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানের নেতাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তবে তাদের এ কথা গিলে নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প এখন ইরানের নেতাদের ‘পাগল’, ‘দুষ্ট’, ‘অসুস্থ’, ‘নোংরা খেলোয়াড়’, ‘নিকৃষ্ট’ বলে অভিহিত করছেন। এখন মানুষ কোনটাকে সত্য বলে মেনে নেবে। ইরানি নেতারা কি আসলে যৌক্তিক না কি পাগল?

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, তারা হামলা চালানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জনগণ মাঠে নেমে এসে শাসনব্যবস্থা বদলে দেবে। যুদ্ধের শুরুর ঘোষণায় ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আমি সেই সমস্ত ইরানি দেশপ্রেমিকদের আহ্বান জানাচ্ছি যারা স্বাধীনতার জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন, তারা যেন এই মুহূর্তটিকে আঁকড়ে ধরেন। সাহসী হন, নির্ভীক হন, বীরত্ব দেখান এবং আপনাদের দেশ ফিরিয়ে নিন। আমেরিকা আপনাদের পাশে আছে। আমি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করেছি। বাকিটা আপনাদের ওপর নির্ভর করছে, তবে আমরা সেখানে সাহায্য করার জন্য থাকব।’ কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। বরং মার্কিন হামলা ইরানের শাসক ও জনগণকে আরো ঐক্যবদ্ধ করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন হামলার প্রথম দিনেই নিহত ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ যাত্রায় উল্টো আমেরিকার বিরুদ্ধে গণজাগরণ হয়েছে। শুরুতে ট্রাম্প যে গণজাগরণের ডাক দিয়েছিলেন, এখন তিনি নিজেই সেটা ভুলে যেতে চান। এখন ট্রাম্প উল্টো বলছেন, ‘তাদের (ইরানি জনগণ) সম্পূর্ণ সশস্ত্র না করা পর্যন্ত আমি কখনই ভাবিনি যে তারা এই ধরনের অভ্যুত্থান ঘটাতে পারবে, কারণ তাদের তথাকথিত নেতৃত্ব অত্যন্ত সহিংস।’

ইরান যখন হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করলো, তখন শুরুতে মার্কিন প্রশাসন পাত্তাই দেয়নি। তারা এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যে এটি কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ১৩ মার্চ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ‘এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’ এর আগে, ৯ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এই প্রণালিটি আমাদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ আমাদের প্রচুর তেল রয়েছে।’ ট্রাম্প আরো বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদই থাকবে। কিন্তু তার কোনো ধারণাই সত্য হয়নি। হরমুজ প্রণালিটি নিরাপদ থাকেনি। বাস্তবতা হলো ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে, যার প্রভাব পড়েছে মাকিন অর্থনীতিতেও।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছিল জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে এবং হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকা তাতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। গত ৮ মার্চ মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছিলেন, ‘খুব বেশি সময় লাগার আগেই জ্বালানি তেলের দাম আবার প্রতি গ্যালন ৩ ডলারের নিচে নেমে আসবে।’ ঠিক কখন কমবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাইট বলেছিলেন, পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হলেও কয়েক মাসের পরিবর্তে মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। বাস্তবে পরিস্থিতি রাইটের বলা সবচেয়ে খারাপ ধারণার চেয়েও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও গ্যাসের দাম এখনো ৩ ডলারের নিচে নামেনি। জ্বালানি তেলের জাতীয় গড় মূল্য এখনো ৩.৭০ ডলারের ওপরে। বরং নতুন করে সংঘাত শুরুর পর দাম জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ছে। এতে বোঝা যায় বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের দামের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রভাব সম্পর্কে মাকিন প্রশাসনের পরিষ্কার কোনো ধারণাই নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাসে বারবার দাবি করছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির করার জর‌্য বেপরোয়া, মরিয়া; তারা নাকি চুক্তির জন্য মিনতি করছিলেন। ট্রাম্প বারবারই বলতেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হাতের নাগালে। কিন্তু গত তিনমাসর ঘটনাপ্রবাহ যারা দেখেছেন, তারা জানেন ট্রাম্পের এই দাবি কতটা অসার। বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই চুক্তির জন্য মরিয়া মনে হয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা হলো গত মাসে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তা ইরানের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক ছিল।

যুদ্ধের শুরুর দিনগুলো থেকেই ট্রাম্প এবং হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ইরানের পরাজয় সুনিশ্চিত, তাই তারা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই যেখানে খুশি সেখানে উড়ে যেতে পারবেন। ৪ মার্চের এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ দাবি করেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের আকাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবে। এবং ইরান এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না’। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পও বলেন, ‘ইরান এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না। কারণ তাদের কোনো বিমান বিধ্বংসী সরঞ্জাম নেই। তাদের রাডার ব্যবস্থা শতভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক শক্তি হিসেবে আমরা অপরাজেয়।’ কিন্তু এপ্রিলের শুরুর দিকেই ইরান দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করে ট্রাম্প আর হেগসেথের বাগাড়ম্বর চোখে আঙুল দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ আসলে আমেরিকার জন্য এক ভুলে ভরা গল্প।

যেভাবে গুপ্তচরদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হয়ে উঠল জাপান

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে গুপ্তচরদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হয়ে উঠল জাপান
ছবি : রয়টার্স

বিদেশি গুপ্তচরদের জন্য বরাবরই নিরাপদ জাপান। দেশটিতে বহু ক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তিকে এখনো অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এই সুযোগে জাপান গুপ্তচরদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটি এখন নিজেদের ইন্টেলিজেন্স ও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর নিত্যনতুন সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে রুশ গুপ্তচরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে জাপান। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে দেশটির সরকার।

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জাপানকে একটি ‘সহজ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করা হলে তাদের অনেকেই জাপানে সক্রিয় হতে শুরু করেন।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই বিজনেস ২০২২ সালের আগস্টে জানায়, জাপানে প্রায় ১২০ জন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সক্রিয় ছিলেন। এর আগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সতর্ক করে জাপানি পুলিশ বলেছিল, রুশ গোয়েন্দারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

নিক্কেই ও জিজি প্রেসের সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী মতে, টোকিওতে রাশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের একটি জ্যেষ্ঠ পদে সব সময়ই রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের একজন কর্মকর্তা থাকেন। এসভিআর সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থার ফরেন ডিপার্টমেন্টের উত্তরসূরি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো জানায়, একটি জাপানি মেশিন-টুল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী একটি সন্দেহভাজন এসভিআর অপারেটিভের কাছে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য সরবরাহ করছিলেন। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইতোমধ্যে জাপান ছেড়ে চলে গেছেন।

এরপর ১২ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আখড়া’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন বিমানসংস্থা অ্যারোফ্লটের টোকিও অফিসকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তি সংগ্রহের একটি রুশ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল।

গত সোমবার জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরিসহ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা বিদেশি গোয়েন্দা কার্যক্রম মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।’