• ই-পেপার

সুদানে ছয় মাসে ৩০০ শিশু হতাহত, ড্রোন হামলায় বাড়ছে প্রাণহানি

চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে ২১ বনকর্মীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
চীনে ভয়াবহ ভূমিধসে ২১ বনকর্মীর মৃত্যু
ছবি : সিহুয়া।

উত্তর-পশ্চিম চীনের একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসে ২১ জন বনকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরো ১২ জন প্রাণে বেঁচে গেছেন। তাদের মধ্যে সাতজন সামান্য আহত হয়েছেন।

ভূমিধসটি ঘটেছে চীনের গানসু প্রদেশের তানচাং কাউন্টির একটি জনবসতিহীন পাহাড়ি এলাকায়। এটি প্রাদেশিক রাজধানী ল্যাংজো থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত।

মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বনভূমি পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে যাওয়ার পথে শ্রমিকদের দলটি ভূমিধসের কবলে পড়ে। সিসিটিভিতে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে নিচে নেমে এসেছে। ধসে পড়া মাটির অংশ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিধসের এলাকাটি প্রায় ৪০ মিটার চওড়া ছিল এবং প্রায় পাঁচ হাজার ৪০০ বর্গমিটার এলাকা মাটি ও পাথরের নিচে চাপা পড়ে। ধ্বংসস্তূপের গভীরতা ছিল ৮ থেকে ১০ মিটার। উদ্ধারকাজে খননযন্ত্র ব্যবহার করে ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়। 

লংনান শহরের প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ইয়াং ইয়াওশিয়ান জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, খাড়া পাহাড়ি ঢাল, মাটির ক্ষয় এবং এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে এই ভূমিধস ঘটেছে। তিনি আরো বলেন, ধসে পড়া মাটি ও পাথর এখনো অস্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। ফলে একই এলাকায় আবারও ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

কারাগারে বসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন লরেন্স বিষ্ণোই

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কারাগারে বসেই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন লরেন্স বিষ্ণোই
ছবি : রয়টার্স

নিশ্চয়ই বলিউডে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জীবন নিয়ে সিনেমা বানানো হবে। চিত্রনাট্যকারকে অবশ্য খুব বেশি কষ্ট করতে হবে না। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জীবন অনুসরণ করলেই হবে, আলাদা কোনো মাসালা লাগবে না। সিনেমার মতো নয়, কখনো কখনো সিনেমার চেয়েও উত্তেজনাকর লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জীবন। তবে অন্য সব অপরাধীদের মতো বিষ্ণোইয়ের অপরাধী হওয়ার পেছনে দারিদ্র্য বা প্রতিশোধপরায়ণতার কোনো গল্প নেই। কিছু একটা হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষা, অপরাধ জগতের ‘গ্ল্যামার’ই তাকে টেনে এনেছে অন্ধকার এই জগতে।

পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের একটি গ্রামে জন্ম নেওয়া লরেন্স ছাত্রজীবনেই অপরাধ চক্রে জড়িয়ে পড়েন। পাঞ্জাব থেকে ধীরে ধীরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নিজের অপরাধ সাম্রাজ্যের বিস্তার ঘটান লরেন্স। শুধু ভারত নয়; যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইউরোপেও রয়েছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের বিশাল নেটওয়ার্ক। মাত্র ৩৩ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক গ্যাংস্টারের তকমা পেয়েছেন লরেন্স। কানাডায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন তার ছাত্রজীবনের সহযোগী গোল্ডি ব্রার, আর ইউরোপের নেতৃত্ব রোহিত গোদারারের হাতে।

মজার ব্যাপার হলো, ২০১৫ সাল থেকেই বন্দি থাকা লরেন্স কারাগারে বসেই তার আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের নেতৃত্ব দেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক চোরাচালানের ৩০টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন।

লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ও ভারতের বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের এক সমন্বিত যৌথ অভিযান লরেন্স বিষ্ণোইকে নতুন করে আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচনায় এনেছে। ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে এই যৌথ অভিযানে ৫০টিরও বেশি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এ অভিযানে এক হাজার কেজি কোকেন ও হিরোইন, বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ এবং ডজনখানেক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়ে প্রথম জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনায় আসেন লরেন্স বিষ্ণোই। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানের যোধপুরে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়' সিনেমার শুটিং চলাকালে সালমান খানের বিরুদ্ধে দুটি ‘কৃষ্ণসার হরিণ’ শিকারের অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের মানুষ প্রকৃতি এবং বন্যপ্রাণী রক্ষাকে তাদের পরম ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করে। তারা ‘কৃষ্ণসার হরিণ’কে অত্যন্ত পবিত্র জ্ঞান করে এবং তাদের আধ্যাত্মিক নেতা গুরু জাম্বেশ্বরের পুনর্জন্ম হিসেবে বিশ্বাস করে। তাই হরিণ হত্যার এই ঘটনা পুরো বিষ্ণোই সম্প্রদায়কে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করে। তাদের দায়ের করা মামলায় ২০১৮ সালে যোধপুর আদালত সালমান খানকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্তি পান। হরিণ শিকারের ঘটনার সময় লরেন্স নিতান্তই শিশু ছিলেন। কিন্তু ঘটনাটি তার মনে গভীর রেখাপাত করে। ২০১৮ সালে যোধপুর আদালতে হাজিরার সময় লরেন্স প্রকাশ্যে প্রথমবার ঘোষণা দেন, ‘আমরা যোধপুরেই সালমান খানকে হত্যা করব। তখন তিনি বুঝবেন আমরা কারা।’

তবে হুমকি দিয়ে বসে থাকেননি লরেন্স বিষ্ণোই। এরপর ধারাবাহিক হুমকি সালমান পরিবারকে শঙ্কিত করে তোলে। ২০২২ সালে সালমানের বাবা সেলিম খান প্রাতঃভ্রমণের সময় একটি চিরকুট পান, যাতে বাবা-ছেলেকে হত্যার হুমকি ছিল। ২০২৩ সালেও গোল্ডি ব্রারের পক্ষ থেকে সালমানকে হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ভোর ৫টায় মুম্বাইয়ের বান্দ্রা এলাকায় সালমানের বিলাসবহুল ‘গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট’-এর বাইরে মোটরবাইকে চড়ে আসা দুই শ্যুটার ভবনের দেয়াল ও সালমানের বারান্দা লক্ষ্য করে অন্তত ৫ রাউন্ড গুলি চালায়। ঘটনার সময় সালমান খান এবং তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরেই ঘুমাচ্ছিলেন, তবে সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আনমোল বিষ্ণোই ফেসবুকে এই হামলার দায় স্বীকার করে এটিকে সালমান খানের জন্য ‘শেষ সতর্কতা’ হিসেবে অভিহিত করেন। পরে পুলিশ দুই শ্যুটারকে গ্রেপ্তার করে।

তারা জানায়, কারাগার থেকে লরেন্স বিষ্ণোই নিজেই তাদের গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সালমান খানকে হত্যা করতে না পারলেও ২০২৪ সালেই তার ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকীকে হত্যা করে লরেন্স গ্যাং।
 
১৯৯৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের একটা সচ্ছল পরিবারে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের জন্ম। ১০০ একরেরও বেশি জমি দ্বারা বেষ্টিত প্রশস্ত বাংলোতে বাস করে বিষ্ণোই পরিবার। লরেন্সের বাবা পুলিশে চাকরি করতেন। তবে পারিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করতে পুলিশের চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। প্রাচুর্যে মোড়া ছিল লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ছেলেবেলা। স্থানীয় এক কনভেন্ট স্কুলে তার পড়াশোনা শুরু হয়। ২০০৮ সালে স্কুল শেষ করার পর চণ্ডীগড়ের একটা কলেজে ভর্তি হন তিনি। ২০১১ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন লরেন্স। সেখানে যোগ দেন ছাত্র রাজনীতিকে। একবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পরই অপরাধ জগতের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়। পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনে পড়ার সময়ই লরেন্স বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।

২০১৫ সাল থেকে কারাগার থাকলেও লরেন্সের বিরুদ্ধে ২০২২ সালে পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুস ওয়ালাকে হত্যা, ২০২৩ সালে কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা, ২০২৪ সালে রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকীকে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি করাগারে থেকে তিনি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন। ২০২২ সালে গুজরাটের উপকূলে জখৌ বন্দরের কাছে একটি পাকিস্তানি নৌকা থেকে প্রায় ১৯৪ কোটি রুপি মূল্যের ৪০ কেজি হেরোইন জব্দের মামলায়ও আসামি করা হয় কারাবন্দি লরেন্সকে। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই ২০২৩ সালে তিহার জেল থেকে লরেন্সকে গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে এখানকার একটি হাই সিকিউরিটি ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে তাকে। তার বিরুদ্ধে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মামলা থাকলেও নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর বা বা সরাসরি আদালতে তোলা হয় না।

সিনেমায় সালমান খান যেমন স্টাইলের জন্য জনপ্রিয়, বাস্তবে লরেন্সও তেমনি স্টাইলিস্ট। পরিপাটি করে ছাঁটা দাড়ি, হুডি দিয়ে প্রায় ঢাকা তার দুই সতর্ক চোখ তাকে অপরাধ জগতে অন্য স্টাইল দিয়েছে।

ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য প্রত্যাখান করলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য প্রত্যাখান করলেন ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রয়টার্স ছবি

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে তিনি সংস্থাটির মহাচিবের বক্তব্য প্রত্যাখান করেছেন বলে জানায় আলজাজিরা

এ সময় ট্রাম্পের পাশে বসা ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে সহায়তা দিতে ইউরোপের বিভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ৫ হাজারেরও বেশি বিমান উড্ডয়ন করেছিল।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের জন্য ইউরোপ কার্যত ‘একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করেছে।

তবে রুটের বক্তব্যের জবাবে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্য তাদের সব সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি।

ন্যাটো মহাসচিবের বক্তব্য প্রত্যাখান করে ট্রাম্প বলেন, একই সঙ্গে যুদ্ধকালীন ঘাঁটি ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে ‘খুবই খারাপ’ ভূমিকা পালন করেছে ইতালি।

পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

অনলাইন ডেস্ক
পাল্টাপাল্টি হামলার পর ট্রাম্প বললেন, যুদ্ধবিরতি শেষ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার বিশ্বাস ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে। ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটা (যুদ্ধবিরতি) শেষ হয়ে গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি ইরানের সঙ্গে আর কোনো সম্পর্ক রাখতে চাই না। দেশটি জঘন্য। তাদের সঙ্গে কাজ করা শুধু সময়ের অপচয়, কারণ তারা মিথ্যা বলে।’ ট্রাম্পের মতে, দুপক্ষের আলোচকরা এখনো আলোচনা চালিয়ে যেতে পারেন, তবে তিনি মনে করেন এসব আলোচনা ফলপ্রসূ হবে না এবং এতে শুধু সময় নষ্ট হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিতে তিনটি ট্যাংকার হামলার শিকার হওয়ার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে কুয়েত ও বাহারাইনে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। 

তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তাদের ‘দুষ্ট লোক’ বলে আখ্যা দেন এবং ইরানের প্রশাসনকে ‘পাগল’ বলেও মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং কুয়েত ও বাহরাইনে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ‘এরা দুষ্ট ও অসুস্থ লোক। এরা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার শুরুতেই থামিয়ে দিতে হয়।’ ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন করে চাপে পড়েছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ‘মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কিছু অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলা, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোকে কার্যত অকার্যকর করে দিয়েছে।’

আরাগচি বলেন, ইরান তার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের দ্বিধা করবে না। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ইরান যেকোনো হামলার উৎস ও উৎপত্তিস্থলকেই লক্ষ্যবস্তু করবে।

এর আগে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পর বাহরাইন ও কুয়েতের ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এরপর বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী যৌথভাবে বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসি আরো দাবি করেছে, কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল। হামলার পর বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজায়। তবে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।