হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব দেশটিকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের’ সমতুল্য ক্ষমতা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন রুশ নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। তিনি বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ক্ষমতা তেহরানের এক বিশাল কৌশলগত বড় অস্ত্র। সম্প্রতি ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেদভেদেভ এই মন্তব্য করেন।
মেদভেদেভ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যদি বৃহত্তর সংঘাত তৈরি হয়, তবে ইরান বাব এল-মানদেব প্রণালি দিয়েও নৌচলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়বে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, পরিস্থিতি এতটা খারাপ হবে না, তবে এই অঞ্চলের সংঘাতকামী সব দেশেরই ইরানের এই ক্ষমতার কথা মনে রাখা উচিত।’
ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার তীব্র সমালোচনা করে মেদভেদেভ একে ‘সম্পূর্ণ বিনা উসকানিতে হামলা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি যুক্তি দেখান, দুই পক্ষের মধ্যে যখন আলোচনা চলছিল, তখন তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি ছিল না। এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় তিন সপ্তাহব্যাপী তীব্র যুদ্ধ চলে। অবশেষে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় একটি মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়।
খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরান সফর করেন মেদভেদেভ। সেখানে তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং মস্কোর পক্ষ থেকে সমবেদনা জানান। বৈঠকে মেদভেদেভ পশ্চিমাদের ‘অবৈধ’ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোকে নিয়ে একটি নতুন প্ল্যাটফরম বা সংস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেন। কয়েক বছর আগে তেহরানের পক্ষ থেকে প্রথম এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া মার্কিন-ইরান সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা ভালো, তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ ও ইরানের পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো জটিল বিষয়গুলোর কারণে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হবে।