যুক্তরাজ্যের সাবেক সরকারি মন্ত্রী এবং ব্রেক্সিট প্রচারের অন্যতম পরিচিত মুখ অ্যান উইডেকম্বকে হত্যার অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে আছেন।
শুক্রবার ডেভন ও কর্নওয়াল পুলিশের কর্মকর্তা ম্যাট লংম্যান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে এখন পর্যন্ত সন্ত্রাসী হামলা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। তদন্ত চলছে এবং পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কাজ করছে। এর আগে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরের দিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডে অ্যান উইডেকম্বের বাড়িতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ৭৮ বছর বয়সী উইডেকম্বকে গুরুতর আঘাতসহ মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এরপরই হত্যা মামলা তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ জানায়, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ সময় বাড়িটিতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও পরীক্ষা করেন।
অ্যান উইডেকম্ব ১৯৮৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের সংসদ সদস্য ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন মেজরের সরকারের বিভিন্ন সময়ে তিনি জুনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টিতে যোগ দেন। ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ছিলেন। এরপর ব্রেক্সিট পার্টির নতুন নাম 'রিফর্ম ইউকে' হলে তিনি দলটির অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। উইডেকম্ব দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সামাজিকভাবে রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি গর্ভপাতের বিরোধিতা করতেন। সমকামী ও ভিন্নলিঙ্গের মানুষের জন্য যৌন সম্পর্কের বৈধ সম্মতির বয়স সমান করারও বিরোধিতা করেছিলেন। এছাড়া সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় গর্ভবতী বন্দিদের শিকল পরিয়ে রাখার নীতির পক্ষেও তিনি মত দিয়েছিলেন। সংসদ থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০১০ সালে তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং’-এ অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি নতুন করে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিতি পান।
উইডেকম্বের মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি বলেন, অ্যান উইডেকম্ব দীর্ঘ সময় দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তার মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি। তিনি উইডেকম্বের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে, সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা লেবার পার্টির রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহামের পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়েছে। তার একজন মুখপাত্র বলেন, এই কঠিন সময়ে তাঁদের চিন্তা ও সমবেদনা অ্যান উইডেকম্বের পরিবারের সঙ্গে রয়েছে। উইডেকম্বের মৃত্যুর খবর প্রকাশের পর হত্যা তদন্তের বিস্তারিত তথ্য সামনে আসার আগেই কনজারভেটিভ ও রিফর্ম ইউকের অনেক সাবেক সহকর্মী তাকে শ্রদ্ধা জানান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অ্যান উইডেকম্বকে ব্রেক্সিটের একজন সাহসী সমর্থক এবং অসাধারণ বক্তা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, উইডেকম্ব এমনভাবে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করতে পারতেন যে তার পরে বক্তব্য দেওয়া অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে যেত।
উল্লেখ্য, গত এক দশকে দায়িত্বে থাকা দুইজন ব্রিটিশ সংসদ সদস্য হত্যার শিকার হয়েছেন। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট প্রচারের সময় লেবার পার্টির এমপি জো কক্সকে নাৎসি মতাদর্শে প্রভাবিত এক ব্যক্তি গুলি ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। এরপর ২০২১ সালে কনজারভেটিভ দলের এমপি ডেভিড অ্যামেসকে আইএস-অনুপ্রাণিত এক ব্যক্তি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে।





