• ই-পেপার

ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য প্রত্যাখান করলেন ট্রাম্প

ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে ট্রাম্প মিডিয়ার মামলা খারিজ

অনলাইন ডেস্ক
ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে ট্রাম্প মিডিয়ার মামলা খারিজ
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংবাদ সংস্থা দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির আদালত। মানহানির অভিযোগে ৩.৮ বিলিয়ন (৩৮০ কোটি) ডলারের মামলাটি করে ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের (টিএমটিজি)।

ওই মামালার রায়ে ফ্লোরিডার টাম্পাভিত্তিক মার্কিন জেলা বিচারক থমাস বারবার বলেন, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ইচ্ছাকৃতভাবে বা সত্যকে উপেক্ষা করে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করেছে—এমনটি প্রমাণ করার মতো পর্যাপ্ত ও সুস্পষ্ট প্রমাণ ট্রাম্প মিডিয়া উপস্থাপন করতে পারেনি। ফলে আদালত ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষে সারসংক্ষেপ রায় দেন এবং ট্রাম্প মিডিয়ার আবেদন নাকচ করেন।

তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত রায় পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানান বিচারক।

এদিকে ২০২৩ সালে দায়ের করা মামলায় ট্রাম্প মিডিয়া অভিযোগ করেছিল, ওয়াশিংটন পোস্ট তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়ে আসছে এবং ২০২৩ সালের ১৩ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।

প্রতিবেদনে ট্রাম্প মিডিয়ার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে অর্থায়ন সংগ্রহের প্রচেষ্টা নিয়ে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের আইনে কোনো জনপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মানহানির মামলা জিততে হলে প্রমাণ করতে হয় যে ‘অ্যাকচুয়াল ম্যালিস’ অর্থাৎ তথ্যটি মিথ্যা জেনেও বা সত্যতা যাচাইয়ে বেপরোয়া অবহেলা করে—সংবাদমাধ্যমটি তা প্রকাশ করেছে।

কিন্তু আদালতের মতে, এই অভিযোগে ট্রাম্প মিডিয়া সেই মানদণ্ড পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

রায়ের পর ওয়াশিংটন পোস্টের এক মুখপাত্র বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে তারা সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে তারা পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প মিডিয়া জানিয়েছে, তারা রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে।

প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, ৩ বছর পর ওয়াশিংটন পোস্ট স্বীকার করেছে যে তাদের প্রতিবেদনের কিছু অংশ ভুল ছিল। তবে আমরা মনে করি, এসব মিথ্যা তথ্য মানহানিকর ছিল কি না, তা জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

উল্লেখ্য, মামলার তদন্ত চলাকালে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের মে মাসে ওয়াশিংটন পোস্ট ২০২৩ সালের ওই প্রতিবেদনের একটি সংশোধনী প্রকাশ করে।

সেখানে বলা হয়, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল ট্রাম্প মিডিয়া ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার ঋণ-রেফারেল ফি পরিশোধ করেছিল, কিন্তু পরবর্তী তদন্তে দেখা যায়, তথ্যটি সঠিক ছিল না।

তবে পত্রিকাটি দাবি করে, প্রকাশের সময়কার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ট্রাম্প মিডিয়া মূলত ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে। যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থকদের মধ্যে জনপ্রিয় হলেও আর্থিকভাবে এখনো লোকসানে রয়েছে। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল ১০ লাখ ডলারেরও কম।

এর আগে ট্রাম্প মিডিয়া দ্য গার্ডিয়ানের বিরুদ্ধেও একটি মানহানির মামলা করেছিল। তবে গত নভেম্বরে সেটিও আদালত খারিজ করে দেন।

পরে সংশোধিত অভিযোগ দাখিল করা হলেও চলতি বছরের এপ্রিলে প্রতিষ্ঠানটি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়।

চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে ২১ বনকর্মীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে ২১ বনকর্মীর মৃত্যু
ছবি : সিহুয়া।

উত্তর-পশ্চিম চীনের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে ২১ জন বনকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরো ১২ জন প্রাণে বেঁচে গেছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন।

ভূমিধসটি ঘটেছে চীনের গানসু প্রদেশের তানচাং কাউন্টির একটি জনবসতিহীন পাহাড়ি এলাকায়। এটি প্রাদেশিক রাজধানী ল্যাংজো থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বনভূমি পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যাওয়ার পথে শ্রমিকদের দলটি ভূমিধসের কবলে পড়ে। সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে নিচে নেমে এসেছে। ধসে পড়া মাটির অংশ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের এলাকাটি প্রায় ৪০ মিটার চওড়া ছিল এবং প্রায় পাঁচ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে। ধ্বংসস্তূপের গভীরতা ছিল ৮ থেকে ১০ মিটার। উদ্ধারকাজে খননযন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়। 

লংনান শহরের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ইয়াং ইয়াওশিয়ান জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, খাড়া পাহাড়ি ঢাল, মাটির ক্ষয় এবং এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে এই ভূমিধস ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, ধসে পড়া মাটি ও পাথর এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ফলে একই এলাকায় আবারও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

কারাগারে বসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন লরেন্স বিষ্ণোই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কারাগারে বসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন লরেন্স বিষ্ণোই
ছবি : রয়টার্স

নিশ্চয়ই বলিউডে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জীবন নিয়ে সিনেমা বানানো হবে। চিত্রনাট্যকারকে অবশ্য খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জীবন অনুসরণ করলেই হবে, আলাদা কোনো মাসালা লাগবে না। সিনেমার মতো নয়, কখনো কখনো সিনেমার চেয়েও উত্তেজনাকর লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জীবন। তবে অন্য সব অপরাধীদের মতো বিষ্ণোইয়ের অপরাধী হওয়ার পেছনে দারিদ্র্য বা প্রতিশোধপরায়ণতার কোনো গল্প নেই। কিছু একটা হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা, অপরাধ জগতের ‘গ্ল্যামার’ই তাকে টেনে এনেছে অন্ধকার এই জগতে।

পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের একটি গ্রামে জন্ম নেওয়া লরেন্স ছাত্রজীবনেই অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়েন। পাঞ্জাব থেকে ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান লরেন্স। শুধু ভারত নয়; যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপেও রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিশাল নেটওয়ার্ক। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টারের তকমা পেয়েছেন লরেন্স। কানাডায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন তার ছাত্রজীবনের সহযোগী গোল্ডি ব্রার, আর ইউরোপের নেতৃত্ব রোহিত গোদারারের হাতে।

মজার ব্যাপার হলো, ২০১৫ সাল থেকেই বন্দি থাকা লরেন্স কারাগারে বসেই তার আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক চোরাচালানের ৩০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ও ভারতের বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এক সমন্বিত যৌথ অভিযান লরেন্স বিষ্ণোইকে নতুন করে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এনেছে। ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে এই যৌথ অভিযানে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এ অভিযানে এক হাজার কেজি কোকেন ও হিরোইন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ডজনখানেক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় আসেন লরেন্স বিষ্ণোই। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়' সিনেমার শুটিং চলাকালে সালমান খানের বিরুদ্ধে দুটি ‘কৃষ্ণসার হরিণ’ শিকারের অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষাকে তাদের পরম ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করে। তারা ‘কৃষ্ণসার হরিণ’কে অত্যন্ত পবিত্র জ্ঞান করে এবং তাদের আধ্যাত্মিক নেতা গুরু জাম্বেশ্বরের পুনর্জন্ম হিসেবে বিশ্বাস করে। তাই হরিণ হত্যার এই ঘটনা পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায়কে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে। তাদের দায়ের করা মামলায় ২০১৮ সালে যোধপুর আদালত সালমান খানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হরিণ শিকারের ঘটনার সময় লরেন্স নিতান্তই শিশু ছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি তার মনে গভীর রেখাপাত করে। ২০১৮ সালে যোধপুর আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স প্রকাশ্যে প্রথমবার ঘোষণা দেন, ‘আমরা যোধপুরেই সালমান খানকে হত্যা করব। তখন তিনি বুঝবেন আমরা কারা।’

তবে হুমকি দিয়ে বসে থাকেননি লরেন্স বিষ্ণোই। এরপর ধারাবাহিক হুমকি সালমান পরিবারকে শঙ্কিত করে তোলে। ২০২২ সালে সালমানের বাবা সেলিম খান প্রাতঃভ্রমণের সময় একটি চিরকুট পান, যাতে বাবা-ছেলেকে হত্যার হুমকি ছিল। ২০২৩ সালেও গোল্ডি ব্রারের পক্ষ থেকে সালমানকে হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভোর ৫টায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় সালমানের বিলাসবহুল ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বাইরে মোটরবাইকে চড়ে আসা দুই শ্যুটার ভবনের দেয়াল ও সালমানের বারান্দা লক্ষ্য করে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনার সময় সালমান খান এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরেই ঘুমাচ্ছিলেন, তবে সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আনমোল বিষ্ণোই ফেসবুকে এই হামলার দায় স্বীকার করে এটিকে সালমান খানের জন্য ‘শেষ সতর্কতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। পরে পুলিশ দুই শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করে।

তারা জানায়, কারাগার থেকে লরেন্স বিষ্ণোই নিজেই তাদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সালমান খানকে হত্যা করতে না পারলেও ২০২৪ সালেই তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকীকে হত্যা করে লরেন্স গ্যাং।
 
১৯৯৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের একটা সচ্ছল পরিবারে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জন্ম। ১০০ একরেরও বেশি জমি দ্বারা বেষ্টিত প্রশস্ত বাংলোতে বাস করে বিষ্ণোই পরিবার। লরেন্সের বাবা পুলিশে চাকরি করতেন। তবে পারিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করতে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। প্রাচুর্যে মোড়া ছিল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছেলেবেলা। স্থানীয় এক কনভেন্ট স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু হয়। ২০০৮ সালে স্কুল শেষ করার পর চণ্ডীগড়ের একটা কলেজে ভর্তি হন তিনি। ২০১১ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন লরেন্স। সেখানে যোগ দেন ছাত্র রাজনীতিকে। একবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরই অপরাধ জগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ার সময়ই লরেন্স বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

২০১৫ সাল থেকে কারাগার থাকলেও লরেন্সের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুস ওয়ালাকে হত্যা, ২০২৩ সালে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা, ২০২৪ সালে রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি করাগারে থেকে তিনি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। ২০২২ সালে গুজরাটের উপকূলে জখৌ বন্দরের কাছে একটি পাকিস্তানি নৌকা থেকে প্রায় ১৯৪ কোটি রুপি মূল্যের ৪০ কেজি হেরোইন জব্দের মামলায়ও আসামি করা হয় কারাবন্দি লরেন্সকে। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই ২০২৩ সালে তিহার জেল থেকে লরেন্সকে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানকার একটি হাই সিকিউরিটি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে তাকে। তার বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মামলা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর বা বা সরাসরি আদালতে তোলা হয় না।

সিনেমায় সালমান খান যেমন স্টাইলের জন্য জনপ্রিয়, বাস্তবে লরেন্সও তেমনি স্টাইলিস্ট। পরিপাটি করে ছাঁটা দাড়ি, হুডি দিয়ে প্রায় ঢাকা তার দুই সতর্ক চোখ তাকে অপরাধ জগতে অন্য স্টাইল দিয়েছে।

সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশু হতাহত, ড্রোন হামলায় বাড়ছে প্রাণহানি

অনলাইন ডেস্ক
সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশু হতাহত, ড্রোন হামলায় বাড়ছে প্রাণহানি
সংগৃহীত ছবি

গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত সুদানে গত ছয় মাসে অন্তত ৩০০ শিশু নিহত বা আহত হয়েছে। এসব শিশুর বেশির ভাগই ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে এবং শিশুদের জীবন ক্রমেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

ইউনিসেফ জানিয়েছে, সুদানে চলমান সংঘাতে শিশুদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। সংস্থাটি যুদ্ধরত সব পক্ষের প্রতি শিশু ও অন্যান্য বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।  ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত চলছে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। একই সময়ে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এছাড়া ৩ কোটির বেশি মানুষ এখন জরুরি মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে উত্তর করদোফান, দক্ষিণ করদোফান, দারফুর এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশের পেছনে ড্রোন হামলা দায়ী। এসব হামলায় স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পানি সরবরাহ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে অন্তত পাঁচ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এদিকে উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদকে ঘিরে সম্ভাব্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ একটি প্রস্তাব পাস করে আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের স্বাগতিক দেশগুলোকে আরো সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রস্তাবে সুদানের সংঘাতে সব ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধেরও আহ্বান জানানো হয়। ইউনিসেফের সুদান প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, দেশটির শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার এক কঠিন বাস্তবতার মধ্যে রয়েছে। তিনি যুদ্ধরত সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষার পাশাপাশি বাধাহীনভাবে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এদিকে পৃথক এক ঘটনায়, সুদানের মিসর সীমান্তের কাছে ওয়াদি হালফা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত স্বর্ণখনির অংশ ধসে অন্তত ১৫ জন অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো একজন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খনিটি আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু শ্রমিক সেখানে আবার খননকাজ শুরু করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।